অভিনেতা দাদাকে স্মরণ করে কাঁদলেন নাতনি! (ভিডিও)

জনপ্রিয় অভিনেতা আবদুল কাদের ক্যানসারে কাছে হার মেনে গত ২৬ ডিসেম্বর না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনি এবং অসংখ্য ভক্ত রেখে গেছেন। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। দাদা আবদুল কাদেরকে এখন স্মরণ করে চোখের পানি জড়ান তার নাতনি সিমরিন লুবাবা। নিজের ফেসবুকে শেয়ার এরা এক ভিডিওতে লুবাবা বলেন, ‘আজকে ২৬ দিন হলো দাদা আমাকে ছেড়ে একা আছে। আচ্ছা, কেউ কারো জানের সাথে কি আলাদা হতে পারে? কখনোই না। আমার দাদা সবসময় আমার সাথে আছে, সবসময় থাকবে।’

লুবাবা আরও বলেন, ‘দাদা আমার সাথে অনেক গল্প করত, যুদ্ধের গল্প। অভিনয় করে দেখাত। এখন কে দেখাবে? সবাই বলেছে, ভালো মানুষ আকাশের তারা হয়ে থাকে। আমার দাদা সবচেয়ে জলমলে তারাটা। আমার দাদা সবসময় আমার সাথে থাকবে, কখনো একা যাবে না।’ আরেকটি ভিডিওতে কান্না জড়িত কণ্ঠে লুবাবা আরও বলেন, ‘দাদা সবসময় আমার সাথে আছে। কখনো একা থাকত না। এখন দেখ, একা ছেড়েই তো চলে গেল। তবুও দাদা আমার সাথে আছে।’

উল্লেখ্য, ব্যাক পেইন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন আবদুল কাদের। উন্নত চিকিৎসার জন্য গেল ৮ ডিসেম্বর চেন্নাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এই অভিনেতাকে। সেখানকার হাসপাতালেই ১৫ ডিসেম্বর ক্যানসার আক্রান্তের খবর জানতে পারেন তিনি ও তার পরিবার। শুধু তাই নয়, জানা যায় ক্যানসার চতুর্থ স্তরে। সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। শারীরিক দুর্বলতার কারণে কেমোথেরাপি না দিয়েই আবদুল কাদেরকে ২০ ডিসেম্বর দেশে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন তার পরিবার। দেশে ফিরে এদিনই ভর্তি করানো হয় রাজধানীর বেসরকারি একটি হাসপাতালে। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসা চলছিলো তার।

আবদুল কাদের হাস্যরসাত্মক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ছোট পর্দায় তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন। নাটক, চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বেশ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্রেও দেখা গেছে তাকে। থিয়েটারেও সরব ছিলেন গুণী এ অভিনেতা।

১৯৫১ সালে মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী থানার সোনারং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আবদুল কাদের। তার বাবার নাম আবদুল জলিল, মায়ের নাম আনোয়ারা খাতুন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেয়ার পর সিঙ্গাইর কলেজ ও লৌহজং কলেজে অধ্যাপনা করেন। পরে বিটপী বিজ্ঞাপনী সংস্থায় এক্সিকিউটিভ হিসেবে যোগ দেন। বিটপী ছেড়ে পরে তিনি বাটায় যোগ দেন ১৯৭৯ সালে; সেখানে ছিলেন ৩৫ বছর।

১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ডাকসু নাট্যচক্রের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলেন কাদের। ১৯৭৩ সাল থেকে থিয়েটার নাট্যগোষ্ঠীর সদস্য এবং চার বছর যুগ্ম সম্পাদকের ও ছয় বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি থিয়েটারের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার অভিনীত মঞ্চনাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘এখনও ক্রীতদাস’, ‘তোমরাই, স্পর্ধা’, ‘দুই বোন’, ‘মেরাজ ফকিরের মা’।

এছাড়া দেশের বাইরে জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, কলকাতা, দিল্লি, দুবাইয়ের মঞ্চেও তিনি বাংলা নাটকে অভিনয় করেছেন।

বিটিভিতে শিশুকিশোরদের জন্য নাটক ‘এসো গল্পের দেশে’ র মাধ্যমে টিভি নাটকে অভিনয় জীবন শুরু করেন তিনি। মঞ্চে ৩০টি ও টিভি নাটকে তিনি তিন হাজারের মতো নাটকে অভিনয় করেছেন। বিটিভির জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তেও নিয়মিত মুখ তিনি।

আবদুল কাদের বাংলাদেশ টেলিভিশনের নাট্যশিল্পী ও নাট্যকারদের একমাত্র সংগঠন টেলিভিশন নাট্যশিল্পী ও নাট্যকার সংসদের (টেনাশিনাস) সহসভাপতি ছিলেন।

আবদুল কাদের অভিনীত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘মাটির কোলে’, ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘শীর্ষবিন্দু’, ‘সবুজ সাথী’, ‘তিন টেক্কা’, ‘যুবরাজ’, ‘আগুন লাগা সন্ধ্যা’, ‘এই সেই কণ্ঠস্বর’, ‘আমার দেশের লাগি’, ‘সবুজ ছায়া’, ‘দীঘল গায়ের কন্যা’, ‘ভালমন্দ মানুষেরা’, ‘দূরের আকাশ’, ‘ফুটানী বাবুরা’, ‘এক জনমে’, ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’, ‘ফাঁপড়’, ‘চারবিবি’, ‘সুন্দরপুর কতদূর’, ‘ভালোবাসার ডাক্তার’, ‘চোরাগলি’, ‘বয়রা পরিবার’ ইত্যাদি। ২০০৪ সালে আবদুল কাদের অভিনয় করেন ‘রং নাম্বার’ চলচ্চিত্রে।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে টেনাশিনাস পদক, মহানগরী সাংস্কৃতিক ফোরাম পদক, অগ্রগামী সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী পদক, যাদুকর পি.সি. সরকার পদক, টেলিভিশন দর্শক ফোরাম অ্যাওয়ার্ড, মহানগরী অ্যাওয়ার্ডসহ বেশকিছু পদকও পেয়েছেন আবদুল কাদের।

বিডি২৪লাইভ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.