আড়িয়াল বিলে পুকুর খনন করে মাটি লুটের হিরিক

জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যাবে না’ এমন সরকারি নির্দেশ থাকলেও মুন্সিগঞ্জে শ্রীনগরের আড়িয়াল বিলে ফসলি কৃষি জমিগুলোকে পরিণত করা হচ্ছে গভীর পুকুর ডাঙগায়। এতে করে বিলে আশঙ্কাজনক হারে কমছে কৃষি জমির পরিমাণ।

এক শ্রেণির পুকুর/ ডাঙ্গা ব্যবসায়ীরা কৃষকদের ফসলি জমিতে পুকুর খননের লোভনীয় প্রস্তাব দিচ্ছে। উপজেলার বাড়ৈখালী ও হাসাড়া ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষি জমিতে ভেকু দিয়ে ১০/১২ ফুট গভীর করে জমির চারদিকে বাঁধ দিয়ে পুকুর খননের এই প্রতিযোগীতায় মেতে উঠেছে মাটি খেকুরা।

দিনরাত বিরতিহীন পুকুর খনন করে সেই মাটি আবার পাশ্ববর্তী সিরাজদিখান, দোহার, নবাবগঞ্জ উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন ইটভাটায় নিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষকরা না বুঝে হারাচ্ছেন তাদের উর্বর ফসলি জমি, অন্যদিকে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী পুকুর খনন ব্যবসায়ীরা।

ব্যক্তি মালিকানা জমির পাশাপাশি সরকারের ১নং খাস খতিয়ানভূক্ত জমি ও বিলের মাঝে প্রবাহিত সরকারি খালের দুপার কেটে মাটি অন্যত্র বিক্রি করে দিচ্ছে মাটি ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী, হাসাড়া, ষোলঘর, শ্রীনগর, শ্যামসিদ্ধি, রাঢ়ীখাল, ভাগ্যকুল ও বাঘড়াসহ সাতটি ইউনিয়নে নদী-নালা খাল-বিল বাদে প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার হেক্টর ফসলি জমি রয়েছে এ আড়িয়াল বিলে। শ্রেণিভেদে প্রায় সকল জমিতেই সারা বছর কোনো না কোনো ধরণের ফসল হয়। কিন্তু কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি এবং উৎপাদিত ধানের যথাযথ মূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তাই তাদের ফসলি জমিগুলোতে মাছ চাষের জন্য পুকুর ডাঙ্গায় পরিণত করা হচ্ছে। জমির সেই মাটি প্রতি গাড়ি ট্রলার প্রতি ২৫ শত টাকায় বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছে পুকুর ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে পুকুর খননের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেলেও বিশেষ করে বাড়ৈখালী ইউনিয়নের মজমত আলীর ছেলে মিলন, সোহেলদ্বয়ের নেতৃত্বে একই গ্রামের মৃত মালেকের ছেলে সোহেল, মৃত শেখ আসলামের ছেলে কাইয়ুম, শেখ সাহেব আলীর ছেলে আলী আকবর, বাড়ৈখালী মৌজার ৫০ হেক্টর জমিতে ও হাসাড়া ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে অনিকদ্বয় তাদের নিজস্ব ২০ হেক্টর জমিসহ বিলের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত নওল্লা খাল ও বড় খালের দুপার লস্করপুর গ্রামের বিল্লাল হোসেন লস্করপুর মৌজার ১৫ একর জমিসহ কয়েকশত হেক্টর জমিতে পুকুর খননের প্রবণতা বেশি। ইতোমধ্যেই শুধুমাত্র বাড়ৈখালী ও হাসাড়া ইউনিয়নেই প্রায় ৫০টিরও বেশি পুকুর/ডাঙ্গা খনন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বাড়ৈখালী মৌজায় জমির মালিক মিলনের মাটি কেটে ডাঙ্গা খনন করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জমির মাটি আমি কাটবো এনিয়ে কারো কাছে জবাব দিহি করতে হবে নাকি?

এবিষয়ে বাড়ৈখালী ইউনিয়ন তহসিলদার সেলিম হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি তার মুঠো ফোনটি রিসিভ করেনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রহিমা আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজজি

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.