‘পুরা ব্রিজে খাইলো আমার দেড় হাজার টাকা’

রিয়াদ হোসাইন: সাড়ে ৪ হাজার টাকায় বেতনে চাকরি করে সংসার চালাই। কিন্তু গত আড়াইমাসে পুরা ব্রিজে খাইলো আমার দেড় হাজার টাকা।’ এমনটাই বলছেন আলদী বাজারে একটি হোটেলে কর্মরত শিমান্ত ঘোষ। সে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দিঘীরপাড় এলাকায় মা ও অসুস্থ বাবা এবং দুই বোনকে নিয়ে বসবাস করেন। প্রতিদিন দিঘীপাড় এলাকা থেকে একই উপজেলার আলদী বাজার কর্মস্থলে যাতায়াত করেন। এ সময় তিনি বলেন, পুরা বেইলি সেতু ভাঙার আগে প্রতিমাসে আমার ৯’শ টাকা যাতায়াত খরচ হতো কিন্ত ভেঙে পড়ার পর থেকে তা দেড়গুণ বেড়ে ১৫’শ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। মাঝে মাঝে তো গাড়ির তীব্র সংকট দেখা দেয় এবং সেসময় সুযোগে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক (অটো) চালকরা মনের মতো ভাড়া দাবি করেন।

শিমান্ত ঘোষের মতো এরকম বিড়ম্বনায় রয়েছে মো. রুবেল । তিনি মুন্সীগঞ্জে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তার মাসিক বেতন ৮ হাজার ৭০০ টাকা। এসময় মো. রুবেল বলেন, অফিসে চাকরী নেওয়ার আগে মুন্সীগঞ্জে প্রতিদিন যাতায়াত ভাড়া ৯০ টাকা ধরেছি। এখন সেখানে বাড়তি আরো ৩০ থেকে ৪০ টাকা প্রতিদিন যোগ হচ্ছে। এতে মাস শেষে পকেট ফাঁকা হচ্ছে। পুরা ব্রিজ হিসাব-নিকাশে ব্যাপক পরিবর্তন এনে দিছে। যার প্রভাব আমাদের মতো কর্মজীবী মানুষের উপর পড়ছে। তাই দ্রুত ব্রিজটি কাজ শেষ করা হোক। শুধু শিমান্ত ও রুবেল নয় এরমক সমস্যায় পড়েছেন এই সড়কটি ব্যবহার করা হাজারো মানুষ।

এদিকে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ-দিঘীরপাড় সড়কের পুরা বাজার এলাকায় ভেঙে পড়া বেইলি সেতুটি ধসের আড়াই মাস পাড় হলেও পুনরায় বেইলি সেতু নির্মাণের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এতে করে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সেতুটি ব্যবহার করা কয়েকটি ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষের। গুরুত্বপূর্ণ এ বেইলি সেতুটি নির্মাণে কাজ ধীরগতিতে চলছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এদিকে, আগামী সপ্তাহের মধ্যে বেইলি সেতুটির কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সৈয়দ আলম।

জানাযায়, গত ২জুন গাছের গুঁড়ি বোঝাই একটি লরি পুরা বাজার এলাকার বেইলি সেতুর উপর উঠলে সেতুটি ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। সেতুটি ভেঙে পড়ায় দিঘিরপাড় ও আশপাশের এলাকার সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ পথে যাতায়াতকারী মানুষজন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, খালটি পারাপারে জন্য একটি অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। অস্থায়ীভাবে নির্মিত বাঁশের সাঁকোটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সড়কটি ব্যবহার করা শিশু ও নারী যাত্রীরা।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ সেতুটি খুব সরু ও লক্কর-ঝক্কর ছিলো। সেতু দিয়ে ৫ টনের বেশি যাতায়াতে নিষেধ করা হলেও দিঘীরপাড় বাজারের কাঠ ব্যবসায়ীদের ৩০-৪০ টনের গাছের গুড়ি বহনকারী ট্রাক প্রতিদিন যাতায়াত করতো। পরে ২ জুন সকালের দিকে একটি গাছ ভর্তি লরি ঢাকা হয়ে উপজেলার বেসনাল এলাকার মজিবুর টিম্বার স’মিলে যাচ্ছিলো। অতিরিক্ত মাল বোঝাই থাকায় বেইলি সেতুর মাঝামাঝি গেলে সেটা ভেঙে পড়ে। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় টংগিবাড়ি, শরিয়তপুর ও মুন্সীগঞ্জের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। এদিকে, দুর্ঘটনার পর হতে দিঘীরপাড় বাজারে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। মানুষ জন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বাগিয়া বাজার ও টঙ্গীবাড়ী ঘুরে গন্তব্য দিকে ছুটছেন।

এ সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী আল-আমিন মোল্লা বলেন, সিপাহিপাড়া আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে । আমি নিয়মিত এই সড়কটি ব্যবহার করি। ব্রিজ ভাঙার আগে দিঘীরপাড় থেকে সিপাহিপাড়া ৩০ টাকা ভাড়া হলেও বর্তমানে ৫০ টাকা করে ভাড়া দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে, একাধিকবার গাড়ি পরিবর্তন করার কারণে গাড়ির সিরিয়ালে অনেকটা সময় বসে থাকতে হচ্ছে। এ সড়ক ব্যবহারকারীরা বর্তমানে অটো চালকদের কাছে জিম্মি রয়েছে। তাই যতদ্রুত সম্ভব ব্রিজটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সৈয়দ আলম বলেন, ভেঙে পড়া বেইলি সেতুটির পাশে নতুন করে একটি বেইলি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া বন্যার কারণে নতুন বেইলি সেতু নির্মাণ কাজে সময় বেশি লাগছে। তবে ব্রিজের ফাউন্ডেশনের কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি আগামী ৭ থেকে ১০ দিনে মধ্যে ব্রিজটির সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে।

দৈনিক অধিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.