সিরাজদিখানে থেমে নেই কর্মজীবী শ্রমিকের জীবিকা যুদ্ধ

সিরাজদিখানে সর্বাত্মক লকডাউনে সংকুচিত হয়েছে শ্রমজীবী মানুষের কাজের সুযোগ।এতে জীবিকার সংকটে পড়েছেন এ অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ। রিকশাচালক, পরিবহণ শ্রমিক, দিনমজুর, কৃষি শ্রমিক, হোটেল শ্রমিক, সাধারণ দোকানদার এবং ফুটপাতের ছোট ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার খেটে খাওয়া মানুষ কাজ না থাকায় এসব পেশার মানুষের হাতে টাকা নেই। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তারা। অনেকেই তিনবেলা খেতে পাচ্ছেন না।জরুরি প্রয়োজনেও নিতে পারছেন না চিকিৎসা সেবা। এছাড়া অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনও মেটাতে পারছেন না। অভাব আর অনটনে পার করছেন দুর্বিষহ জীবন।দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ভিবিন্ন রাস্তায় মানুষের চলাচল কম দেখা গেলেও বৃষ্টিভেজা সকাল থেকেই ফসলি জমিতে দেখা গেছে নিন্মআয়ের নারী শ্রমিকের জীবিকা অর্জনের জন্য কাজের চিত্র।

উপজেলার বালুচর ইউনিয়নে কঠোর লকডাউনে স্বামীর কাজ বন্ধ থাকায় সংসার চালাতে হিমশিম খাওয়া ফাতেমা বৃষ্টির বাঁধা উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে এসেছেন জমিতে ধনিয়া পাতা তোলার কাজে। ঘরে তার বয়স্ক শাশুড়ি মা,স্বামী আর ১০ বছর বয়সী এক ছেলে ও ৮ বছরের বয়সী এক মেয়ে। সরকার ঘোষিত সর্বাত্মক লকডাউনে রিকশা নিয়ে বের হননি তার স্বামী।তাই সংসার চালাতে তিনি নিজে এসেছেন জমিতে শ্রমিকের কাজ করতে। একই অবস্থা উপজেলার শ্রমজীবী নিন্ম আয়ের অন্য নারীদের। তাদের স্বামী ভাই ছেলেরা কাজের খোঁজে বের বের হলেও পুলিশি বাধায় কাজ করতে পারছেন না। ফলে এক প্রকার কর্মহীন হয়ে পড়ায় পরিবারের ভরণ পোষণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে বলে তারা নিজেরাই নেমেছেন জীবিকার জন্য জমিতে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এসব নারী শ্রমিকদের মতো একই অবস্থা স্থানীয় দোকান কর্মচারীদের। দোকানপাট বন্ধ থাকায় কাজ করতে পারছেন না তারা।ফলে কোনো রকমে খেয়ে না খেয়ে সংসার চালাতে হচ্ছে তাদের।

সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে চলমান সর্বাত্মক লকডাউনে নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য ইতোমধ্যে সরকার ২২ লাখ ৯৬ হাজার অর্থ এবং ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে।এইসব বরাদ্দ স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে উপজেলার খেটে খাওয়া মানুষদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।নিন্মআয়ের একজন মানুষও যাতে না খেয়ে থাকে আমরা তাদের সে ব্যবস্থা করছি।যারা অভাব অনাটনে আছেন তারা স্থানীয় ইউপি সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করলেই অনুদান পেয়ে যাবে। এবং এই বরাদ্দ চলমান লকডাউনে অব্যাহত থাকবে এছাড়া অন্যান্য বরাদ্দও আসতে পারে।

এদিকে বৃষ্টিভেজা কঠোর লকডাউনে শুক্রবার উপজেলা বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা গেছে পুলিশের কড়া নজরদারি।বালুচর, তালতলা, ইছাপুরা, নিমতলা এলাকা ঘুরে দেখা যায় সিরাজদিখান থানা পুলিশ তাদের টিম নিয়ে মাঠে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া পুলিশের চেকপোস্ট রয়েছে বিশেষ বিশেষ এলাকায় এলাকায়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রাস্তায় বের হওয়া মানুষজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। উপযুক্ত কারণ ছাড়া যারা বের হয়েছেন তাদের বাসায় ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

সোনালীনিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.