ভ্রমণ আনমনা প্রাঙ্গণের আড়িয়াল বিল

ফাহিম ফিরোজ: কোথাও কোনো মানুষ দেখি না। দূরবর্তী কিছু গাছ। দেখতে জঙ্গলময়। মনে হত পারে এসবের গভীরে মনুষ্য বসতি। তাও না।গুচ্ছ গাছের সমাহার। তার মধ্যেই বর্ষায় সাপের স্বাধীনতা। বক ও অচেনা মাছভুখ নাম না জানা কালো পাখিদের এ্যারোবেটিক চিত্র। চারদিকে সীমাহীন জলঢেউ। একটা কোবরা টাইপের সাপকে দেখে কে যেন বলল,লম্বা মোটা ডোরাকৃতি সাপ। যতটা জানি এটা বিষহীন। নিরীহ।

আমাদের ২০ জনকে বহনকারী ট্রলার চলছে। বেশ দামী কয়েটি ক্যামেরা সচল। কখনো মাছ শিকারি নৌকা দৃশ্যমান। মাছ জালের উৎপাত তো আছেই। কচুরি, কলমী,বন্য লতার সমাহার। কোথাও দেখা গেলো খয়েরি রংগের মরা কচুরি। লম্বা লাশের মতো শুয়ে আছে। শীতে এ সব সার হিসাবে ভাল কাজ করে। তাতে উত্তম সব্জি হয়। রাসায়নিক সারের আর দরকার হয় না।

জলের নিচের মাটিকে বলা হয় কালো সোনা। এ মাটির বড় একটি অংশের সোনা যায় ঢাকার সব্জি বাজারে। এখানে ঝিনুক,শামুক বেচে নাকি ৬ হাজার পরিবার পরম শান্তির নিশ্বাস নেয়। এ বিশাল জলাশয়ের নাম ‘আড়িয়াল বিল’। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর। শত বছর আগে লেখা, যোগেন্দ্রনাথ গুপ্তের একটি বইতে পড়েছিলাম,পূবে – পশ্চিম এটা ৩০ মাইল। উত্তর -দখিনে ১২ /১৫ মাইল। এখন সেখানে নানা বসত, দূরে দূরে। বিল কিছুটা সংকোচিত।

২. শ্রীনগর ঘাট থেকে, যা ঢাকা থেকে ৩০ কিলো দক্ষিণ-পশ্চিমে। আমদের নিয়ে ট্রলার ছাড়ে দুপুরে। জল ভেঙে, দুই ঘন্টার মাথায় আমরা পৌঁছালাম। জায়গায় নাম ‘রাম সাগর’। লম্বা শুকনো জমি। তার মধ্যে কাঠগাছ শত শত।

দু’বছর আগেও এখানে আমরা এসেছিলাম ‘কালের ছবি’ সংগঠনের উদ্যেগে,মুন্সীগন্জ জেলা শহর থেকে। সেবার সংগঠনের সভাপতি ছিলেন কবি আনমনা আনোয়ার। তিনি আজ লোকায়ত। তার জায়গায় এখন সাংবাদিক সজল। আনোয়ের কথা খুব মনে পড়ছিল! অসম্ভব প্রানময় মানুষ ছিলেন। কিন্তু সজলও তাই। বনেদি ভাব।সবার দিকে তার চোখ– কার কোনো সমস্যা আছে কিনা! পরখ করছেন নিপুণ ভাবে। তার কিশোরী দু’কন্যার চঞ্চলতা,আবেগময়তা ছিল দেখার মতো। কেনা জানে বিক্রমপুরের মানুষ টাকার কুমির! তবে বিলাসী নয়। প্যাকেট খাবার সাবার করা হয় নির্জন রাম সাগরের মায়াবি পরিবেশে। বাকি বিভিন্ন খাবার আর কেউ খায়নি। কত খাওয়া যায়? চলে গান। যোগ ছিল গিটার।

সাঁঝের আগে ফিরার সময় আর ঘাট পাচ্ছিল না খোঁজে মাঝি। আমরা কেউ কেউ বেশ টেনশনে পড়ে গেলাম। কারণ, এ বিলে পথ হারিয়ে মৃত্যুর বহু ঘটনা শুনেছি। শেষে সবার মুখে হঠাৎ চাঁদ !

লেখক: কবি ও লেখক
পূর্ব পশ্চিম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.