শ্রীনগরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ইউপি চেয়ারম্যানের তোরণের ব্যানার পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ!

আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ষোলঘর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আলহাজ¦ আজিজুল ইসলামের তোরণের দুই পাশের ব্যানার পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার কেয়টখালী এলাকায় এই অগ্নি-সংযোগের ঘটনা ঘটে। এঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ষোলঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম দাবী করেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক নেতা জাকির হোসেনের ছোট ভাই ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন সেন্টুর লোকজন বিজয় দিবস উপলক্ষে তৈরি করা তার তোরণের ব্যানার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, তাদের বাড়ি কেয়টখালী গ্রামে হওয়ায় ওই এলাকায় আমার ব্যানার ফেস্টুন দিলেই তারা তা সহ্য করতে পারেনা। এর আগেও একই ভাবে আমার ব্যানার,ফেস্টুন নষ্ট করেছে। রাজনৈতিক মাঠে এমন প্রতিহিংসার ঘটনা অনভিপ্রেত।

শনিবার দুপুরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পূর্বপাশে কেয়টখালী ডাক্তার রোড এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ষোলঘর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলামের স্থাপন করা তোরণের দুই পাশের ব্যনার পুড়ে ফেলা হয়েছে। এসময় স্থানীয় সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করার সময় জাকির হোসেনের সমর্থক স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা তুহিন তেরে এসে এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জাকির হোসেন ও তার পরিবারের সাফাই গাওয়া শুরু করে। পরে অন্যান্য সাংবাদিকরা এসে তুহিনের কাছে জানতে চান, মোয়াজ্জেম হোসেনের লোকজন এই কাজ না করে থাকলে ছবি তুলতে আপনার সমস্যা হচ্ছে কেন? এসময় তুহিন মোবাইল ফোনটি ফেরত দিয়ে সটকে পরে।

স্থানীয়রা জানায়, তোরনের পাশেই পল্লী বিদ্যুৎতের খুঁটি ও তার। এছাড়া তোরণের পাশে বেশ কিছু দোকানপাট রয়েছে। কোন কারনে তোরনে লাগানো আগুন ছড়িয়ে পরলে বড় ধরনের বিপদ হতে পারতো। তারা এই ইউনিয়নে প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখতে চাননা বলে সাংবাদিকদের সামনে মতামত তুলে ধরেন।

কেয়টখালীর ডাক্তার রোডের মুদি দোকানি মোঃ লাভলু ুবলেন, এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে দুর্বৃত্তরা চেয়ারম্যানের গেইটের ব্যানার কেটে ফেলে। পরে ওই গেইটে আগুন দেওয়া হয়। অল্পের জন্য আমার দোকানটি রক্ষা পেয়েছে। জুতার দোকানি মানিক ঢালী, এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ী আল ইসলাম বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি ছাড়তে হবে। গেইট পুড়িয়ে জনগণের সমর্থন পাওয়া যাবেনা।

এবিষয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন সেন্টুর কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিপক্ষ ভেবে আমাকে টার্গেট করা হচ্ছে। আমি এই কাজের সাথে জড়িত নই। তোরণে যারাই আগুন দিয়েছে তা আমি সমর্থন আমি করিনা। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।

জাকির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, কে বা কারা করেছে তা আমার জানা নেই। তবে যারাই এই কাজ করে থাকুক তা আমরা কখনো সমর্থন করিনি করবোও না।

শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হেদায়েতুল ইসলাম ভূঞা বলেন, এই বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.