ওয়ার্ডে চাপ কমেছে, আইসিইউ ঠাসা

নাকে অক্সিজেনের নল লাগানো। তবু খুব কষ্ট করে শ্বাস নিতে হচ্ছে সানা বালা সরকারকে। করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করার শেষ শক্তিটুকুও ফুরিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে ভিডিও কলে ঠাকুরমার সেই মুমূর্ষু অবস্থা পরিবারকে দেখাচ্ছিলেন নাতনি বিপাশা সরকার। অনেক ডাকাডাকির পর দু-একবার চোখ মেলে তাকালেও ক্ষণিকের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সানা বালার ক্লান্ত চোখ।

kalerkanthoগতকাল রবিবার রাজধানীর মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে এভাবেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করতে দেখা যায় সানা বালাকে। ৭৮ বছর বয়সী এই নারীকে গত শনিবার মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকায় নিয়ে আসে তাঁর স্বজনরা। ভর্তি করে মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সানা বালার জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) দরকার। তবে এই হাসপাতালে আপাতত ফাঁকা নেই আইসিইউ শয্যা। তাই এখন আইসিইউতে ভর্তি অন্য রোগীর সুস্থ হওয়া কিংবা মৃত্যুর খবর জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সানা বালার স্বজনদের জন্য। একই সঙ্গে খোঁজ রাখছে কভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত রাজধানীর অন্য সরকারি হাসপাতালগুলোতে।

মুগদা হাসপাতালের আটতলায় মহিলা ওয়ার্ডের ৮০৬ নম্বর কক্ষে চিকিৎসাধীন সানা বালা। বাইরে একটি সোফায় বসে ছিলেন তাঁর নাতি বিপ্লব সরকার। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘এখানের চিকিৎসকরা আমাদের বলে দিয়েছেন যেকোনোভাবে আইসিইউ ম্যানেজ করতে। এখনো কোথাও পাইনি। সব জায়গায় খুঁজেছি।’ এমন সময় সেখানে আসেন তাঁর মা আলো রানী সরকার (সানা বালার মেয়ে)। তিনি বলেন, ‘শুনছি কিছুক্ষণ আগে আইসিইউতে একজন মারা গেছে। তবে আমরা সেই বেডটা পাব কি না জানি না। বেডের জন্য অন্যরাও লাইন দিয়েছে। এটা না পেলে আবারও অপেক্ষা করতে হবে কখন আরেকটা বেড খালি হয়।’

সানা বালার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ঢাকায় তাদের থাকার মতো তেমন কোনো জায়গা নেই। ফলে হাসপাতালেই দিন কাটছে। পাশের ৮০৫ নম্বর কক্ষে করোনা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন আরেক নারী রহিমা বেগম (৭৫)। নারায়ণগঞ্জ থেকে গত ৯ আগস্ট জ্বর আর প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকার এই হাসপাতালে আনা হয়েছে তাঁকে। পরীক্ষায় কভিড ধরা পড়ে। তাঁর ছেলে ফরহাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আইসিইউ তো দূরের কথা, আমরা সাধারণ বেডই পাচ্ছিলাম না। অনেককে ধরাধরি করে অবশেষে একটা বেড ম্যানেজ করতে পেরেছি।’

মুগদা হাসপাতালে মোট সাধারণ শয্যা ২৮৭টি। এর মধ্যে বর্তমানে ফাঁকা আছে ২৬টি। অন্যদিকে ২৫টি আইসিইউ এবং ১০টি হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) শয্যার একটিও ফাঁকা নেই।

হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. অসীম কুমার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগের চেয়ে রোগীর চাপ কম। বিশেষ করে জেনারেল বেডে রোগী ভর্তির পরও এখন ২০-২৫টি বেড ফাঁকা থাকে। তবে আমাদের আইসিইউ ফাঁকা থাকে না। যদিও আগের চেয়ে আইসিইউ বেডের জন্য ওয়েটিং সিরিয়াল একটু কমেছে।’

কালের কন্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.