সিরাজদিখানে তাতি লীগ সভাপতির দৌরাত্ম্যে এলাকাবাসীর ক্ষোভ

নাছির উদ্দিন: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে লতব্দী ইউনিয়ন তাতি লীগ সভাপতির অত্যাচার অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয়রা। ইউনিয়নের দক্ষিণ গোডাউন বাজার গ্রামে চাঁদাবাজি, ফসিল জমির মাটি ব্যবসা, জোরপূর্বক অন্যের জমির মাটি কাটাসহ নানাবিধ অভিযোগ উঠেছে তাতিলীগের সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম জহিরের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, নানাভাবে এলাকার মানুষকে হয়রানি করে আসছে এই তাতি লীগ সভাপতি। তার বিরুদ্ধে সিরাজদিখান থানায় ডজন খানেকের বেশি অভিযোগ, জিডি ও ৬টি মামলা রয়েছে। বালুচরে হাউজিং ব্যাবসা নিয়ে মারামারিতে লোক সাপ্লাইও দিয়ে থাকেন এই নেতা। তিনি এলাকায় মদক ব্যাবসার শেল্টার দেন বলেও অভিযোগ করেছে অনেকেই। তার মতের বিরুদ্ধে গেলে এলাকায় ব্যাবসা বানিজ্যও করতে দেন না। কিন্তু তার ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে চান না।

ভুক্তভোগী মেসার্স ন্যাশনাল ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং এন্ড কোং এর স্বত্বাধিকারী মো. বরকতুল্লাহ ও পরস মিয়া বলেন, জহির বাহিনী আমাদের ইট ভাটায় তাদের থেকে মাটি নিতে বলে। কিন্তু বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশী দামে। আমরা তার থেকে মাটি নিতে রাজি না হওয়ায় তারা আমাদের বলে মাটি না নিলে বাৎসরিক ৩০ লাখ টাকা করে তাদেরকে চাঁদা দিতে হবে। আমরা তাদের চাঁদা না দেয়ায় এখন আমাদেরকে বাজারে ঢুকতে দেয় না। আমাদের ইটভাটা থেকে ইট বিক্রি করলে মাল নিয়ে কোন গাড়ি বের হতে দেয় না। রাস্তায় গাড়ী আটকিয়ে ইট নামিয়ে রাখে। ড্রাইভার ও কর্মচারীদেরকে মারধর করে। আমরা নিজেরাও জহির বাহিনীর ভয়ে একা এলাকা থেকে বের হতে পারি না।

অরেক ভুক্তভোগী লোকমান বলেন, আমি বিদেশ থেকে এসে আমার নিজের জমির কিছু মাটি বিক্রি করে দেই। মাটি ট্রাকে করে ইটভাটায় পৌঁছাতে গেলে জহির বাহিনীর লোকজন আটক করে। পরে তারা বলে এই রাস্তা দিয়ে মাটি নিতে হলে আমাদেরকে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হবে। আমি চাঁদা না দেওয়ায় তারা আমার ১৫ ট্রাক মাটির তাদের খোলায় নিয়ে যায়।

লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম সোহরাব হোসেন বলেন, আমি তার বিষয়ে কোন মন্তব্য করব না তবে স্থানীয়রা মিথ্যা বলেনি। আমার লতব্দীতে তারা একটি সরকারী বিদ্যুতের টাওয়ারের নিচে মাটি কেটে নেয়ার সময় সরকারি টাওয়ার রক্ষায় আমি সেখানে বাধা প্রদান করি। সাংবাদিকদেরকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনও করি। তবে কর্তৃপক্ষ সে ব্যাপারে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

জহিরের চাচা নুরুল ইসলাম বলেন, জহির ৭ বছর ধরে আমার জমি ভড়া নিছে। ৪বছর ধরে আমাকে কোন ভড়া দেয়া না। এখন জোর করে আমর প্রায় ৪বিঘা যায়গার মাটি কেটে স্টাইক দিয়ে রাখছে। আমি এ বিষয়ে থানায় কয়েকটা জিডি ও অভিযোগ করেছি। আমি সাড়ে ৪মাস ধরে এলাকা ছাড়া। জহির ও ওর ভাইদের ভায়ে নিজের বাড়িতেও থাকতে পাড়ছি না। আমি এখন মুন্সীগঞ্জে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকি।

তাতিলীগের সভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম জহির বলেন, আমি গাড়িতে আছি। সন্ধ্যায় আমার ভাটায় আসেন সেখানে বসে কথা বলি।

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বলেন, জহির ও বরকতের সাথে জমি নিয়ে বিরোধের চলে আসছিল। ভৌগোলিক গত কারনে জহিরের বাড়ির সামন দিয়ে বরকতদের যেতে হয়। তাই প্রায় জহিরের লোকজন বরকতদের লোকজনকে মারধর করে। এ পর্যন্ত জহিরের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.