১২ বছরেও নির্মাণ সম্পন্ন হয়নি ট্রমা সেন্টার ভবন

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু: ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও গাফিলতি, চুক্তি বাতিল, তৃতীয় দফা দরপত্র আহ্বান ও নতুন ঠিকাদার বিলম্বে নিযুক্ত হওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের সুচিকিৎসার জন্য ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের শ্রীনগরে নির্মিত ট্রমা সেন্টার ১২ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। নির্মাণকাজ শুরুর ৮ বছর পর ট্রমা সেন্টারের ভবন নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলেও কবে নাগাদ নির্মিতব্য ট্রমা সেন্টারের সেবা কার্যক্রম চালু হবে তা জানাতে পারেনি সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে বিভিন্ন সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য নির্মিতব্য ট্রমা সেন্টারের ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলেও কবে নাগাদ নির্মিতব্য ট্রমা সেন্টারের অসমাপ্ত কাজ শুরু হবে তা মুন্সীগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তরও সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেনি। এখনও বাউন্ডারি দেয়ালসহ বিভিন্ন কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। বরাদ্দ পেলেই অসমাপ্ত কাজ শেষে ট্রমা সেন্টার সংশ্নিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহি প্রকৌশলী সাদ মোহাম্মদ আন্দালিব।

জানা গেছে, দরপত্র আহ্বান ও ঠিকাদার নিয়োগের ৩ বছর পর কাজ শুরুর পর তৃতীয় তলা ভবন নির্মাণের পর মহাসড়কের শ্রীনগরের ষোলোঘর এলাকায় ট্রমা সেন্টারে অসমাপ্ত নির্মাণকাজ ৪ বছর থেমে থাকার পর ২০১৮ সালের শেষের দিকে সম্পন্ন হয়।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের তাৎক্ষণিক সুচিকিৎসা দেওয়ার লক্ষ্যে ট্রমা সেন্টার নির্মাণের জন্য প্রথমে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের লৌহজং উপজেলার মাওয়ায় স্থান নির্ধারণের উদ্যোগ নিলেও সুবিধা মতো জায়গা না পেয়ে শ্রীনগরের ষোলোঘর এলাকায় স্থান নির্ধারণ করে মুন্সীগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তর। পরে ২০০৭ সালে তিন দফা দরপত্র আহ্বান করে ট্রমা সেন্টার নির্মাণকাজের দায়িত্ব মেসার্স আবদুস সাত্তার নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৩ বছর পর ২০১০ সালে কাজ শুরু করে। ঠিকাদার নিয়োগের সময় ট্রমা সেন্টার নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তৃতীয় তলা নির্মাণের পর কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা উত্তোলন করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। অন্যদিকে কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রাক্কলিত ব্যয়ের পুরো টাকা কীভাবে উত্তোলন করেছে, তার রহস্য উদ্ঘাটন না করেই ২০১৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মেসার্স আবদুস সাত্তার নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অযোগ্য ঘোষণা ও নির্মাণকাজের চুক্তি বাতিল করে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

২০১৫ সালের ৫ এপ্রিল অবশিষ্ট কাজের জন্য আবারও দরপত্র আহ্বান করা হলে সে সময় দরপত্র আহ্বানকারী অযোগ্য হওয়ায় একই বছরের ১৫ অক্টোবর আবারও দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২০০৭ সালে দরপত্র আহ্বান ও ঠিকাদার নিযুক্তের পর ২০১০ সালে ৩ বছর পর কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরপর তৃতীয় তলা ভবন নির্মানের পর শ্রীনগর উপজেলার ষোলোঘর এলাকায় ট্রমা সেন্টারের অসমাপ্ত নির্মাণকাজ ৪ বছর থেমে থাকে।

মুন্সীগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ট্রমা সেন্টারের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার জন্য দরপত্র আহ্বান করার পর বিলম্বে ঠিকাদার নিয়োগের পরই ভবন নির্মাণের অসমাপ্ত কাজ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় নির্মাণের কাজ করা হয়। প্রথমে ট্রমা সেন্টার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি ৩২ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে নির্মাণের জন্য দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। পুনরায় আরও দুই কোটি ৫০ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়।

মুন্সীগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সাদ মোহাম্মদ আন্দালিব জানান, ট্রমা সেন্টারের কাজ শেষ পর্যায়ে। তবে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ যে কোনো সময় আমাদের কাছ থেকে ট্রমা সেন্টারের ভবন বুঝে নিতে পারে। তবে কিছু কিছু কাজ এখনও রয়ে গেছে, যা ভবন বুঝে নেওয়ার পরে ওই কাজ সম্পন্ন হবে। এরপরই ট্রমা সেন্টারের নির্মাণকাজ শতভাগ শেষ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

জেলা সিভিল সার্জন মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ট্রমা সেন্টারের কাজ অনেকখানি এগিয়েছে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে ট্রমা সেন্টারের জন্য এখনও কোনো লোকবল দেওয়া হয়নি।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.