কাঠের শিল্পে ভাগ্য বদল

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় কাঠ দিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরি করে সচ্ছলতা ফিরেছে ৫০ পরিবারে। ঘূর্ণায়মান কাঠের টুকরোতে বাটালির ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে মোমদানি, ছাইদানি, বাটি, পাউডার কেস, বয়াম, চরকা, খুন্তি, টাকা জমানোর ব্যাংক, সিঁদুরদানি, টিফিন বক্স, হামানদিস্তা, বাহারি ফুলদানি, পিঁড়ি, রুটি বেলার বেলন, ডাল ঘুটনি, চামচসহ নানা সামগ্রী।

এই কাঠকে অবলম্বন করে উপজেলার উত্তর ফুলদী গ্রামের অর্ধশত পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছেন। ওই গ্রামের সূত্রধর পাড়ার প্রায় প্রতিটি পরিবারই এখন কাঠ দিয়ে নিত্যব্যবহার্য সামগ্রী তৈরির সঙ্গে যুক্ত। কাঠের এই শিল্প এখন তাদের স্বাবলম্বী করে তুলছে।

বংশপরম্পরায় পাওয়া এ শিল্প থেকে স্বপন চন্দ্র সূত্রধর সফলতার মুখ দেখেন। তার সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে আস্তে আস্তে এ কাজে যুক্ত হন গ্রামের অনেকেই।

প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনায় বিগত বছরগুলোতে বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ পৌঁছে যাওয়ায় উত্তর ফুলদী গ্রামের এ কুটির শিল্প এখন সূত্রধর পাড়া ছাড়িয়ে আশপাশের পাড়ায় ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিটি পরিবারে নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুরাও পারদর্শী হয়ে ওঠছে এই শিল্পে। নারীরা নিয়মিতভাবে এ কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় বেড়েছে পরিবারের আয়।

কাঠ শিল্প নিয়ে কথা বলতে গেলে উত্তর ফুলদী গ্রামের একটি কারখানার মালিক স্বপন চন্দ্র সূত্রধর জানান, এ গ্রামে এ রকম অর্ধশত কারখানা গড়ে উঠেছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কমপক্ষে ৫শ মানুষ।বর্তমানে উত্তর ফুলদী গ্রামে তৈরি এসব কাঠের সামগ্রী মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় যাচ্ছে। পাইকাররা বাড়িতে এসেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন এসব তৈজসপত্র।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সরকারি কোনো পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই গ্রামের শত শত মানুষ মিলে গড়ে তুলেছেন এই শিল্প। সরকারি সহযোগিতা পেলে আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবেন বলে আশা করছেন এ কুটির শিল্পীরা।

ব.ম শামীম/ঢাকা পোষ্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.