শ্রীনগরে কচ্ছপ গতিতে সেতু নির্মাণ, বিকল্প রাস্তার অভাবে জনদুর্ভোগ

শ্রীনগর উপজেলার বিবন্দী-বাড়ৈগাঁও নামক এলজিইডি সড়কের কুকুটিয়া ইউনিয়নের বিবন্দী ও টুনিয়ামান্দ্রা গ্রামের সীমানাবর্তী স্থানে ২৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যায়ে কচ্ছপ গতিতে একটি সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হলেও চলাচলের জন্য কোনো বিকল্প রাস্তা তৈরি করা হয়নি। এতে করে গত ৪/৫ মাস যাবত বিকল্প রাস্তার অভাবে হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। গত কয়েকদিনে পানি বৃদ্ধির কারণে সড়কটির যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়।

অপরদিকে, সেতু নির্মাণ কাজে নিম্নমানের উপকরণ সামগ্রী ব্যবহার ও বিকল্প রাস্তা না করার অভিযোগ উঠে মেসার্স খান ট্রেডার্স ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার আব্দুল জহির খান অটলের বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের বিষয়ে গত ১৫ জুলাই বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. রাজিউল্লাহ্ সেতু নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন সেতুটি ঢালাইয়ের অপেক্ষায় আছে। ঢালাইয়ের জন্য সড়কের পাশেই রাখা হয়েছে নিম্নমানের মাটিযুক্ত পাথর ও বালু। সেতুর উত্তর পাশ দিয়ে মানুষ চলাচলের জন্য যথাযথভাবে কোনো বিকল্প রাস্তা করা হয়নি। এতোদিন অটোরিকশা, ভ্যান গাড়ি ও মোটরসাইকেল ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাতায়াত করলেও এখন নির্মাণাধীন সেতুর দক্ষিণ ও উত্তর পাশ পানিতে ডুবে গেছে। এতে কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয়রা হাঁটু পানি ভেঙে চলাফেরা করছেন।

এলাকাবাসী জানায়, প্রায় ৫ মাস যাবত সেতুটির নির্মাণ কাজ চলছে। গাড়ি ও মানুষের চলাচলের জন্য কোনো রাস্তা বানানো হয়নি। ঈদের আগের ২ দিন আগে ১০ থেকে ১২ জন স্থানীয় যুবক মাটি ফেলে বালু হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য বিকল্প রাস্তাটি উপযোগী করার চেষ্টা করে। গত ৩ দিন ধরে চলাচলের স্থানটি ডুবে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই অঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ এখন বাধ্য হয়েই অন্যান্য রাস্তায় যাতায়াত করছে। এতে তাদের সময় অপচয় হওয়ার পাশাপাশি অধিক ভাড়া গুনতে হচ্ছে জানান তারা।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, সেতুটির নির্মাণ কাজের তদারকীর দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী নুর মোহাম্মদ। গত কয়েকদিন ধরে তিনি অন্যত্র বদলী হয়ে যায়। এখন কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে অপর সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মমিন আলীকে। সেতুটির নির্মাণ কাজের মেয়াদকাল বাকি প্রায় ১ মাস। সঠিক তদারকীর অভাবে সেতু নির্মাণ কাজে অনিয়ম ও বিকল্প রাস্তার অভাবে মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

জানা গেছে, গত কয়েক মাসে বিকল্প রাস্তার অভাবে এখানে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বিবন্দীর এক নারীর পাজরের ৫/৬টি হাড় ভেঙে যায়। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে এখানে রাস্তার অভাবে অটোরিকশা ও ভ্যান গাড়ি উল্টে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোহাম্মদ মমিন আলী জানান, এ বিষয়ে তিনি অবগত। তাকে নতুন করে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ঠিকাদারকে বলা হয়েছে নিম্নমানের উপকরণ সামগ্রী পালটানোর জন্য। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বিকল্প রাস্তার বিষয়ে আলোচনা করা হবে। এ বিষয়ে জানতে মেসার্স খান ট্রেডার্সের কর্ণধার আব্দুল জহির খান অটলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

নিউজজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.