মুন্সীগঞ্জে মৎস্য চাষে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষতি, তবুও নেই বরাদ্দ!

মুন্সীগঞ্জে এ বছর ছয় উপজেলার ৪৪টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়েছে। ওই ইউনিয়ন গুলোর ৩১৯টি গ্রামের ৪২ হাজার ৫৮৩টি পরিবার বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চারদিকে উপচে পড়া পানি উঠায় জেলার প্রায় ১ হাজার ৯৭৯টি পুকুরের বিভিন্ন আকারের মাছ রাতারাতি বন্যার পানিতে ভেসে যায়। এতে মৎস্য বিভাগের ক্ষতি হয়েছে ৯ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ক্ষতির বিপরীতে এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনীল মণ্ডল। এ দিকে বন্যায় ৯৮১ জন মৎস্য চাষি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় । মৎস্য চাষিদের সকল পুঁজি বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়ায় চরম হতাশায় দিন পাড় করছেন তারা।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, ছয় উপজেলার ৪৪টি ইউনিয়নে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছিল। চারিদিকে বন্যার পানি উঠায় মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। দ্রুত বেগে বন্যার পানি প্রবেশ করায় ৬৮০ দশমিক ৬০ হেক্টর জমিতে ১ হাজার ৯৭৯টি পুকুর চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পানিতে ভেসে গেছে পুকুরের ৪৩২ দশমিক ২২ মেট্রিকটন বড় আকৃতির মাছ এবং পোনা মাছ ২ কোটি ৬ লাখ ৮৩ হাজার। বন্যায় মাছ ও মাছে পোনার পাশাপাশি অবকাঠামোগত ক্ষতি নিয়ে জেলায় এ বছর মৎস্য বিভাগের ক্ষতি হয়েছে ৯ কোটি ৮৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা।

মৎস্য চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বন্যায় পুকুরগুলোর পাড় ভেঙ্গে যাওয়া জাল এবং টিনের বেড়া দিয়েও রক্ষা করতে পারেনি মাছগুলোকে। প্রবল পানির তোড়ে সব বিলীন হয়ে যায়। সেই সাথে নিভে যায় খামারীর আশার প্রদীপ। পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ৯৮১ জন মৎস্য খামারি। এ সময় পুকুরের অবকাঠামোও প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অধিকাংশ মৎস্য চাষিরা ঋণ করে পুকুরে মৎস্য চাষ শুরু করে আসছিল। আর্থিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ায় খামারীদের পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর দিনযাপন করছেন।

ব্যাংক ঋণের টাকা, এনজিওদের কিস্তি, দোকানের মাছের খাবারের বাকী টাকার পরিশোধ কিভাবে করবে? এত ঋণের বোঝা মাথা নিয়ে দিশেহারা এখন মৎস্য চাষিরা। সরকারি সহযোগিতা না পেলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না। জেলার মৎস্য খামারীরা জানিয়েছেন সরকারে সহজশর্তে ঋণ ও প্রণোদনা দিলে হয়ত আবারো মাছ চাষে ফিরে আসতে পারি। না হলে কোন ভাবেই করা সম্ভব না।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুনীল মণ্ডল দৈনিক অধিকারকে বলেন, ভয়াবহ বন্যায় জেলার ছয় উপজেলায় মৎস্য চাষিদের অনেক লোকসান হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের তালিকা প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট্য অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বরাদ্দ পাওয়া যায়নি । বরাদ্দ পেলে পর্যাক্রমে মৎস্য চাষিদের সহযোগিতা করা হবে। এছাড়া সরকার সহজ কিস্তিতে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে লোনের ব্যবস্থা করেছেন। চাষিদের মনোবল বৃদ্ধিতে আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে।

দৈনিক অধিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.