৪ লাখ চিংড়ি রেণু জব্দ, পদ্মায় অবমুক্ত

মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ফেরিঘাট এলাকা থেকে ৪ লাখ চিংড়ি রেণু জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। শুক্রবার (১৯ মার্চ) রাত ২টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে মোংলাগামী ব্যাপারী পরিবহন থেকে এসব চিংড়ি রেণু জব্দ করে কোস্ট গার্ড। জব্দ করা চিংড়ি রেণুর মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন নদী ও সংযোগ খাল থেকে অবৈধভাবে সরকারি নিষেধ অমান্য করে এই মৌসুমে প্রায় শত কোটি টাকার গলদা চিংড়ির রেণু পোনা শিকার করেছে অসাধু জেলেরা। বঙ্গোপসাগরের মীরসরাই-সীতাকুণ্ড উপকূল থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের শেষ প্রান্ত ফেনী ও মুহুরী নদীর মোহনা তথা মুহুরী প্রকল্প পর্যন্ত শত কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন নদী ও সংযোগ খাল থেকে অবৈধভাবে এই পোনা নিধন চলছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন অবৈধ মাধ্যমে এ সকল রেণু পৌঁছে যাচ্ছে মোংলা, খুলনা অঞ্চলের চিংড়ি ঘের ব্যাবসায়ীদের কাছে।

মৎস্য অধিদফতরের সূত্রমতে, একটি বাগদা বা গলদা রেণু সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রায় ২০০টি বিভিন্ন প্রজাতির পোনা এবং মাছের বেঁচে থাকার উৎস খাদ্যকণা জুপ্লাঙ্কটন ও ফাইটো প্লাঙ্কটন ধ্বংস হয়ে যায়।

এ কারণে ২০০০ সালের ২১ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপণে দেশের উপকূলীয় এলাকায় মাছের পোনা আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়। এ সমস্ত চিংড়ি পোনা বাজারে প্রতিটি গলদা বা বাগদা চিংড়ি পোনা ২ থেকে ৩ টাকা করে বিক্রি হয়।

২০ মার্চ সকাল ১০টায় পোনাগুলো পদ্মা নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। এ সময় কোস্ট গার্ড পদ্মাসেতু কম্পোজিট স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার সানোয়ার (সিপিও), টুআইসি বুলবুল (পিও),মৎস্য অধিদফতরের ক্ষেত্র সহকারী মনিরুজ্জামান এবং কোস্ট গার্ডের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা শাখার সদস্য মো. হৃদয়ান জানান, জব্দ করা মাছগুলো উদ্ধার করে পদ্মা নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।

ব.ম শামীম/ঢাকা পোষ্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.