শ্রীনগরে মত্তগ্রাম খালে ব্রিজের অভাবে ভোগান্তি!

শ্রীনগর উপজেলার শ্যামসিদ্ধি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে মত্তগ্রাম খালে একটি ব্রিজের অভাবে এলাকাবাসীর যাতায়াতে চরমদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এক সময় ওই খালে একটি শতবছরের পুরনো কাঠের সেতু থাকলেও এখন তা প্রায়ই বিলীনের পথে। মানুষ পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় খালে মাটি ভরাট করে চলাচলের সাময়ীক ব্যবস্থা করেন স্থানীয়রা। একদিকে যাতায়াতে কিছুতা সুবিধা হলেও অন্যদিকে খাল ভরাটের কারণে পানি নিস্কাশনে বাঁধা গ্রস্ত হচ্ছে। এতে করে এখানকার আবাদি কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আড়িয়াল বিল সংলগ্ন শ্যামসিদ্ধি এলাকার মত্তগ্রাম জামাল শেখের বাড়ির সামনে খালের ওপর মাটি ভরাট করে তার ওপরে কাঠের একটি ছোট্র মাচা দিয়ে মানুষ পারাপার হচ্ছেন। দেখা গেছে, শতবছরের পুরনো কাঠের সেতুর খুঁটি থাকলেও সেতুতে নেই কোনও সিড়ি বা পাটাতন। বাধ্য হয়েই স্থানীয়রা উদ্যোগ নিয়ে কাঠের সেতুর পাশে খালে মাটি ভরাট করেন। এছাড়া খালের পানি নিস্কাশন ব্যবস্থায় বাঁধের নিচে ছোট্র একটি পাইপ দেওয়া হলেও এই পাইপ দিয়ে দ্রুত পানি নিস্কাসনের জন্য তা যথেষ্ট নয়। আরো লক্ষ্য করা গেছে, শ্রীনগর-দোহার আন্ত:সড়কের শ্যামসিদ্ধির কয়কীর্ত্তণ গ্রাম থেকে একই রাস্তার মত্তগ্রামের পাঠান বাড়ির সামনে খালটির পুর্ব পাড় পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার কাজের নামে খোড়াখুঁড়ি করে রাখা হয়েছে। অপরদিকে ওই খালের পশ্চিম পাড় থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পার্শ্ববর্তী রাঢ়িখাল ইউনিয়নের বালাশুর গৌড়িডাঙ্গা পর্যন্ত রাস্তার অনেকাংশই পাকা। রাস্তাটি অত্র এলাকার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই দিক দিয়ে চলাচল করছেন। তবে মত্তগ্রাম পাঠান বাড়ির সামনে এসে খালে সেতু না থাকায় পথচারীরা ভোগান্তিতে পরছেন।

এ সময় কৃষক হারুন পাঠান (৬৫), ফারুক শেখ (৫৫), মোকশেদ মোল্লা (৩৫), জামাল শেখ (৫০), কাজল হক (৬০), মিয়া উদ্দিন পাঠান (৮০) সহ অনেকেই দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গত একবছর যাবত কাঠের পোলটির খুঁটি থাকলেও সিড়ি নেই! বাধ্য হয়েই নিজেরা খাল ভরাট করে মানুষ পারাপারের ব্যবস্থা করি। এই বাঁধের কারণে কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এটা ঠিক, কি করব? জন্মের পর থেকেই আমরা এই খালের ওপর কাঠের সেতু দেখে আসছি। পোলের অবকাঠামো ভেঙে গেছে। খাল পারাপারে যুগযুগ ধরে সেতু ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। তারা বলেন, সরকারি এই খালের এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা অতিজরুরী। ব্রিজের অভাবে জমি চাষাবাদে কৃষি উপকরণ ও কৃষি পণ্য আনা নেওয়া চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। একারণে কৃষিজাত পণ্য ধান, চাল, সবজিসহ অন্যান্য ফসল প্রতিমনে ১০০/১৫০ টাকা কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে এখানকার কৃষকদের। এর কারণ হিসেবে তারা জানান, এসব পণ্য ক্রয় করতে পাইকাররা এই এলাকায় আসতে চাননা। খাল পারাপারে সুব্যবস্থা না থাকায় মালবাহী গাড়ী নিয়ে বিপাকে পরেন তারা। কেরিং চার্জ ও বিভিন্ন অজুহাতে পাইকাররা তাদের ঠকাচ্ছেন। তারা বলেন, সার্বিক দিক বিবেচনা করে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে মত্তগ্রাম খালে অস্থায়ীভাবে মাটি ভরাট করছেন তারা। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন এলাকাবাসী।

এব্যাপারে শ্রীনগর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ওয়াহিদুর রহমান জিঠু জানান, মানুষ পারাপারে স্থানীয়রা অস্থায়ীভাবে খালে মাটি ভরাট করেন। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আমি ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করছি। এটা আমার নিজ এলাকা, এখানকার জনগণের ভোটে আমি নির্বাচিত হয়েছি। আশা করছি হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ কাজের জন্য বরাদ্দ আসবে।

গ্রামনগর বার্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.