প্রেমের বিয়ের দেড় মাসের মাথায় আত্মহত্যা

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের দশকানি গ্রামের মোল্লা বাড়ির আবু তালেবের মেয়ে মুন্নীর লাশ তার বাবার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় তিন নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার শামীম, দুই নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর শহিদুল ও চার নম্বর ওয়ার্ড মেম্বর সালাম ও পুলিশ প্রশাসনের এসআই মিজান ও পরিবারের লোকজন আলোচনা করে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করেছে।

মুন্নীর স্বামীর নাম আকাশ। সরকারি হরগঙ্গা কলেজের এইচএসসির ছাত্র আকাশ একই ইউনিয়নের ডিঙ্গাভাঙ্গা গ্রামের সিরাজের ছেলে। প্রেম করে বিয়ে করায় মুন্নী ও আকাশকে মেনে নিতে পারেনি মুন্নীর পরিবার। মুন্নী ও আকাশ প্রেম করে দেড় মাস আগে বিয়ে করেছেন। পরে দুই পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিয়ের কাবিন করিয়েছেন।

মুন্নীর বাবা আকাশকে ভুলে যেতে চাপ প্রয়োগ করেছিল। কিন্তু মুন্নী আকাশকে কোনোভাবেই ছাড়তে রাজি হয়নি।

এ দিকে মুন্নীর এভাবে বিয়ে হওয়ার কারণে তার দু’ভাই সংসার চালানোর খরচ দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এ কারণে মুন্নীকে তার ভাবীরা বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে আসছিল।

মুন্নীর বাবা আবু তালেব জানান, মুন্নীর রুমের দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল। দরজা না খোলায় শাবল দিয়ে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে মুন্নীর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাই।

শামীম মেম্বার জানিয়েছেন আত্মহত্যা করেছে তা আমরা নিশ্চিত হয়েই মেয়ের দাফন শেষ করেছি।

কীভাবে নিশ্চিত হয়েছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মেয়ের বাবা দরজা ভেঙ্গে ঘর খুলেছে। প্লাস্টিকের একটি ছোট মোরার ওপর দাঁড়িয়ে ফ্যানের একটি পাখার সাথে ওড়না দিয়ে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে।

তিনি বলেন, জিহ্বা কামড় দিয়ে ছিল লাশ। ময়নাতদন্ত করতে হলে এখন নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে পাঠাতে হবে। তাই করানো হয়নি।

তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসনের লোকও ছিল। আমরা তিনজন মেম্বার ছিলাম। বিষয়টি আমরা বুঝে শুনেই লাশ দাফন করেছি।

সদর থানার এসআই মিজান জানান, ঊর্ধ্বতন প্রশাসনকে জানিয়েই ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কারো অভিযোগ না থাকায় লাশ মাটি দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

নয়া দিগন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.