শ্রীনগরে সরকারি কাজে অনিয়মের অভিযোগ, রাস্তার নামে বাড়ি নির্মাণ!

শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের ভূইচিত্র এলাকায় ২০২০-২১ অর্থ বছরের গ্রামীন অবোকাঠামো সংস্কার (কাবিখা) কর্মসূচির আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের গৃহীত ১৮ লাখ ৮০ হাজার ২০৪.২৫ টাকা বরাদ্দে একটি রাস্তা নির্মাণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অপরদিকে নির্মাণাধীণ ওই রাস্তাটির নামকরণ করা হয়েছে নান্নু মিয়া সড়ক নামে। একাজে সংশ্লিষ্টদের সঠিক তদারকী না থাকায় প্রকল্পের সভাপতি সুযোগ বুঝে নিজ বসতবাড়ির পাশটি চওড়া করে মাটি ভরাট করে নেয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভূইচিত্র এলাকার বাতেন মাস্টারের বাড়ি থেকে মরহুম নান্নু মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ ফুট কাঁচা রাস্তা নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন চলছে গাইডওয়ালের কাজ। লক্ষ্য করা গেছে, রাস্তাটি দক্ষিণ দিকে অথাৎ বাতেন মাস্টারের বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ ফুট রাস্তা মাত্র ১০ ফুট প্রস্থ করা হয়েছে। অপরদিকে নান্নু মিয়ার বসতবাড়ি সংলগ্ন প্রায় ৩০০ ফুট নির্মাণাধীন রাস্তার প্রায় ২০ ফুট প্রস্থ করাসহ অনেকাংশেই উঁচু করা হয়েছে। এতে করে রাস্তা নির্মাণের পাশাপাশি বসতবাড়ি মাটি ভরাটের সামিল।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েকটি পরিবারের জন্য সরকারি টাকায় রাস্তা নির্মাণের নামে বাড়ি ভরাট হচ্ছে। এছাড়া নির্মাণাধীন রাস্তাটির নাম করণও হচ্ছে নান্নু মিয়ার নামে। এই প্রকল্পের সভাপতি স্থানীয় সাবেক শিক্ষক মিনাজউদ্দিন আহম্মেদ পিযুস মাস্টার ক্ষমতা বলে মনগড়াভাবে কাজ করছেন। রাস্তা নির্মাণের পাশাপাশি সুকৌশলে নিজ বাড়ির পাশটাও চড়া করে মাটি ভরাট কওে নিয়েছেন। সদস্য সচিব হিসেবে ষোলঘর ইউনিয়ন পরিষদেও ৪নং ওয়ার্ডেও ইউপি সদস্য মো. মহিউদ্দিনকে রাখা হলেও তাকে এখানে আসতে দেখা যায়না। এর আগে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদেও টাকায় রাস্তার কাজ করা হয়েছিল।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মহিউদ্দিনের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই কমিটিতে আমার অজান্তে আমাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। টাকা পয়সা উত্তোলণসহ সার্বিক কাজকর্মেও তদারকী করেন প্রকল্প সভাপতি পিযুস মাস্টার।

সাবেক শিক্ষক মিনহাজ উদ্দিন আহম্মেদ পিযুস মাস্টারের কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে রাস্তা নির্মাণ কাজে অনিয়ম হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, রাস্তাটি ৫০০ ফুট করার কথা থাকলেও নির্মাণ করা হয়েছে সাড়ে ৫০০ ফুট। সরকারি রাস্তার নামকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি অর্থে নির্মানাধীর রাস্তাটি যার নামে হচ্ছে সে আমার আত্মীয় হওয়ার সুবাদে আমি কিছু বলতে পারছিনা। বিষয়টি আমি বুঝলেও এবিষয়ে মুখ খুলতে পারছিনা।

শ্রীনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিসার আশেকুর রহমান এবিষয়ে বলেন, শুনেছি কিছুটা অনিয়ম হতে পারে। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণব কুমার ঘোষ জানান, এবিষয়ে আমি অবগত নেই। খোঁজ খবর নিয়ে যদি কোন অনিয়ম পাওয়া যায় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

গ্রামনগর বার্তা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.