টোকিওতে ইসরাইল দূতাবাসের সামনে মানব বন্ধন ও ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন।

রাহমান মনি: নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ঊপর দখলদার ইসরাইলের আগ্রাসন ও নির্বিচারে হত্যার প্রতিবাদে এবং ইসরাইলের সাথে চলমান সঙ্ঘাতে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে শুক্রবার জাপানে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের বিপুল সংখ্যক মুসলিম বিক্ষোভকারী টোকিওতে ইসরাইলি দূতাবাসের সামনে এক মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

জাপান পুলিশের পূর্বানুমতি নিয়ে ২০মে জুমা নামাজ শেষে বেলা ৩টায় টোকিওর চিয়োদা সিটিতে অবস্থিত ইসরাইল দূতাবাসের সামনে জাপান মুসলিম কমিউনিটির ব্যানারে সমাবেশের নিদিষ্ট সময় নির্ধারণ থাকলেও দুপুর থেকেই প্রবাসীরা জড়ো হ’তে শুরু করেন।

মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে যোগদানকারী বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা ফিলিস্তিনি ও নিজ নিজ দেশের পতাকা নিয়ে সংহতি জানাতে দেখা গেছে। বিক্ষোভকারীরা স্লোগানে স্লোগানে ইসরাইলি বাহিনীর অবৈধ ও অমানবিক আচরণ এবং হামলার নিন্দা জানিয়ে ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি ভালোবাসা ও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।

যদিও উভয় পক্ষের সম্মতিতে পূর্ব রাত্রিতে যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা কার্যকর করা হয় তথাপি বিক্ষোভে নুনতম ভাটা পড়েনি । বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সহস্রাধিক প্রবাসী মুসলিম তাতে অংশ নেয়।

বিক্ষোভকারীদের সকলেই সমস্বরে আল-আকসা মসজিদের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত আছেন বলে ঘোষণাও দেন। তারা গাজায় ইসরাইলি হামলাকে ‘গণহত্যা’ হিসাবে আখ্যা দেন।

বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন ভাষায় ‘ফিলিস্তিনকে মুক্ত করো’ নামাঙ্কিত পতাকা নিয়ে ‘ইন্তিফাদা বা গণজাগরণ দীর্ঘজীবী হোক’ বলে এ সময় স্লোগান দেয় তারা। বেশিরভাগ মানুষকে এ সময় ‘ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি’ ছাড়াও নানা প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা যায়।

সমাবেশে বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রবাসী নেতৃবৃন্দ বলেন, ইফতার ও নামাজ পড়া অবস্থায় আল-আকসা মসজিদ চত্বরে ঢুকে ইসরাইলি পুলিশের বেধড়ক লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস এবং নির্বিচারে রাবার বুলেট ছুড়ে হাজার হাজার নিরীহ ফিলিস্তিনিকে হতাহত করে।

তারা আরো বলেন, এ হামলা মানবতার বিরুদ্ধে। গোটা বিশ্ব যখন করোনা মহামারিতে ক্লান্ত তখন অবৈধ দখলদার ইসরাইল পবিত্র রমজানের মধ্যে আবারও দানবীয় রূপে আবির্ভূত হয়েছে। পবিত্র রমজানে মুসলিমরা যখন ইবাদাত-বন্দেগিতে মশগুল তখনই অশুভ ইহুদিবাদী শক্তি জঘণ্য নারকীয় হামলা চালায় এবং শত শত নিরীহ জনগণকে হত্যা করে। যার অধিকাংশই নারী ও শিশু। আর এই হত্যাযজ্ঞে সমর্থন করে অ্যামেরিকা সহ পশ্চিমা কিছু দেশ।

বিক্ষোভ সমাবেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় জাপানী, প্রবাসী মিডিয়া সহ বিশ্ব মিডিয়া কর্মীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয়।

উল্লেখ্য গত ১৪মে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল জাপানের রাজধানী টোকিওতে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন টোকিওর শিবুইয়া এলাকায় ফিলিস্তিনের ওপর বর্বর হামলার প্রতিবাদে ওই বিক্ষোভ মিছিল হয়।

জুমার নামাজ শেষে শিবুইয়া এলাকার একটি মসজিদ থেকে নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে এবং ইসরাইলের মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জাপানিরাও ওই মিছিলে অংশ নিয়ে প্রতিবাদ জানায়।

বিক্ষোভকারীরা ‘ফ্রিডম ফর গাজা’ এবং ‘প্রোটেক্ট প্যালেস্টাইন’ লেখা প্ল্যাকার্ড লেখা নিয়ে শিবুইয়ায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।

rahmanmoni@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.