মুন্সীগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কারণে ২০ হাজার মানুষের ভোগান্তি

১২০ মিটারের বেইলি সেতু। ক্ষয়ে যাচ্ছে মরচে ধরা প্রায় প্রতিটি পাটাতন ও রেলিং। আর যেকোনো গাড়ি উঠলেই দুলতে থাকে সেতুটি। এমন অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে ছোট গাড়ি পার হলেও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বড় ভারী যানবাহন চলাচল। এ চিত্র মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী ও সিরাজদিখান উপজেলার সংযোগ সড়কের কুণ্ডের বাজার এলাকার বেইলি ব্রিজটির।

জানা গেছে, নব্বইয়ের দশকে টঙ্গীবাড়ী ও সিরাজদিখান উপজেলার সংযোগ সড়কের মধ্যে বয়ে চলা তালতলা-গৌড়গঞ্জ খালের ওপর নির্মিত হয় এই সেতুটি। এটি পার হয়ে টঙ্গীবাড়ী উপজেলার লোকজন রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ ও যাতায়াত করেন। এছাড়া এ উপজেলার মানুষ ঢাকায় ব্যবসা ও চাকরি করার কারণে তাদের কাছে এই বেইলি সেতুটির গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় চলাচল করা দুটি বাস সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। এতে টঙ্গীবাড়ীর-কালীবাড়ী-গুলিস্তান রুট দিয়ে বাসে চলাচলকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

এদিকে ওই পথের যাত্রীরা বিকল্প পথ হিসেবে মুন্সীগঞ্জের কাঠপট্টি-সদরঘাট নৌপথ ব্যবহার করছেন। ফলে আবার মনিংবার্ড লঞ্চ দুর্ঘটনার মতো ভয়াবহ হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেইলি ব্রিজটির রেলিংয়ের ওপর আড়াআড়িভাবে লোহার পাত দিয়ে বড় গাড়ি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে করে ছোট ছোট গাড়ি চলাচল করতে পারলেও পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, ছয় মাস ধরে এ বেইলি সেতুটির ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন ও যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বেশ কয়েকবার কোনোরকম জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হয়েছে রেলিং ও পাটাতন। সেতুর ওপর দিয়ে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকসহ ছোট ছোট গাড়ি চলাচল করছে।

জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বেতকা ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, ‘বেইলি সেতুটি দিয়ে রিকশা ও অটোরিকশা ছাড়া বড় গাড়ি চলছে না। তাই ঢাকার যাত্রীদের কয়েক দফা ভেঙে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে।’

মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকার যাত্রীবাহী বাস এসএস পরিবহনের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম ভূঁইয়া বলেন, ‘বেইলি সেতুটির দুই পাশ লোহার পাত দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার কারণে টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় বাস ঢুকতে পারছে না। অর্ধেক পথেই বাস সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। টঙ্গীবাড়ীতে বাস সার্ভিস বন্ধ থাকার কারণে বাসভাড়াও কমে যাচ্ছে। ফলে ক্ষতির মুখে পড়েছে এ পথে চলাচল করা বাস সার্ভিস কোম্পানি।’

এ প্রসঙ্গে বেতকা ইউপি চেয়ারম্যান আলম শিকদার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির দু’পাশ বন্ধ রেখেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। এ কারণে সিরাজদিখান ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার ২০ হাজার মানুষ দিঘিরপাড়, কালিবাড়ী, বেতকা, সিরাজদিখান ও নিমতলি হয়ে রাজধানীর ঢাকায় যাওয়া-আসা করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় বেশি ব্যয় হচ্ছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা। বিষয়টি উপজেলা ও জেলা প্রশাসন এবং সড়ক বিভাগকে লিখিতভাবেও জানানো হয়েছে। তবে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

শেয়ার বিজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.