ফেরিঘাট সরানো পদ্মা সেতুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: প্রকৌশলী

তানজিল হাসান: পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার জন্য ফেরিঘাট স্থানান্তরের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিও দেওয়া হয়েছে পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতরে। তবে ফেরিঘাট স্থানান্তর পদ্মা সেতুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে জানিয়েছেন সেতু প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। ফেরিঘাট স্থানান্তরের সুপারিশের যৌক্তিকতা নিয়ে স্বয়ং বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান বলছেন, ‘ঘাট সরানো অযৌক্তিক। এত কোটি টাকা খরচ করে ঘাট সরানো ঠিক হবে না।’

গত শুক্রবার (২৩ জুলাই) রো রো ফেরি শাহজালাল পদ্মা সেতুর ১৭ নম্বর পিলারে ধাক্কা দেওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)।

আগামী বছর পদ্মা সেতু উদ্বোধনের কথা (ছবি সংগৃহীত)

রবিবার (২৫ জুলাই) ইস্যু করা বিআইডব্লিউটিসির চিঠিতে বলা হয়, দেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে অনতিবিলম্বে শিমুলিয়া ফেরিঘাট পুরাতন মাওয়া ঘাটে অথবা বাংলাবাজার ঘাটটি মাঝিরকান্দির ঘাটে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা যেতে পারে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে পরবর্তী করণীয় কি হবে তা পরে জানানো হবে।’

এদিকে, ফেরিঘাট স্থানান্তর পদ্মা সেতুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে বলে জানিয়েছেন সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী (নদীশাসন) মো. শরফুল ইসলাম সরকার।

ফেরির ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত পিলার

তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালের ১০ নভেম্বরের চুক্তি অনুসারে নদীশাসন কাজের জন্য চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশনকে পুরাতন মাওয়া ফেরিঘাট এলাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ সালে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়। নদীশাসন কাজ শেষে তারা আমাদের ওই জায়গা বুঝিয়ে দেবে। এখন পুরাতন মাওয়া ঘাটে যদি ফেরিঘাট স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে দুই-তিন মৌসুম নদীশাসনের কাজ করা যাবে না। কারণ ফেরিঘাট স্থাপন করতে মাটি ভরাট কাজসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ করতে হবে। সেক্ষেত্রে নদীশাসনের কাজের ড্রেজার, বার্জ পরিবহনে সমস্যা হবে। নদীশাসনের কাজ বন্ধ থাকলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। অন্যদিকে যদি দুই-তিন বছর নদীশাসনের কাজ করা না যায় এবং মাওয়া প্রান্তে নদীভাঙন শুরু হয়, তাহলে ঝুঁকির মধ্যে পড়বে পদ্মা সেতু।’

শরফুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘ঘাট স্থানান্তর কাজ সম্পন্ন করতে এক বছর সময় লাগবে। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হতে লাগবে ১১ মাস। হিসাবে ঘাট স্থানান্তরের কাজ শেষ হওয়ার আগেই পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাবাজার ঘাটকে মাঝিকান্দির ঘাটে স্থানান্তর করা হলে অনেক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া লাগবে। ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে নদীশাসন কাজের সুবিধার জন্য প্রায় ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাঁঠালবাড়ি ঘাট থেকে বাংলাবাজার স্থানান্তর করা হয়েছিল।’

পদ্মা সেতুর পিলারে ধাক্কা দেয় ফেরি শাহ জালাল

অন্যদিকে, আগামী বছর পদ্মা সেতু উদ্বোধনের কথা। যদি আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়, তাহলে এত টাকা খরচ করে নতুন ঘাট নির্মাণ কতটুকু যৌক্তিক এমন প্রশ্নের জবাবে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘাট সরালে পদ্মা সেতুর নদীশাসন ব্যাহত হবে। এত কোটি টাকা খরচ করে ঘাট স্থানান্তর ঠিক হবে না।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু পদ্মা সেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সেহেতু তদন্ত কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষাপটে ঘাট সরানোর সুপারিশের চিঠি পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দফতরে পাঠানো হয়েছে। এখন যদি মন্ত্রণালয় প্রয়োজন মনে করে, তাহলে ঘাট সরানোর সিদ্ধান্ত নেবে। সুপারিশ নাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। সেতু কর্তৃপক্ষ ৪ নম্বর পিলার থেকে ১২ নম্বর পিলার পর্যন্ত ফেরি চলাচলের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। ফেরিচালকরা সেদিক দিয়েও সতর্কতার সঙ্গে চলতে পারেন।’

বাংলা ট্রিবিউন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.