সুদের টাকা না দেওয়ায় বাড়ি দখলের অভিযোগ

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের লোহার পুকুরপাড় এলাকায় সুদের টাকা দিতে না পারায় বাড়ি দখলের অভিযোগ করেছে একটি পরিবার।

শনিবার (২০ মার্চ) সকাল ৮ টার দিকে প্রভাবশালী আব্দুল কুদ্দুস হাওলাদার ও তার বাহিনী নিয়ে বাড়ির জায়গা দখল করেছে বলে মরিয়ম নামের ওই নারী জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ইছাপুরা ইউনিয়নের লোহার পুকুরপাড় এলাকায় একটি বাড়ির সামনের জায়গায় দুইটি নতুন টিনের ছাপরা ঘর তৈরি করা করা হয়েছে। সেখানে কিছু গাছ কেটে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, ২০১২ সালে আব্দুল কুদ্দুসের (৫২) সঙ্গে শেখ মতিউর রহমানের মেয়ে মরিয়ম আক্তার তাপন (৫০) একটি সমিতি করে। সেখানে দুইবছরে ৩ কিস্তি দিয়ে আর টাকা দেয়নি। ৬ বছর পর জমা টাকা থেকে মোট ৭ লাখ টাকা লোন নেন মরিয়ম। পরে সুদসহ ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। তার কিছুদিন পর সুদে আসলে আব্দুল কুদ্দুস আরও ৩৩ লাখ টাকা দাবি করেন বলে জানান মরিয়ম। টাকা দিতে না পারায় ৩ শ টাকার সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন তিনি।

তার কিছুদিন পরে আব্দুল কুদ্দুস তার বাড়ি দখল করতে আসেন। তখন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন হাওলাদার উভয় পক্ষকে ডেকে ৩৩ লাখের পরিবর্তে ২৫ লাখ টাকায় সমঝোতা করে দেন। ওই সময় মরিয়ম ১ লাখ টাকার চেক দেয় এবং বাকি টাকা দেওয়ার জন্য সময় নেন। এর পর আব্দুল কুদ্দুস মরিয়মের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেন। মামলা করার পর থেকে মরিয়ম ও তার ছেলেদের বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে প্রাণনাশ এবং জায়গা দখলের হুমকি দেয় বলে মরিয়ম আক্তার জানান।

এ ব্যাপারে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সিরাজদিখান থানায় মরিয়ম আক্তার একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যার নম্বর-১০৩৬। বিষয়টি নিয়ে ইছাপুরা ইউনিয়ন পরিষদ ও থানায় একাধিকবার বসলেও কোনো সমাধান হয়নি।

মরিয়ম আক্তার তাপন বলেন, শনিবার সকালে ঘুম থেকে ওঠে দেখি রামদা, কুড়াল, চাকু ও ডাসা হাতে ৫০/৬০ জন লোক নিয়ে কুদ্দুস দাঁড়িয়ে আছে। ঘর তুলতে নিষেধ করলে গালমন্দ করে। গাছ কেটে জোরপূর্বক ঘর তুলে। থানায় অনেক বার ফোন করলেও থানা থেকে তাৎক্ষণিক কোনো পুলিশ আসেনি। ঘর তোলা শেষ হলে পুলিশ আসে।

আব্দুল কুদ্দুস হাওলাদার বলেন, আমি কারো বাড়ি দখল করি নাই। সরকারি জায়গায় ঘর তুলেছি। মরিয়ম থেকে জায়গাটা কিনে নিয়েছি। সরকারি সম্পত্তি কীভাবে কিনছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই এলাকায় অনেকেই স্ট্যাম্পের মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি ক্রয় করছেন। মরিয়ম এই সম্পত্তি আমার কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। সরকার তার নামের লিজও বাতিল করেছে । মরিয়ম আমার কাছে বিক্রয় করার পরেও কিছুদিন পূর্বে গোপনে অন্য ব্যক্তির কাছে একই জায়গা বিক্রি করছে বলে তিনি জনান।

সিরাজদিখান থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম জালাল উদ্দিন শনিবার রাতে ঢাকা পোস্টকে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এ বিষয়ে এখনো কোন পক্ষের অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

ব.ম শামীম/ ঢাকা পোষ্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.