মায়ের সামনে গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, বোনকে এসএমএস করে আত্মহত্যা

মুন্সীগঞ্জের সদরে যৌতুকের দাবিতে মায়ের সামনে হাত-পা বেঁধে গৃহবধূকে নির্যাতন করেছে তার শ্বশুর। এ ঘটনার পর ছোট বোনের ফোনে এসএমএস পাঠিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ওই গৃহবধূ। মঙ্গলবার রাতে মুন্সীগঞ্জের সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বুধবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে ওই গৃহবধূ লাশ দেওয়ানকান্দি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি গ্রামের খোরশেদ মোল্লার মেয়ে সীমা খাতুন (৩০)। ১০ বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সরিষাবন গ্রামের জয়নাল হালদারের ছেলে কাওসার হালদারের সাথে। দুই বছর আগে ধারদেনা করে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান কাওসার। তবে সেখানে লকডাউনের কারণে ঠিকমতো কাজ করতে পারেননি। ফলে ধারদেনা নিয়ে বিপাকে পড়েন কাওসারের স্ত্রী সীমা আক্তার। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় কাওসার ও তার পরিবার সীমা খাতুনকে চাপ দিতে থাকেন বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা এনে ধারদেনা পরিশোধ করতে। কিন্তু সীমার দারিদ্র্য বাবা দুই লাখ তো দূরের কথা দুই হাজার টাকা দেয়ারও সামর্থ নেই। ২ মাস ধরে সীমার শ্বশুর জয়নাল হালদার ও শাশুড়ি আমেনা বেগম সীমাকে নির্যাতন শুরু করে।

স্থানীয়রা আরো জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে স্বামী কাওসার কথা বলা বন্ধ করে দেয় স্ত্রী সীমার সাথে। এ নিয়ে গত শুক্রবার সীমা ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ঘরের মধ্যে অচেতন হয়ে পড়ে থাকেন। খবর পেয়ে সীমার মা পারভিন বেগম মেয়েকে দেখতে আসেন। সেখানে দেখেন হাত পা বেঁধে রাখা হয়েছে সীমাকে। তাকে এভাবে বেঁধে রাখার কারণ জানতে চাইলে সীমার শ্বশুর তার গলায় পা দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। মায়ের সামনেই মারধর করা হয় সীমাকে।

সীমার মা পারভীন বেগম জানান, আমার মেয়েকে হাত পা বেঁধে মারার পর আমার সামনে গলায় পা দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে তার শ্বশুর। এ সময় আমি তার শ্বশুরকে বলি সে তো মারা যাবে। পরে তার শ্বশুরকে ধাক্কা দিয়ে গলার উপর থেকে সরিয়ে দেই।

তিনি আরো বলেন, ওই গৃহবধূকে ঘরে তালা দিয়ে আটকে রাখে তার শ্বশুর জয়নাল। এ ঘটনার দু’দিন পরে গত সোমবার ওই গৃহবধূকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় শ্বশুর। পরে সীমা খাতুন তার বাবার বাড়ি সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি গ্রামে এসে পাগলের মতো আচরণ করতে থাকেন। মঙ্গলবার সকালে সীমা তার ছোট বোনের ইমোতে একটি এসএমএস পাঠান। ওই এসএমএসে সীমাকে বলতে শোনা যায়, ‘তুই তোর দুলাভাইকে বলিস তার মা ও বাবা আমাকে মারলো। তার বাবা পেটে লাথি মারলো এখন আবার আমাকে বাড়ি যেতে নিষেধ করছে। আমি কি দোষ করলাম। তাহলে কী তুমি চাও ছেলে-মেয়ে নিয়ে আমি চাকরি করে খাই।’

সীমার বোন লিমা আক্তার জানান, আমার দুলাভাই বোনের সাথে কথা বলতো না। তাই আমার ইমোতে এসএমএস করে আমার বোন আমার দুলাভাইকে ওই কথাগুলো বলতে বলেছে।

এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুবক্কর সিদ্দিক জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নয়া দিগন্ত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.