মুন্সীগঞ্জে এক বছরেও থামেনি যে তাণ্ডব

বিগত এক বছরে ৮ বার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে দুটি গ্রুপ। হয়েছে একাধিক মামলা দেন দরবার। তবুও শান্ত হয়নি পরিস্থিতি। আধিপত্য ধরে রাখতে তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষে জড়ায় গ্রুপ দু’টি। চলানো হয় ভাঙচুর-বিস্ফোরণ, চালানো হয় গুলি। এসব ঘটনায় হতাহত হচ্ছে নারী-পুরুষসহ শিশুরা পর্যন্ত।

বিগত এক বছর যাবত এমন সব ঘটনা চলছে মুন্সীগঞ্জের চরাঞ্চলের খাসকান্দি ও ছোট মোল্লাকান্দি গ্রামে। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে রাতভর তাণ্ডবে ১৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর ককটেল বিস্ফোরণ ও লুটপাটের অভিযোগ উভয় গ্রুপের।

এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে গ্রামগুলো। ঘটনাস্থলে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

উপজেলার চরাঞ্চলের চরকেওয়ার ইউনিয়নের খাসকান্দি ও ছোট মোল্লাকান্দি গ্রামে থেমে থেমে এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় ১৫টি বসতঘরসহ একটি বালু কাটার ড্রেজারে ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রায় দুই শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়, চালানো হয় গুলি।

স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিগত এক বছর যাবত সামসুদ্দিন হাওলাদার (মামুন) ও নজির হাওলাদার গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে একবছরে গ্রুপ দুটি এই পর্যন্ত ৮ বার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে নিরীহ মানুষের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বালু কাটার ড্রেজার।

বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে শতশত ককটেলের চালানো হয়েছে গুলি। এসব ঘটনায় একাধিক মামলা হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

এক পক্ষের ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী আহম্মদ হাওলাদার বলেন, আমি গ্রামে নেই ঢাকাতে অবস্থান করছি মারামারির সাথেও জড়িত না। তারপরেও প্রতিপক্ষ সামসুদ্দিন হাওলাদারের লোকজন আমার বালু কাটার ড্রেজারটি ভেঙে মেশিন ও পাইপ লুট করে নিয়ে গেছে। এতে আমার ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত শাহিদা বেগম বলেন, আমার ভাই মালয়েশিয়া প্রবাসী দেশে থাকে না কোনো দলবলেও নাই অথচ রাতে একদল সন্ত্রাসীরা গ্রামে হামলা চালিয়ে ভাইয়ের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়।

বাক প্রতিবন্ধী আসাদ হাওলাদারের স্ত্রী তারা বানু বলেন, আমার স্বামী প্রতিবন্ধী কোনো দলবলে নাই দিনমজুরের কাজ করে খাই। রাতে হামলা চালিয়ে আমাদের ঘরের দরজা বেড়াসহ ঘরের ভিতরের আসবাবপত্র ভাঙচুর চালিয়েছে আমার স্বামী তাদের পায়ে পর্যন্ত ধরেছে তার পরেও ভাঙচুর থামেনি।

তবে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, রাতের সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি। তবে এসব ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.