শ্রীনগরে মেয়ের বিয়ের পরদিনই পরকিয়ার বলি মা

নবাবগঞ্জ থানা হাজতে ফাঁসি দিয়ে ঘাতকের আতœহত্যা
আরিফ হোসেন : শ্রীনগরে মেয়ের বিয়ের পরদিনই পরকিয়ার বলি হয়েছে মা। গত শনিবার সন্ধায় উপজেলার হাঁসাড়া ইউনিয়নের লস্করপুর গ্রামের ঢালী বাড়ী এলাকায় মালয়েশিয়া প্রবাসী ইয়াকুব ঢালীর স্ত্রী রাজিয়া বেগম (৩২) নিখোঁজ হয়। সোমবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের দেওতলা খ্রিষ্টানপাড়া এলাকার একটি বাঁশের ঝোপ থেকে রাজিয়া বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে রাজিয়া বেগমের পরকিয়া প্রেমিক আবুল মিস্ত্রীর ছেলে মামুন (২৮)কে সোমবার বিকালে শ্রীনগর উপজেলার লস্করপুর থেকে আটক করা হয়। ওই দিন রাতেই শ্রীনগর থানা পুলিশ তাকে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। মামুন সেখানে হত্যাকান্ডের স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর পরই থানা হাজতে পরনের লুঙ্গি পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আতœ হত্যা করে।

স্থানীয়রা জানায়, সোমবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি দেখে রাজিয়া বেগমের স্বজনরা তার লাশ সনাক্ত করে। এর আগে শুক্রবার দিন রাজিয়া বেগেমর মেয়ে সুমাইয়ার বিয়ে সম্পন্ন হয়।

মঙ্গলবার সকালে সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, প্রবাসী ইয়াকুব ঢালী কয়েক বছর আগে তার বসত বাড়ি থেকে একটু দুরে হাঁসাড়া-আলমপুর সড়কের পাশে নতুন বাড়ি করেন। প্রায় ৪ বছর আগে বাড়িটি অটো রিক্সার গ্যারেজ হিসাবে ভাড়া নেন ওই এলাকার জামাই আবুল মিস্ত্রি (৫৫)। ইয়াকুবের স্ত্রী রাজিয়া বেগম প্রায়ই সেই বাড়িতে গোসল করতে যেত। এই সুযোগে আবুল মিস্ত্রি কৌশলে রাজিয়া বেগমের গোসলের চিত্র মোবাইল ফোনে ধারণ করে তাকে ব্ল্যাক করে বিভিন্ন সময় টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয় এবং তার সাথে পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। বেশ কয়েকদিন আগে আবুল মিস্ত্রির ছেলে মামুনের হাতে তার বাবার মোবাইলটি পরলে সে মোবাইল ফোনে ধারণকৃত রাজিয়া বেগম ও তার বাবার অনৈতিক সম্পর্কের বিভিন্ন ছবি এবং ভিডিও দেখতে পায়। এটাকে কাজে লাগিয়ে মামুন রাজিয়া বেগমের মেয়ে সুমাইয়াকে কুপ্রস্তাব দিয়ে ব্যার্থ হয়। এটা নিয়ে আবুল মিস্ত্রির সাথে তার স্ত্রী ও ছেলের হাতাহাতি হলে আবুল মিস্ত্রি ১১ দিন আগে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়।

রাজিয়া বেগম শনিবার সন্ধায় তাদের নতুন বাড়িতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। গোসল খানায় ভেজা কাপড় পরে থাকতে দেখে অনেকেই ধারনা করেন সে আবুল মিস্ত্রির হাত ধরে পালিয়ে গেছে। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন একই সময় সেখানে মামুনের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে তাকে খোজ করতে থাকে। কিন্তু মামুন তার ফোন কল রিসিভ না করায় সে কোথায় আছে তা জানা সম্ভব হয়নি। রাত সাড়ে ৯টার দিকে মামুন তার অটোরিক্সা নিয়ে এলাকায় ফিরলে এলাকাবাসী তাকে ঘিরে ধরে। এসময় মামুনের সারা শরীর ও মোবাইল ফোনটি ভেজা ছিল বলে স্থানীয়রা জানায়। তাৎক্ষনিক ভাবে টহল পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর এসে মামুনকে রক্ষা করে। সোমবার বিকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজিয়ার লাশের ছবির খবর প্রচার হলে মামুন ও তার মা পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা মামুনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। এসময় লস্করপুর এলাকার আব্দুল নামের এক নেতা মামুনকে ধরিয়ে দেওয়ায় রাজিয়ার পরিবারের লোকজনের উপর চড়াও হয় এবং তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে।

সোমবার রাত আট টার দিকে নবাবগঞ্জ থানার এসআই আঃ জলিল মামুনকে শ্রীনগর থানা থেকে নিয়ে যায়। তিনি জানান, রাতে মামুনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। তিনি আরো জানান, থানার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় সে থানা হাজতের টয়লেটে গিয়ে পরনের লুঙ্গি খুলে ফাঁস দিয়ে আতœহত্যা করে।

শ্রীনগর থানার ওসি (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন বলেন, লাশ প্রাপ্তির ঘটনাস্থল বিবেচনায় বিষয়টি নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ তদন্ত করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.