শ্রীনগরে নৌকা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা

গ্রামগঞ্জের খাল-বিল ও নদী-নালায় বর্ষার পানি দিনদিন বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে নৌকার চাহিদা বাড়ছে। এতে বর্সার মৌসুমকে সামনে রেখে স্থানীয় হাটে বাজারে নৌকা বিকিকির পাশাপাশি কাঠ মিস্ত্রিরাও এসব নৌকা তৈরীর কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করেন। এছাড়াও স্থানীয় অনেকেই আছেন পুজি খাটিয়ে নৌকার তৈরীর উপকরণ সামগ্রী কিনে অভিজ্ঞ কাঠ মিস্ত্রি দ্বারা বিভিন্ন আকার ও সাইজের কোষা নৌকা তৈরী করে পাইকারীভাবে বিক্রি করছেন।

এমনটাই লক্ষ্য করা গেছে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কাঠ মিস্ত্রিরা নৌকা তৈরী করে দিন পাড় করছেন।

উপজেলার তিন দোকান, পাটাভোগ, কুকুটিয়া, রানা, সাতগাঁও, ষোলঘরসহ বিভিন্ন রাস্তার পাশে কাঠ মিস্ত্রিরা কোষা নৌকা বানাচ্ছেন। এসব নৌকা তৈরী কাজে প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করছেন চামবল, মেহগনি, কড়ইসহ অন্যান্য জাতের কাঠ। ৪/৫ জন কারিগর মিলে দৈনিক ৩ থেকে ৪টি ডিঙ্গি কোষা তৈরী করা হচ্ছে। ৮ হাত দীর্ঘ একটি নৌকার পাইকারী দাম ধরা হচ্ছে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। আকার ও সাইজ অনুসারে এসব নৌকার দাম কম বেশী হতে পারে। দেখা গেছে, পুর্ব পাটাভোগের নজরুল নামে এক ব্যক্তি বেশ কয়েকজন কাঠ মিস্ত্রি নিয়ে সকাল-সন্ধ্যা নৌকা তৈরীর কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। কাঠ মিস্ত্রি জাহিদুল জানান, নৌকার চাহিদা থাকায় বর্ষায় তারা রোজ চুক্তিতে নৌকা তৈরীর কাজ করেন। একাজে তারা ৪/৫ জন মিলে প্রতিদিন বেশ কয়েকটি কোষা নৌকা বানাতে পারেন। তাদের তৈরীকৃত নৌকা পাইকারী দরে শ্রীনগর দেউলভোগ নৌকার হাটসহ অন্যান্য হাটেও বিক্রি হচ্ছে।

জানা গেছে, সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার শ্রীনগরের দেউলভোগ নৌকার হাটে প্রায় শতাধিক রেডিমেট নৌকা বিকিকিনি হচ্ছে। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী লৌহজং উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোয়ালীমান্দ্রা হাটেও নানা ধরনের নৌকা বিক্রি বিকিকিনি হয়ে থাকে। বর্ষা এলেই এসব নৌকা তৈরী কাজে কাঠ মিস্ত্রিদের অনেকাংশেই কদর বাড়ে। একজন কারিগরের সর্বনি¤œ দৈনিক মজুরি ধরা হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা করে।

ষোলঘর এলাকার নৌকা ব্যবসায়ী মো. সোহেল বলেন, কাঠের মান ও সাইজ অনুসারে রেডিমেট এসব কোষা নৌকার দাম নির্ধারণ করা হয়। কাঠের মান ও আকার অনুসারে রেডিমেট এসব নৌকা সর্বোনি¤œ ২ হাজার ৫শ’ থেকে শুরু করে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। এছাড়াও ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী নৌকা তৈরী অর্ডার নেওয়া হয়।

এব্যাপারে দেউলভোগ নৌকা হাটের ইজারাদার মো. সাগর জানান, জেলায় ঐতিহ্যবাহী দেউলভোগ নৌকার হাটটির ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। এই অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠির বড় একটি অংশ বর্ষার কয়েক মাস যাতায়াতের জন্য নৌকার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এদের অনেকেই এই হাটে নৌকা কিনতে আসেন। প্রত্যেক মঙ্গলবার সাপ্তাহিক নৌকার হাট বসলেও প্রতিদিনই এখানে নৌকা বিকিকিনি হচ্ছে।

নিউজজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.