লঞ্চডুবিতে নিহতদের মধ্যে ২২ জনের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে

নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে লঞ্চডুবির ঘটনায় মঙ্গলবার (০৬ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত ৩৪ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ২২ জন মুন্সিগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। তাদের মরদেহ মুন্সিগঞ্জে পৌঁছেছে। মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জের নিহতরা হলেন- মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার নুরাইতলী গ্রামের মুখলেছ সেখের মেয়ে রুনা আক্তার (২৪), মোল্লাকান্দি গ্রামের সুমর আলীর বেপারীর ছেলে সোলামান বেপারী (৬৫), তার স্ত্রী বেবি বেগম (৬০), মালপাড়া গ্রামের হারাধন শাহার স্ত্রী সুনিতা শাহা (৪০), তার ছেলে বিকাশ সাহা (২২), আকাশ সাহা (১২), উত্তর চরমশুরা গ্রামের ওলিউল্লাহর স্ত্রী পাখিনা (৪৫), আরিফের স্ত্রী বীথি (১৮), মেয়ে আরিফা (১), মুন্সিগঞ্জ সদরের প্রতিমা শর্মা (৫৩), চর মোল্লাকান্দি গ্রামের শামসুদ্দিন (৯০), রেহেনা বেগম (৬৫), সিরাজদিখান উপজেলার তালতলা গ্রামের জাকির (৪৫), সদর উপজেলার দক্ষিণ কেরয়ার গ্রামের গোবিন্দ্র চন্দ্র দাশের ছেলে নারায়ণ দাস (৬৫), তার স্ত্রী পারবতী দাস (৫০), মালপাড়া গ্রামের সিরাজের মেয়ে রিজভী (২০), নয়াগাঁও গ্রামের মিঠুনের স্ত্রী ছাউদা আক্তার লতা (১৮), মধ্য কোর্টগাঁও গ্রামের মতিউর রহমান ফরাজির ছেলে ইউসুফ কাজি, রিকাবী বাজার এলাকার মুশকে আলম মৃধার ছেলে শাহ আলম মৃধা (৫৫), টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বেতকা গ্রামের মুছা সেখের ছেলে জাকির হোসেন (২৫) ও সদর উপজেলার দক্ষিণ ইসলামপুর গ্রামের মো. নুরুল আমিনেরর ছেলে তানভীর হোসেন হৃদয়।

মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দীপক কুমার রায় ঢাকা পোস্টকে জানান, মুন্সিগঞ্জের নিহত ২২ জনের মধ্যে ১২ জন নারী, ৯ জন পুরুষ ও এক বছরের একটি কন্যা শিশু রয়েছে। নিহত এই ২২ জনের সবার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায়। তাদের প্রত্যেকের মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নিহতহদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে মুন্সিগঞ্জের পরিবেশ। পাড়া-মহল্লায় স্বজনহারা মানুষের শোকের মাতম চলছেই। বাতাতে ভেসে আসছে মা, বাবা, ভাই, বোন, স্বামী, সন্তানহারাদের আর্তচিৎকার। বিশেষ করে সদর উপজেলার মালপাড়া, মোল্লাকান্দি, দেওভোগ, চরকেওয়ার, দক্ষিণকোর্ট, দক্ষিণ চরমশুরা এলাকায় শোকের মাতম চলছে।

গত রোববার (০৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের মদনগঞ্জ কয়লাঘাট এলাকায় এসকে-৩ নামে একটি কার্গো জাহাজের ধাক্কায় সাবিত আল হাসান নামের লঞ্চটি ডুবে যায়। লঞ্চটির অধিকাংশ যাত্রীই ছিল মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা। সোমবার (০৫ এপ্রিল) বিকেলে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করা পর্যন্ত ২৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং লঞ্চটি টেনে তোলা হয়। পরে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আরও পাঁচজনের মরদেহ ভেসে ওঠে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৩৪ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে।

লঞ্চডুবির এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরী ববিকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ঢাকা) রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে চার সদস্যের আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ব. ম শামীম/ঢাকা পোষ্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.