জাপানে সাকুরা উৎসব, করোনায় ভাটা

রাহমান মনি: সাকুরা বা চেরী ফুলের সঙ্গে জাপানী ঐতিহ্য কথাটি জড়িত। সূর্য উদয়ের দেশ বললে যেমন জাপানকে বুঝায় তেমনি জাপানকে সাকুরা(Japanese cherry)’র দেশ বললেও ভুল হবে না।

“সাকুরা” জাপানিদের কাছে খুব-ই জনপ্রিয় একটি নাম। বছরের একটি বিশেষ সময়ে এই বিশেষ ফুলের দেখা পাওয়া যায়। জাপানের বিভিন্ন স্থানে যা স্থানীয়দের কাছে “চেরি ব্লসম” নামেও পরিচিত। সারা বিশ্বেও এই ফুলের অনেক কদর রয়েছে। কারন, এটা দেখতে এতটাই সুন্দর যে কেউ বিমোহিত না হয়ে পারবে না। এটার জনপ্রিয়তা এতোই বেশি যে অনেক পর্যটক জাপানে আসেন শুধুমাত্র চেরি ব্লসম বা সাকুরা দেখার জন্য। আজকের লেখা এই বিশেষ ফুল এবং একে নিয়ে না জানা কিছু কাহিনি নিয়ে।

বর্তমানে জাপানে চলছে সাকুরা উৎসব। সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয়ে জুন অবধি জাপানের এলাকা ভেদে সাকুরা উৎসব চলমান থাকলেও কানতো এলাকার বৃহত্তর টোকিও ( টোকিও, সাইতামা, চিবা, কানাগাওয়া )তে উৎসব’র আমেজটা একটু বেশীই যেনো নাড়া দেয়। হতে পারে রাজধানী বলে কথা।

ফেব্রুয়ারি মাসে ওকিনাওয়া থেকে সাকুরার প্রস্ফুটন শুরু হয়ে মার্চ এর শেষ এবং এপ্রিল এর প্রথম ভাগ বৃহত্তর টোকিও আলোড়িত করে জুনে হোক্কাইদো গিয়ে শেষ হয়।

কিন্তু এবছর সারা জাপান ব্যাপী সাকুরা কিছুটা আগেভাগেই প্রস্ফুটন শুরু হয়েছে। সাকুরা ফোটার সময়টাতে জাপান ব্যাপী উৎসব শুরু হয়।স্থানীয় জাপানী ভাষায় “হানামি”((হানা(ফুল) মি(দর্শন) বা হানামি অর্থাৎ ফুলদর্শন))বলা হয়ে থাকে। ‘হানামি’ বা ‘ফুল উৎসব’ জাপানিদের অতি প্রাচীন এক জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক উৎসব। অর্থাৎ ফুল ফোঁটা দেখার উৎসব বা গাছে ফুল ফোঁটা কেন্দ্রিক উৎসব হল ‘হানামি’। এই উৎসব কে ঘিরে জাপান ব্যাপী কোটি কোটি ডলারের বানিজ্য হয়ে থাকে। জাপানব্যাপী সাজ সাজ রব পড়ে যায়।

সরকার থেকেও ফুল দেখা উৎসবে উৎসাহিত করা হয়ে থাকে জাপানে।

এবছর জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর বৃহত্তর টোকিও’তে মধ্য মার্চ থেকে চেরি ফুল অবলোকন মৌসুম শুরুর ঘোষণা দিয়েছে, তবে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার তাগিদ সংযোজন করে।

সরকারী সংবাদ সংস্থা এনএইচকে সূত্র মতে আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্মকর্তারা গত ১৪ মার্চ রবিবার বিকেলে নিশ্চিত করেন যে, কেন্দ্রীয় টোকিও’র ইয়াসুকুনি মন্দিরের সোমেই-ইয়োশিনো প্রজাতির নির্ধারিত গাছটিতে কমপক্ষে ৫টি সাকুরা ফুল ফুটেছে, যেটির ফুল ফোটার উপর নির্ভর করে এই ঘোষণা দেয়া হয়ে থাকে।

এই ঘোষণা গত সাত দশকের গড় ঘোষণার দিনের ১২ দিন আগে করা হল। এই ঘোষণা গতবছরের মতো একইদিনে করা হয় এবং ১৯৫৩ সালে এ সংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রথম রাখা শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে দ্রুত করা হল।

ঐতিহাসিক হেইয়ান (৭৯৬-১১৮৫ খ্রিস্টাব্দ) শাসনামল থেকে বসন্ত বরণের এই হানামি উৎসব অতি জনপ্রিয় হওয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে এই হানামি উৎসব, জাপানিদের কাছে ‘সাকুরা হানামি’ নামে সমাদৃত হয়। অনেক সময় পাম জাতীয় এক ধরনের ‘উমে’ গাছ, যা চেরি ফুলের মতো একই সময় ফুল দেয়, তার সাথে মিলে ‘উমে’ উৎসব হিসাবেও সাকুরা উদযাপিত হয়।

সাকুরা’র বিমুগ্ধ সৌন্দর্যকে উপভোগ করার জন্য যখন সারা জাপানে সপ্তাহব্যাপী উৎসব হিসেবে পালিত হয়। তখন মনে হয়, সপ্তাহব্যাপী এই সাকুরা উৎসব যেন কর্মব্যস্ত জাপানিদের অবসর উদযাপন ও বিনোদনের একান্ত উপলক্ষ্য। কর্মব্যস্ত জাপানিদের জীবন যে কতো উৎসবমুখর হতে পারে, তা এই সাকুরা উৎসব দেখলে অনুধাবন করা যায়।

জাপানিরা পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব মিলে পার্ক বা চেরি বাগানের ফুলেল চেরি গাছের নিচে বসে হরেক রকমের জাপানিজ খাবার বিশেষ করে তৈরি খাবারের সাথে হরেক রকমের পানীয়’র সাথে পানাহারের মধ্যমে জাপানিদের মধ্যকার হাসি-ঠাট্টা, নাচ-গান আর আড্ডাবাজিতে মুখরিত থাকে পুরো চেরি বাগান। খাওয়া-দাওয়া, খোশ-গল্প, ঐতিহ্যগত পোশাক পরিধান আর প্রিয় চেরি ফুলের সাথে ছবি তুলে কেটে যায় তাদের পুরো সপ্তাহ। চেরি ফুলের সাথে বিভিন্ন আঙ্গিকে ছবি তুলে মুহূর্তগুলো ফ্রেমবন্দি করার যে অভিলাষ, সেটা দেখলেই বোঝা যায় ‘চেরি উৎসব’ বা ‘সাকুরা’র প্রতি জাপানিদের আবেগ ও ভালোবাসা। চেরি উৎসব যেন জাপানিদের এক সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। আর এর সাথে আধুনিকতার ছোঁয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ প্রচার উৎসবে আনন্দের ভাগীদার এখন বিশ্ববাসী।

পিছিয়ে নেই জাপানে বসবাসরত বিদেশী নাগরিকগনও। কখনো জাপানীদের সাথে মিশে একাত্ম হয়ে, কখনো বা নিজ দেশীয় কিংবা নিজ ঘরোনার লোকদের সাথে।

সাকুরা দেখতে অনেকটা দোপাটি ফুলের মতো। সাকুরার অনেক প্রকার আছে। এলাকা ভেদে লোকমুখে হাজার রকমের হলেও উইকিপিডিয়া তথ্য মতে প্রকৃতপক্ষে জাপানে ২০০টির ও বেশী প্রজাতির সাকুরার অস্তিত্বের কথা জানা যায়। এর মধ্যে ১০ টি প্রজাতি জাপান জুড়ে দেখা যায়। এগুলো হচ্ছে সোমেই ইয়োশিনো, ইয়ামাজাকুরা, শিদারেজাকুরা, এদোহিগান, কানজান, ইচিয়োউ, কানহিজাকুরা, ইউকন, কিকুজাকুরা এবং ফুগেনজু ।

ফুল কোন মাসে ফুটছে, সমতলে ফুটছে নাকি পাহাড়ি অঞ্চলে ফুটছে এবং ফুলের রঙ ও আকার এই সমস্ত কিছুর উপর ভিত্তি করে আবার সাকুরার শ্রেণিবিভাগ হয়ে থাকে। হাল্কা গোলাপি, ঘন গোলাপি, সাদা, কমলা, ধবধবে সাদা, দুধে আলতা এইরকম প্রায় দশ রকমের সাকুরা জাপানে ফোটে। তবে সবগুলো প্রজাতি এমন কি একই গাছের সবগুলো ফুলও এক সময় ফোটে না।

সাকুরা ফুল কেবল দেখার সৌন্দর্যেই মন কাড়েনা রসনা বিলাসেও নজর কাড়ে। তারকা সমৃদ্ধ হোটেলের বিভিন্ন ডেজার্ট-এ সাকুরা ফুলের ব্যবহার এবং রকমারি খাদ্যসামগ্রী তে সাকুরার ব্যবহার ভোজন বিলাসি মাত্রই জানেন।

বিশ্বব্যাপী সাকুরা নিয়ে গবেষণারও শেষ নেই।

অন্যকে আলোকিত করার ক্ষমতা না রাখলেও সাকুরার রয়েছে নিজস্ব উজ্জ্বলতা। মেঘাচ্ছন্ন দিন কিংবা গভীর রাতেও দূর থেকেও সাকুরার অবস্থান জানা যায়।

সাকুরা দর্শন ইতিহাস যেখান থেকে –

জাপানিদের সাকুরা ফুল দর্শন কয়েক হাজার বছরের পুরনো হলেও এর স্বপক্ষে নির্দিষ্ট কোনো তত্ত্ব পাওয়া যায় না। খ্রীষ্টপূর্ব সাত শতক থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুল দর্শন শুরুর ইতিহাস উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়। নারা জিদাই (৭১০-৭৯৪) এ সম্রাট গেনমেই হেইজোকিও শহরে উমে প্লাজম (উমে) ব্লোজম স্বল্প পরিসরে শুরু করেন। এই সময় চীন থেকে উপহার হিসেবে বিভিন্ন কালারের উমে (উমে) গাছ সারিবদ্ধভাবে হেইজোকিও শহরের শোভাবর্ধন করতে থাকে। এরপর হেইআন জিদাই (৭৯৪-১১৮৫) এর সময় সম্রাট কামমো হেইআনকিও শহরে নতুনভাবে উমে এবং পাশাপাশি সাকুরা গাছ রোপণ করে ফুল দর্শন উপভোগ করেন এবং ফুল দর্শনের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের মদ সেই সঙ্গে বিভিন্ন খাবার গ্রহণ করা শুরু করেন। তবে তা কেবল একটি শ্রেণীর লোকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত ছিল না। অন্য কথায় বলা যায়, অনুমতি ছিল না। হেইয়ান যুগে সম্রাট সাগা কিয়োটো এম্পেরিয়াল গার্ডেনে সভাসদদের নিয়ে সাকুরা ফুল দর্শন। পানাহার করার সময় সাকুরাকে নিয়ে কবিতা, গান রচনা করা হয়। আলোকোজ্জ্বল সৌন্দর্যম-িত ক্ষণস্থায়ী স্বল্পকালীন এই অনুভূতিকে হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী করে রাখার জন্য মূলত এই আয়োজন। সেই থেকেই সাকুরা ফুল দর্শন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু বলে প্রচলিত ধারণা। তবে ভিন্নমতও আছে

এলিট শ্রেণীর হাত ধরে খুব শীঘ্রই তা সামুরাই সমাজে বিস্তার লাভ করে এবং এদো যুগে তা সাধারণ মানুষের উদযাপনের সুযোগ করে দেয়া হয়। তোকুগাওয়া ইয়োশিমুনে নামক স্থানে সাকুরা গাছের নিচে বসে দুপুরে লাঞ্চ এবং সেই সঙ্গে মদপানরত অনুভূতি নিয়ে সাকুরা ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করে। সেই হিসেবে সম্রাট সাগাকে আধুনিক সাকুরা দর্শন (চেরী ব্লজম) এর জনক বললেও ভুল হবে না। এরপর আঘুচি-মোমোয়ামা যুগে (১৫৬৮-১৬০০) হিদোয়োশি তোয়োতোমি সাকুরা ফুল দর্শনে বড় ধরনের পার্টির আয়োজন করে ফুল দর্শনকে জনপ্রিয় করে তোলেন এবং সেই সঙ্গে জাপানিরা নির্দিষ্ট কোনো স্থানে সীমাবদ্ধ না রেখে নদীর পাড়, পার্ক, লেকের ধার, রাস্তার ধার যেখানেই সাকুরা গাছের ছড়াছড়ি সেখানেই এই আয়োজন করে আসছে

বর্তমানে সাকুরা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে, যেমনঃ ইউরোপ, পশ্চিম সাইবেরিয়া, ইন্ডিয়া, চীন, কোরিয়া, কানাডা এবং আমেরিকা তে।

দেশে দেশে সাকুরা উৎসব পালন –

সাকুরা উৎসব বা চেরী ব্লজম এখন জাপান ছাড়াও বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে পালন করা হয়। যদিও ব্যাপক আকারে নয়। দেশগুলো হচ্ছে তাইওয়ান, কোরিয়া, ফিলিপিন, ম্যাকাও, জর্জিয়া, ইউরোপের ফিনল্যান্ড এবং আমেরিকায় নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি। ১৯১২ সালে শুভেচ্ছা নিদর্শন হিসেবে জাপান আমেরিকাকে ৩০০০ সাকুরা গাছের চারা উপহার হিসেবে দেয়। ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই দেশের বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে গাছগুলো শোভা পেতে থাকে। এরপর ১৯৬৫ সালে আরো ৩৮০০ চারা উপহার হিসেবে পাঠানো হয়।

নিউইয়র্কের ব্রুকলিতে প্রতি বছর মধ্য মে’তে ১৯৮৯ থেকে সাকুরা ফেস্টিভ্যাল পালিত হয়ে আসছে। ব্রুকলি বোটানিক্যাল গার্ডেন আয়োজিত উৎসবগুলোর মধ্যে সাকুরা উৎসব খুবই জনপ্রিয় একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে।

ফিনল্যান্ডের হেলসিং কির Roihuvuori নামক স্থানেও মে মাসে সাকুরা উৎসব হয়ে থাকে। সেখানে বসবাসরত জাপানি জনগণ এবং তাদের দ্বারা পরিচালিত কোম্পানি ২০০টি চারা উপহার হিসেবে দেয়।

মোটকথা সাকুরা ফুল দর্শন জাপানি সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী একটি উৎসব। রূপকথা, গল্পে, কবিতায়, পানাহারে, ব্যবসায় সব স্থানেই সাকুরা ফুল দর্শন স্থান দখল করে আছে এবং ধীরে ধীরে তা বহির্বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছে। হয়ত ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও…। তথ্য : উইকিপিডিয়া।

প্রবাসী বাংলাদেশীরাও নিজ দেশে সাকুরা নেয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। জাপানের ইচিগো (স্ট্রবেরি), কাকি (পার্সিমন) বাংলাদেশে প্রবাসীরা নিয়ে গেছেন। বাংলাদেশের আবহাওয়ার সাথে খাপ খাইয়ে স্বমহিমায় টিকে আছে, বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদও এবং ভাল ফলনও দিচ্ছে। সেই সাফল্যে আশান্বিত হয়ে প্রবাসীরা উৎসাহ দেখাচ্ছেন সাকুরার মাইগ্রেশনে।

কোভিড ১৯ ভাইরাস যা করোনা নামেই সমধিক পরিচিত হয়ে গোটা বিশ্ব দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। এমন কোন খাত নেই যেখানে করোনার প্রভাব পড়েনি। কম অথবা বেশী, পার্থক্য কেবল এটুকুই। তবে পর্যটন শিল্প এবং হোটেল ব্যবসায় এর প্রভাব প্রকট। আর এই দুইটার সাথেই রয়েছে জাপানের সাকুরা উৎসব বা “চেরি ব্লজম” এর সরাসরি সম্পর্ক। তাই, ‘সাকুরা উৎসবে’ যে করোনার প্রভাব পড়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

এবছর ঘটা করে সাকুরা উৎসব কোথাও পালিত হচ্ছে না। নেই কোন উচ্ছ্বাস। কারন সেই একটাই, কোভিড-১৯। স্থানীয় প্রশাসন গুলো এব্যাপারে খুবই সচেতনতার সাথে নিরুৎসাহিত করছে জনগনকে উদ্দ্যোনগুলতে সমবেত হওয়ার জন্য।

কিছু কিছু উদ্দ্যোন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও বেশীর ভাগ উদ্দ্যোনই নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে লোক সমাগমের। কিছু কিছু উদ্দ্যোন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের নিয়োগকৃতদের সাবধানতা অবলম্বন করার তাগিদ দিয়েছে।

সাকুরা উৎসব নিয়ে প্রতিবছরের মতো ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়ের ছক আঁকতেন, ব্যবসায়ী পসরা নিয়ে বসতেন তাদের সকলের উচ্ছ্বাসে ভাঁটা পড়েছে। গত বছরের ক্ষতিটা এবছর পুষিয়ে নিতে চেয়েছিলেন তাদের চিন্তায় বাগড়া সেধেছে করোনার দীর্ঘ অবস্থান। তারা ভাবতেও পারেননি যে করোনা এতোটা লম্বা সময় ধরে স্থায়ীভাবে গেড়ে বসবে।

শুধুই যে স্থানীয়দের কারনে সাকুরা উৎসবে ভাটা পড়েছে তা কিন্তু নয়। করোনার কারনে এবং সংক্রমণ রোধে জাপান সরকারের নেয়া পদক্ষেপের কারনে এবছর বহির্বিশ্ব থেকে পর্যটক আসতে না পারাটাও অন্যতম একটি কারন।

সার্বিকভাবেই এবছর করোনা জাপানের সাকুরা উৎসব তো জাপানের অর্থনীতিরও প্রভাব ফেলেছে।

এ বিশ্ব করোনা মুক্ত হউক, প্রকৃতি তার স্বরূপ ফিরে পাক, সব কিছুই তার স্বাভাবিক গতি ফিরে পাক, উৎসবে মেতে উঠুক সব দেশের, সব ধর্মের, স্বাভাবিকতা ফিরে আসুক সব সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে এই হউক আমাদের কামনা।

rahmanmoni@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.