মুন্সীগঞ্জে সক্রিয় অস্ত্রধারীরা

মোজাম্মেল হোসেন সজলঃ মুন্সীগঞ্জে অস্ত্রধারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ঘটছে খুন-খারাপি। বাড়ছে চুরি-ডাকাতির ঘটনা। নিরাপত্তাহীনতায় সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক নেতারাও।

সন্ত্রাসীদের হামলার ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন মুন্সীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া। আত্মীয়সহ তার বাড়িতে প্রকাশ্যে অস্ত্রধারীদের হামলা, গুলি এবং পরবর্তীতে বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেই অস্ত্রধারীদের আটক না করায় হুমকিতে রয়েছেন আ’লীগ নেতা সাইদুর রহমান ও তার পরিবার। জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ওই নেতা।

গত ২৪ মার্চ রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জ শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকায় সালিশ বৈঠক শেষে সশস্ত্র হামলায় কলেজ ও স্কুলছাত্র ইমন পাঠান, মাহবুব হোসেন সাকিব ও মুন্সীগঞ্জ পৌর নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে পরাজিত প্রার্থী আওলাদ হোসেন মিন্টু প্রধান প্রতিপক্ষের সশস্ত্র হামলায় নিহত হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হলেও হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার হয়নি।

গত ০৪ মার্চ মুন্সীগঞ্জ সদরের মিরকাদিম পৌরসভায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন ফিরোজ মিয়া। পর দিন সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। নিহত ফিরোজ মিয়া মিরকাদিম পৗরসভার মিরাপাড়া এলাকার প্রয়াত আবদুর রব ফকিরের ছেলে।

এদিকে, গত ২০ মার্চ দিবাগত রাত থেকে সকালের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়ার শহরের খালইস্টের নিজ বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়। ডাকাতরা নগদ ৭ লাখ টাকা, ১০ ভরি সোনার গহনা এবং ব্যাংকের চেক নিয়ে যায়। ঘটনার দিন তারা বাসায় ছিলেন না। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলেও আজও এর কোন তথ্য উদঘাটন হয়নি।

এর আগে গত বছরের ১৮ মার্চ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাইদুর রহমান ও তার স্বজনদের পূর্ব শিলমন্দির বাড়িতে পূর্ব বিরোধের জেরে একদল চিহ্নিত অস্ত্রধারী প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয় এবং অস্ত্রধারীরা বাড়িঘর তছনছ করে। এ মামলার প্রধান ৪ আসামি পূর্ব শিলমন্দি গ্রামের নুর মোহাম্মদ, ফিরোজ ভূঁইয়া, রায়হান ও তাইজউদ্দিন মৃধাকে আজও পুলিশ আটক করতে পারেনি। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করতে পারেনি।

তবে, ঘটনার পর গত বছরের ০৫ জুলাই পুলিশ রিপন মৃধার ছেলে খোকন ভূঁইয়াকে আটক করে একটি বন্দুক উদ্ধার করেছিলো। বাকি ৯ আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেই সঙ্গে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।

পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, তিনি ও তার পরিবার এখন জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। হামলা, হুমকি ও ডাকাতি হওয়া ঘটনারও কোন সুরাহা পাননি তিনি। মামলার অস্ত্রধারীরা প্রকাশ্যে ঘুরছে, হুমকি দিচ্ছে তাকে প্রাণনাশের। প্রায় বছর খানেক আগে পূর্বশীলমন্দি গ্রামে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে স্বজনসহ আমার উপর বিপুল পরিমাণ অস্ত্র নিয়ে সশস্ত্র হামলা চালায় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় একটি বন্দুক উদ্ধারে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করেন। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুর রহমান ভূঁইয়ার চাচাতো ভাই তোবারক হোসেন ভূঁইয়া বাদি হয়ে ১৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। সেই মামলার ৪ জন মূল আসামি, যাদের কাছে অস্ত্র ছিলো তাদের পুলিশ আজও গ্রেফতার করতে পারেনি।

তিনি বলেন, এরপর আমার শহরের খালইস্ট বাড়িতে ডাকাতি হয়। ঘটনার দিন রাত ৯টার দিকে জরুরি কাগজপত্র নিতে এক ঘন্টা বাড়িতে অবস্থান করছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুর রহমান। আমার ধারণা, আমকে হত্যা করতে পূর্ব শিলমন্দিরে এসেছিল সন্ত্রাসীরা। আমাকে না পেয়ে দরজার তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ চেক বই নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সদর থানায় মামলা এবং চেক বইয়ের বিষয়ে একটি জিডি করা হয়েছে। কিন্তু আজোবধি এর কোন তথ্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। সন্ত্রাসীদের হুমকিতে এলাকায় এলেও নিরাপত্তাহীন ভাবে চলতে হচ্ছে। নিজের ও পরিবারের জীবন নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।

মুন্সীগঞ্জ ডিবির অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক মামুন বলেন, পূর্বশীলমন্দীরের ঘটনার আসামিদের আটক ও অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তাদের আটকের পরই মামলার চার্জশিট আদালতে প্রদান করা হবে ।

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন বলেন, পূর্ব শিলমন্দির ঘটনাটি আমার জানতে হবে। এছাড়া অন্যান্য সংঘর্ষ ও হামলায় ব্যবহ্নত অস্ত্র উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

অবজারভার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.