জাপানে জরুরী অবস্থা বর্ধিত

রাহমান মনি/প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে: জাপান সরকার দেশটিতে চলমান কোভিড -১৯ জরুরী অবস্থার মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে। বর্ধিত এ মেয়াদ আগামী ২০ জুন ’২১ পর্যন্ত বহাল থাকবে। বর্তমানে রাজধানী টোকিও সহ আরো ৮টি প্রদেশে চলমান জরুরী অবস্থা আগামী ৩১মে পর্যন্ত বহাল ছিল। অন্যান্য প্রদেশ গুলো হচ্ছে ওসাকা, কিয়োতো, হিয়োগো, হোক্কাইদো, ওকায়ামা, আইচি, হিরোশিমা এবং ফুকুওকা।

চিবা, সাইতামা, কানাগাওয়া, মিএ এবং গিফু প্রদেশগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে অনুরোধ জানানো হয়।

আজ ২৮মে শুক্রবার রাতে নিজ কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী এ ঘোষণা দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সুগা।

সংবাদ সম্মেলনে সুগা বলেন, টোকিও এবং ওসাকা সহ বেশ কিছু অঞ্চলে সংক্রমণ এবং সনাক্ত হ্রাস পেলেও সারবিক পরিস্থিতি সন্তোষ জনক নয় যা অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত।

সংবাদ সম্মেলনে সুগা বলেন, ভারত, পাকিস্তান এবং নেপাল থেকে আগতদেরকে আজ থেকে ৬ দিন এর পরিবর্তে ১০দিন অবশ্যই কোয়ানটিন এ থাকতে হবে।

জুন মাসে প্রথম ডোজ হিসেবে ১০ কোটি এবং সেপ্টেম্বর মাসে ২য় ডোজ হিসেবে ১০ কোটি ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিদিন ১০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে। তার আগে বয়ষকদের ২য় ডোজ সম্পন্ন করা হবে বলে সুগা জানান।

সুগা বলেন, আসনন টোকিও অলিম্পিক ও প্যারালিমপিক এ অংশ নেয়া প্রতিযোগি এবং সংশ্লিষ্ট মোট ৭৮ হাজার সকলের জন্য বিনামূল্যে ভ্যাকসিন প্রদান সহ আগতদের একনাগারে ৩ দিন পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা দু’সপ্তাহ পর কোভিড-১৯ এর কারণে দেয়া জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের জন্যে জনগনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। একই সাথে পূর্ব ঘোষিত ডেড লাইনের এর মধ্যে করোনা আয়ত্বে আনতে না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি বলে আগামী ৩সপ্তাহ জনগনের সহযোগিতা পেলে আমাদের বিশ্বাস আমরা জরুরি অবস্থা বজায় রেখে করোনা মোকাবেলা করে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো” বলে সুগা যোগ করেন।

টোকিও অলিম্পিক ও প্যারালিম্পিক আয়োজনের পর্দা উঠানোর আর ২ মাসের কম সময়ের মধ্যে ৩সপ্তাহের জন্য জরুরী অবস্থা জারী পরিস্থিতির কতোটুকু উন্নতি হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বিশেষজ্ঞগন। গ্লোবাল মহামারী চলাকালীন অলিম্পিক এর গেমগুলি নিরাপদে রাখা যাবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ প্রকাশ করেন তারা।

এর আগে ২৭মে টোকিওর গভর্নর ইয়ুরিকো কোইকে এবং অন্যান্য প্রদেশগুলির গভর্নরদের পক্ষ থেকে প্রদেশগুলোকে সুরক্ষা করার জন্য সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে রেস্তোরাঁগুলিতে নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত ৩১ মে বর্তমান সময়সীমার বাইরে আরও কঠোর বিধিনিষেধ বজায় রাখা, অ্যালকোহল পরিবেষণ করা এবং তাদের রাত ৮ টার মধ্যে বন্ধ করতে বাধ্য করা এবং একই সাথে স্পোর্টস ও কনসার্ট আয়োজন বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ জানান।

এদিকে সাম্প্রতিক সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার ওকিনাওয়াকেও জরুরী অবস্থার আওতায় এনেছে। যা, ১ জুন থেকে কার্যকর হয়ে ২০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে।

উল্লেখ্য, জাপানে এ পর্যন্ত ৭,৪০,৯৬৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন ১২,৮৫১ জন।

rahmanmoni@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.