চাঁইয়ের গ্রাম রমজানবেগ

নদী-নালা, খাল-বিলে মাছ শিকারে মুন্সীগঞ্জে এখন চাঁই তৈরির ধুম পড়েছে। পৌরসভার রমজানবেগ এলাকায় ৬০টি পরিবার এ চাঁই তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। মাছ শিকারের জন্য দিনরাত চাঁই তৈরি করছেন কারিগররা। তাদের তৈরি চাঁই জেলার ছয়টি উপজেলার হাটবাজার ছাড়াও চাঁদপুর, কুমিল্লা, ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ, ভোলা, বরিশালসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, চাঁই তৈরির পর বেচাকেনার মাধ্যমে রমজানবেগ এলাকার ৬০টি পরিবার তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। চাঁই তৈরিতে এখন কাটছে তাদের সময়। এক ধরনের ফাঁদ হিসেবে পরিচিত এ চাঁই জেলেদের কাছে মাছ শিকারের জন্য সহজলভ্য পদ্ধতি। তাই বর্ষায় নদী-নালা, খাল-বিল ও জমিজমার আশপাশে জেলেরা এই চাঁই দিয়ে ফাঁদ পেতে মাছ শিকারের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

চাঁই ব্যবসায়ী মজিবুর রহমান জানান, প্রতিদিন দুই হাজারের মতো চাঁই তৈরি করে থাকে রমজানবেগ এলাকার ৬০ পরিবার।

চাঁই তৈরির ব্যস্ততার ফাঁকে মহসিন মিয়া জানান, বিভিন্ন এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এ শিল্প বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। তবে পুঁজির অভাবে অনেক সময় এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের বেকার থাকতে হয় চার থেকে পাঁচ মাস। তাদের অভিযোগ, বিসিক শিল্পের ক্ষুদ্রঋণ থেকে বঞ্চিত তারা। তারা কখনোই বিসিক শিল্পের ক্ষুদ্রঋণ পান না। সরকারিভাবে ঋণ পেলে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলো আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে উঠতে পারেন।

মুন্সীগঞ্জ খুদ্র ও কুটির শিল্পের ভারপ্রাপ্ত উপ-ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল্লাহ বলেন, মুন্সীগঞ্জে মাছ শিকারের জন্য ‘চাই তৈরির সঙ্গে জড়িত কারিগরদের খুদ্র ও কুটির শিল্প সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিসিকের নিজস্ব কর্মসূচির মাধ্যমে ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এসব উদ্যোকতআদের ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে। কারিগর বা পরিবারগুলো ঋণ সহায়তার কোনো আবেদন করেনি।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.