শ্রীনগরে মৃত্যুর পর লাবনীর কপালে জুটলো শশুর বাড়ীর সহায়তা

আরিফ হোসেন: শ্রীনগর উপজেলার বাঘড়া ইউনিয়নের বরিবর খোলা গ্রামের সামাদ মোল্লার মেয়ে লাবনী আক্তার (২১)। লাবনী আক্তার দোহার উপজেলার মোকসেদপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী ছিল। সে ২০১৬ সালে এসএসসি পাস করে। এর পরপরই পারিবারিক ভাবে তার বিয়ে হয় ভাগ্যকুল ইউনিয়নের মধ্য কামারগাঁও গ্রামের সিরাজ শেখের ছেলে হেলাল শেখ (৩৪) এর সাথে। বিয়ের পর লাবনী পদ্মা ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হন।

লাবনীর সুখের কথা চিন্তা করে তার বাবা বিয়ের প্রায় ৬ মাস পর ১২ লক্ষ টাকা খরচ করে মেয়ে জামাতাকে সৌদি আরব পাঠান। স্বামী বিদেশ যাওয়ার কিছুদিন পর থেকে শ^শুর বাড়ির লোকজন লাবনীকে কারনে অকারনে ভরণ পোষন বন্ধ করে দিয়ে গালিগালাজ ও বিভিন্ন ভাবে মানসিক নির্যাতন শুরু করে। লাবনী এসব বিষয় প্রতিকারের আশায় তার প্রবাসী স্বামীকে জানান, কিন্তু লাবনীর উপর স্বামীর উল্টো খরগ নেমে আসে। এক পর্যায়ে প্রবাসী স্বামী লাবনীর সাথে সবধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। সকল প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে লাবনী তার লেখা পড়া চালিয়ে যেতে থাকে।

গত ২৫ মে লাবনী অসুস্থ্য হয়ে পরে। এসময় লাবনীকে তার শশুর বাড়ির লোকজন বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। অসুস্থ্য লাবনীর মা চিকিৎসার জন্য মেয়েকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে লাবনীর দুটি কিডনিতেই মারাতœক সমস্যা ধরা পরে। এসময় তাকে ১৫ দিন হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি রাখা হয়। পরবর্তিতে ঢাকা কিডনী ফাউন্ডেশন হসপিটালে কয়েকবার ডায়ালাইসিস করানো হয়। এর মধ্যে মেয়েকে বাচাঁনো জন্য সর্বস্ব খুইয়ে লাবনীর পরিবার মানুষের দ্বারে দ্বারে সাহায্য চেয়ে হাত পাতেন। চিকিৎসার জন্য পদ্মা কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও কিছু টাকা চাঁদা তুলে দেন লাবনীর মার হাতে। অথচ প্রবাসী স্বামীসহ লাবনীর শ^শুর বাড়ির কেউ কোন কানা কড়ি নিয়েও এগিয়ে আসেনি। এ বিষয়ে উদ্যোগ নিয়ে ব্যর্থ হন বিয়ের ঘটক নার্গীস বেগম। উপায় না দেখে লাবনীর পরিবার ভাগ্যকুল ইউপি চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন শাহাদাত, ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন,শহিদ মেম্বার, মোহাম্মদ আলীসহ একাধিক গন্যমান্য ব্যক্তির দ্বারস্ত হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পরে লাবনীর মা বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশও যায়। আজ্ঞাত কারনে থেমে থাকে পদক্ষেপ।

লাবনীর পরিবার গত ২৯ ডিসেম্বর শ্রীনগরে কর্মরত সাংবাদিকদের দ¦ারস্ত হয়। সাংবাদিকরা সরজমিনে গিয়ে গত ৩১ ডিসেম্বর বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করে।

লাবনীর এমন দুরাবস্থার সংবাদ দেখে তার চিকিৎসার বিষয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার। তিনি সমাজসেবা অফিসকে ৫০ হাজার টাকা চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দেন। শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ হেদায়াতুল ইসলাম ভূঞা লাবনীর শশুর বাড়ির লোকজনে ডেকে আনেন। তারা ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিতে রাজি হয়। কিন্তু সকল আশ^াসকে পিছনে ফেলে গত বুধবার রাত দেড়টার দিকে লাবনী পরপারে চলে যায়। এতোদিন একটি বারের জন্য দেখতে না আসলেও শশুর বাড়ীর লোকজন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জানাজার আগে তাকে দেখতে আসে। বিকালে থানায় গিয়ে লাবনীর পরিবারের হাতে তুলে দেয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। টাকা হাতে পেতে লাবনীর মা থানা কম্পাউন্ডে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। বিলাপ করে বলতে থাকেন এই টাকার অভাবে মারে আমি তোকে বাঁচাতে পারলাম না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.