স্বদেশী ফ্যাশন নিয়ে জাপানে প্রথম প্রবাসী নারী উদ্যোক্তার আত্মপ্রকাশ

রাহমান মনি: “স্বদেশী পণ্য, কিনে হও ধন্য’’ বাংলাদেশে নন্দিত এবং বহুল প্রচারিত বিজ্ঞাপনটি প্রবাসীদের হৃদয়ে গেথে আছে। যে যেই দেশেই বসবাস করেন না কেন প্রবাসে যদি বাংলাদেশী কোন পণ্য পেয়ে থাকেন তাহলে ব্যবহার করুক বা না-ই করুক ঘরে রাখার জন্য হলেও তা কিনে থাকেন।

’৮০ দশকের মাঝামাঝি বাংলাদেশীরা ভাগ্যের অন্বেষণে জাপান আসা শুরু করেন। তখন কেবল-ই পুরুষরা জাপান এসেছিলেন। নারীদের আগমন ছিলনা বললেই চলে।

’৯০ দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশের নারীরা জাপান আসা শুরু করেন। তবে, প্রথমে কেবল প্রবাসীদের স্ত্রী হিসেবেই আসতেন। এরপর বিভিন্ন কারনেই জাপানে মেয়েদের আসা বেড়ে যায়। পড়াশুনা করার জন্যও অনেক মেয়ে শিক্ষার্থীরাও জাপান আসা শুরু করেন।

‘শাড়ীতেই বঙ্গ নারী’ বলে একটি প্রবাদ বাক্য রয়েছে। জাপানে ভারতীয় শিখরা শাড়ী কাপড় ব্যবসার প্রসার ঘটান। টোকিও এবং আশপাশের জেলাগুলো থেকে শাড়ী কিনার জন্য টোকিও’র হিরোতে ‘রোক্কো শাড়ী’ দোকান-ই ছিল প্রবাসীদের একমাত্র ভরসা।

বাংলাদেশে যাওয়ার সময় প্রবাসীরা উপহার হিসেবে রোক্কো শাড়ী থেকেই শাড়ী কিনে নিয়ে যেতেন। আর এই জন্য গুণতে হ’ত বড় অংকের একটি অর্থ ।

প্রবাসী বাংলাদেশীরা জাপানে কোন অংশেই এখন আর পিছিয়ে নেই। এক সময়ের পাকিস্তানিদের করা বিভিন্ন ব্যবসা বাংলাদেশীরা কব্জা করে নেয় তাও দুই দশকেরও বেশী সময় হয়ে গেছে। পুরাতন গাড়ী, টেলিফোন কার্ড, স্পাইস, হালাল ফুড সবই এখন বাংলাদেশিদের পরিচালনায়। পিছিয়ে নেই নারীরাও। প্রবাসী নারীরাও পুরুষদের সাথে পাল্লা দিয়ে সমান তালে এগিয়ে চলেছে এবং সাফল্যের স্বাক্ষরও রাখছেন।

স্বদেশী ফ্যাশন নিয়ে জাপানে প্রথম প্রবাসী নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটেছে ইয়াসমিন মনোয়ারা (নদী) নামের এক প্রবাসীর। টোকিওর অদূরে কানাগাওয়া প্রিফেকচারের সাগামিহারাতে “সুপ্রভা ফ্যাশন হাউজ” নামের বাংলাদেশী পন্যের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শুভ উদ্ভোধন হয়েছে ৪ জুলাই রোববার। বৈরী আবহাওয়া সত্বেও উদ্ভোধনী দিনে প্রবাসী ক্রেতাদের আশানুরূপ সাড়া মেলে।

করোনার প্রভাব এবং একই দিনে একাধিক আয়োজন থাকা সত্বেও প্রবাসী মিডিয়া এবং বাংলাদেশী মিডিয়ার স্থানীয় প্রতিনিধিরাও উদ্ভোধনী আয়োজনে অংশ নিয়ে ইতিহাসে স্থান করে নেন। বিভিন্ন সামাজিক এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে এই নারী উদ্যোক্তাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রবাসীরা।

‘সুপ্রভা ফ্যাশন হাউজ’ নামে জাপানে প্রবাসীদের কাছে নদী অনলাইন ভিত্তিক বাংলাদেশী বস্র ব্যবসায়ী হিসেবে বহুল পরিচিত ছিলেন পূর্ব থেকেই। এখন আউটলেট উদ্ভোধন করে নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেন।

এছাড়া ইয়াসমিন মনোয়ারা নদী Nodi Sina’s Cooking & Lifestyle .Japan Group নামে জাপান এর প্রবাসীদের প্রথম রান্নার গ্রুপ এর পরিচালক। বিশ্বব্যাপী এই গ্রুপটির ১৫ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছেন। তাইতো বাংলাদেশ থেকেও তার ভক্তরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

নদী জানান তিনি ফ্যাশন নামে শুধু বাংলাদেশী বস্রই জাপানে পরিচয় ঘটাতে চাননা। একই সাথে বাংলাদেশের রন্ধন শিল্পেরও প্রসার ঘটাতে চান। তাই সুপ্রভা ফ্যাশন হাউজে বিভিন্ন ধরনের স্পাইস ছাড়াও রন্ধন শিল্পে ব্যবহৃত সব ধরনের উপকরণই তার প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যাবে। বিশেষ করে বিভিন্ন উপকরনে হারাম হালাল নিয়ে যারা চিন্তিত তাদের নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে কাজ করবে সুপ্রভা ফ্যাশন হাউজ। এছাড়াও পাওয়া যাবে পিঠা বানানোর ছাঁচ, এবং হরেক রকমের জুয়েলারী সামগ্রী। মোট কথা, সুপ্রভা ফ্যাশন হাউজে বিভিন্ন উৎসবের জন্য সব ধরনের কেনাকাটা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য সুপ্রভা ফ্যাশন হাউজ ভবনের নিচতলায় রয়েছে বাংলাদেশী মালিকানায় রেস্টুরেন্ট, হালাল ফুড কর্নার, রয়েছে নামাজের জন্য মুসাল্লাহ এবং পার্কিং ব্যবস্থা।

অনলাইন কেনাকাটা সহ জাপানের যেকোন প্রান্তে পণ্য সরবরাহ করার ব্যবস্থা রাখা রয়েছে বলে উদ্যোক্তা ইয়াসমিন মনোয়ারা নদী জানান ।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.