আলুর জমিতে কাজ করে বাড়তি আয়

আলুর জমি পরিচর্যা ও বিভিন্ন কাজকর্ম করার মাধ্যমে শতশত নিম্নআয়ের মানুষের বাড়তি আয়ের কর্মসংস্থান হয়েছে। বিস্তীর্ণ আলুর জমি পরিচর্যায় কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করেছেন। এই অঞ্চলের অর্থকরী ফসল আলুর বীজ বপনের পর থেকে প্রায় ৯০ দিন পর্যন্ত জমির পরিচর্যায় শতশত নারী পুরুষ সমান তালে কাজ করে থাকেন। কীটনাশক স্প্রে, পানি সেচ, আগাছা-জঙ্গল পরিস্কার করাসহ নানামুখী কাজকর্মতে দিনমজুরদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠে এই অঞ্চলের কৃষকরা। বিশাল এই কৃষি কর্মযজ্ঞে গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, চাপাই নবাবগঞ্জ থেকে হাজার হাজার কৃষি শ্রমিক আসে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে। এছাড়াও স্থানীয়রা আলু জমিতে বিভিন্ন কাজের বিনীময়ে আয় রুজী করতে পারছেন।

বর্তমানে আলু জমি পরিচর্যায় একজন পুরুষ শ্রমিকের মূল্য খাবারসহ ধরা হচ্ছে ৫০০ টাকা। জমিতে আগাছা বাছগোছের জন্য একজন নারী শ্রমিকের পারিশ্রমিক ধরা হচ্ছে ৩০০/৪০০ টাকা। এছাড়াও স্থানীয় দিনমজুরের হিসাবটা একটু আলাদা। বিভিন্ন আলু ক্ষেতে কীটনাশক ও পানি সেচ ব্যবস্থায় তারা ঠিকা কাজ করে থাকেন। কীটনাশক স্প্রে করার ক্ষেত্রে ১২ লিটারের স্প্রে মেশিনের এক টাংকী ওষুধ স্প্রে করতে জমির মালককে দিতে হচ্ছে ৩০-৫০ টাকা। পানি সেচের জন্য প্রতি ১৪০ শতাংশ (এক কানি) জমিতে পারিশ্রমিক নিচ্ছেন ১৮০০-২০০০ হাজার টাকা। এখানকার আলু জমিতে এসব কাজকর্ম করে নিম্নআয়ের মানুষগুলো ভালই আয় করছেন। এখানে ডায়মন্ড জাতের লাল আলুর চাষ বেশী করা হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে আটপাড়া, বীরতারা, তন্তর, কুকুটিয়া ব্যাপক আলুর চাষাবাদ করা হয়। এরমধ্যে কুকুটিয়া ও আটপাড়া এলাকার চিত্র একটু ভিন্ন। এখানকার জমিগুলোতে এবছর জলাবদ্ধতার কারণে আলু চাষে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। জমিতে এখন আলু গাছ কেবল বড় হতে শুরু করছে। তবে বীরতারা ও তন্তর এলাকার জমিতে আলু গাছের আকার আকৃতি অনেকাংশেই বড় ও পুরো জমি গাছে ঢেকে গেছে। তাই এখানে শতশত কৃষি শ্রমিককে ওষুধ স্প্রে, পানি সেচ ও জমি পরিচর্যায় বিভিন্ন কাজকর্ম করে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। এসব কাজ করে তারা বাড়তি আয় করতে পারছেন।

রোকেয়া বেগম (৪৫), আলেমন নেছা (৪৮) বলেন, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আলুর জমিতে আগাছা তুলে খাবার বাদে ৩০০ টাকা পাচ্ছেন। এছাড়াও কোথাও কোথাও একাজে ৪০০ করে টাকাও নিচ্ছেন তারা। নিজাম শেখ, জাহিদ, আনোয়ারসহ অনেকেই জানান, বৃষ্টি না থাকায় আলু জমির মালিকরা পানি দিচ্ছেন। এই সময়ে জমিতে পানি সেচ করতে পারলে আলুর ফলন ভাল হয়। তাই পানি সেচের কাজ করে ভালই আয় করছেন। মো. রহিম ও লিটন হোসেন বলেন, বিভিন্ন রোগবালাই থেকে মুক্ত রাখতে জমির মালিকরা বিভিন্ন কীটনাশক স্প্রে করছেন।

সকাল বিকাল জমিতে এই কাজ করে ১৫০০-২০০০ হাজার টাকা কামাই করতে পারছি। স্থানীয় কৃষকরা জানায়, নানা প্রতিকূলতার কারণে এবছর জমিতে আলু বীজ বপনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। কৃষি উপকরণে দাম উর্ধ্বগতীর কারণে আলু চাষাবাদে খরচ বেড়েছে। গতবছর আলুর দাম পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন তারা। তাই এই বছর এখানে আলু চাষে কৃষকের আগ্রহ বেড়েছে অনেকাংশে। প্রতি ১৪০ শতাংশ জমি এগ্রিমেন্ট হিসেবে দিতে হচ্ছে ৪০-৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও সরকারিভাবে বিভিন্ন সারের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও কোনও কোনও দোকান থেকে কিছুটা বাড়তি দামে কিনতে হয়েছে। তার পরে অন্যান্য খরচতো আছেই? তারা জানান, আলু তোলা পর্যন্ত প্রতি ১৪০ শতাংশ জমিতে এই চাষাবাদে খরচ পরবে ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা পর্যন্ত।

শ্রীনগর কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, গত বছর শ্রীনগরে প্রায় ২২শত’ ৫০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ করা হয়েছিল। তবে এবছর আলু চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ায় আবাদি জমির পরিমান অনেকাংশে বাড়বে এসটাই ধারনা করা হচ্ছে। উপজেলায় আলুতে মোট প্রর্দশনী রয়েছে ১০টি।

গ্রামনগর বার্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.