মিরকাদিমে ইছামতি খাল যেন ময়লার ভাগাড়

মোজাম্মেল হোসেন সজল: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার রিকাবীবাজার দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতি খালটি দখল আর দূষণে মরতে বসেছে। স্থানীয়রা বলছে, ইছামতি খাল দিয়ে এক সময় বড় বড় নৌকা চলতো। চলতো মালবাহী জাহাজ। রিকাবীবাজারের মানুষ গোসলসহ গৃহস্থালি কাজে এই খালের পানি ব্যবহার করতো। বর্তমানে ইছামতি খালটিতে ময়লা ফেলে ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। খালটির দু’পাশে গড়ে ওঠা বাজার ব্যবসায়ীদের ফেলা ময়লা ও বর্জ্য খালটির পানি নিষ্কাশন বন্ধ করে দিয়েছে। এতে পরিবেশ দূষণসহ দুর্গন্ধে এলাকাবাসী পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে খালটি।

স্থানীয়রা জানান, শহীদুল ইসলাম শাহিন মিরকাদিম পৌরসভার মেয়র থাকাবস্থায় কয়েক বছর আগে খালটি দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযানে নেমে বিভিন্ন স্থাপনা সরিয়ে দেয়। বর্তমানে একটি সক্রিয় সিন্ডিকেট ময়লা আবর্জনা ফেলে খালটি ভরাট করে দখলের পাঁয়তারা করছেন। হাসান ভূঁইয়া নামে এক বাসিন্দা বলেন, খালটির পাশ দিয়ে যাওয়া যায় না। দুর্গন্ধে অতিষ্ট হতে হয়। তিনি আরো জানান, খালটি দখলের কারণে পানি না থাকায় খালের ওপর দিয়ে যাওয়া আসার জন্য বাজারের লোকজন ৩টি কাঠের পুল নির্মাণ করেছে। এই খালটিতে আগে থেকেই বিভিন্ন স্থানে ৩টি পাকা সেতুও রয়েছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির যুব বিষয়ক সম্পাদক জালাল উদ্দিন বলেন, আমরাও চাই খালটি দখল মুক্ত হোক, খালের যৌবন ফিরে আসুক। তবে খালটি দখলমুক্ত করতে গিয়ে যেন ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা উচিত। মিরকাদিম পৌর মেয়র আব্দুস সালাম জানান, রিকাবীবাজার দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতি খালটি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ ও বাজারের ময়লা খালে ফেলে মাটি ভরাট করে খাল দখলের বিষয়টি আমি শুনেছি। একটি সিন্ডিকেট এই কাজ করছে। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। দুই তিনদিনের মধ্যে সরজমিন গিয়ে খালটি দখলমুক্ত করার জন্য কাজ করবো। সবার সহযোগিতায় খালটি দখলমুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দীপক কুমার রায় বলেন, রিকাবীবাজারে খালটি দখলমুক্ত করতে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

মানবজমিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.