হত্যার পর প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ ঝুলানোর অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখান উপজেলায় হত্যার পর প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। নিহতের নাম সখিনা আক্তার (২৮)।

শনিবার সকালে ওই গৃহধূর মরদেহ উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছেন।

নিহত সখিনা আক্তার সিরাজদিখান মালপদিয়া গ্রামের আব্দুল মন্নাফ দেওয়ানের মেয়ে ও একই উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম মালপদিয়া গ্রামের স্পেন প্রবাসী মুক্তার হোসেনর স্ত্রী।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, তিন বছর আগে সখিনা আক্তারের সঙ্গে মালপদিয়া গ্রামের স্পেন প্রবাসী মুক্তার হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের কোনো সন্তান নেই। আপন বড় ভাইয়ের দুই সন্তান সিজান ও সিফাতকে ছেলে সাজিয়ে স্পেন নেওয়ার কথা নিয়ে বড় ভাইয়ের স্ত্রী সালমা বেগমের সঙ্গে প্রায়ই কথা কাটাকাটি হতো সখিনার।

এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়। বেশ কয়েকবার পারিবারিকভাবে বিষয়টির সমাধানও হয়। এরই জের ধরে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে স্বামীরবাড়িতে আবারও ঝগড়া শুরু হয়।

এরপর রাতেই তাদের কাঠের পাটাতনঘরে ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় সখিনার লাশ দেখতে পান বাড়ির লোকজন।

নিহতের পরিবারের দাবি, হত্যার পর সখিনার মরদেহ ঘরের আড়ার ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দিয়েছেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুল মালেক বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

নিহত সখিনার ভাই আব্দুল মালেক বলেন, বিয়ের পর থেকে আমার বোনকে কারণে-অকারণে নির্যাতন করতেন মুক্তার ও তার পরিবার। এ নিয়ে বহুবার পারিবারিক মীমাংসা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুনেছি শুক্রবার রাতে বোনকে বেদম মারপিট করেন তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তারপর তাকে মেরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেন। আমরা এলাকার লোকের মুখে শুনে বোনকে দেখতে যাওয়ার পথে পাওয়ার হাউজের সামনে যাই; তবে তার আগেই আমরা বোনের লাশ রেখে ওর শশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়।

এরপর সখিনার লাশ নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান শেখ করিম হাজীর বাড়িতে যাই। এরপর চেয়ারম্যান সখিনার লাশ তার শশুরবাড়ি নিয়ে বিষয়টি পুলিশে খবর দেন।

সিরাজদিখান থানার ওসি বোরহান উদ্দিন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় শ্বশুড়বাড়ির লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। এ কারণে কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.