সবুজ টিনের ছাউনিতে স্বপ্ন ভূমিহীন ৫০ পরিবারের

সবুজ টিনের ছাউনি এগুলো একটু একটু করে উকি দিচ্ছে, আর গৃহহীন মানুষগুলোর মুখে ফুটে উঠছে হাসির ঝিলিক। দুই চোখে স্বপ্ন ছিল পাকাবাড়িতে বসবাস, আর একটু নিজ নামে জায়গা বা সম্পত্তির। এখন খুঁজে পেয়েছেন তার কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের ঠিকানা, বিনামূল্যে মাথাগোজার এই পাকা ঘর পেয়ে খুশি হতদরিদ্ররা প্রাণ ভরে দোয়া করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য।

কেয়াইন ইউনিয়নের হাজিগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পে জায়গা এবং ঘর পেয়েছেন প্রতিবন্ধী রবি দাসী। দেড় বছর বয়সে টাইফয়েডে তার দুটি পা নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর এতদিন বাবা-মার সঙ্গে কষ্ট করে দিনাতিপাত করেছেন। হাজিগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে কেমন আছেন জানতে চাইলে রবি দাসী হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। ওড়না দিয়ে মুখ মুছতে মুছতে বললেন, ‘জীবনে স্বপ্নেও ভাবি নাই আমি ঘরের মালিক হমু, জায়গার মালিক হমু, খাই বা না খাই নিজের ঘরে শান্তিতে ঘুমামু। এসব আমাদের মতো গরিবের কাছে ছিল দুঃস্বপ্ন, শেখ হাসিনার উপহার নতুন ঘরের মালিক হইছি,

সিরাজদীখানের বালুচর ইউনিয়নের কয়রাখোলা আশ্রয়ণ প্রকল্প। ইনসেটে হাজিগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগী প্রতিবন্ধী রবি দাসী – সমকাল

২ শতাংশের জায়গার মালিক হইছি। শান্তিতে বসবাস করছি। স্বপ্নের মতো মনে হয়।’ শুধু রবি দাসী নন, বালুচরের কয়রা খোলার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বিধবা মিনু বেগম, মালখানগরের ফুরশাইলের আশ্রয়ণ প্রকল্পের গৃহকর্মী নুরুর নেছা, কেয়াইন ইউনিয়নের ইসলামপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের রিকশাচালক বিপ্লবের মতো অনেক উপকারভোগী প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। সিরাজদীখানে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার ৫০টি ঘর এখন দৃশ্যমান।

মুজিব শতবর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ভূমিহীন ও গৃহহীন ৫০টি পরিবারের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। বাকি ৫০টি সেমিপাকা ঘর নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। উপজেলা চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে খাসজমির ওপর গৃহনির্মাণ করে জমির দলিলসহ ৫০টি উপকারভোগীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গৃহহীনদের যে জায়গা দেওয়া হয়েছে তার বাজার মূল্য প্রায় ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা। ‘

ইউএনও সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্যও সুন্দর মনোরম পরিবেশে মানসম্মত ৫০টি পাকাবাড়ি নির্মাণ করে ২ শতক জমিসহ ঘরের কবুলিয়ত দলিল, নামজারি খতিয়ান, রেকর্ড সংশোধনী ফি জমা দানের ডিসিআর, সার্টিফিকেট, দাখিলা ইত্যাদি প্রাপকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

সমকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.