খান বাড়ি মুন্সীগঞ্জ

ফেরদৌস ওয়াহিদ: এ নামটির সঙ্গে আমি বহুল পরিচিত। আতিকউল্লাহ খান মাসুদ সাহেব অতি পরিচিতজন। আমরা দুজনই বিক্রমপুরের অধিবাসী। আমার থানা শ্রীনগর আর ওনার থানা লৌহজং। ব্যক্তি জীবনে আমরা দুই ধারার মানুষ। উনি একজন সফল ব্যবসায়ী আর আমি একজন গায়ক। পার্থক্য হলো উনি এখন আর জীবিত নেই আর আমি আল্লাহর অশেষ কৃপায় এখনও বেঁচে আছি। সব কিছুর পরও আমরা ছিলাম তাই বন্ধু। আসা যাক খান বাড়ি সম্পর্কে। সম্ভবত, বিক্রমপুরের খুব কমসংখ্যক মানুষই হয়ত এই খান বাড়ির নাম শোনেনি বা জানে না। শ্রীনগর থেকেই শুরু করা যাক। অন্ধের মতো যে কাউকেই জিজ্ঞেস করলেই এ বাড়ির ঠিকানাটা খুব সহজেই বলে দেবে। যেমন পুরনো আভিজাত্য, তেমনই রাজনীতির ছোঁয়া আর ব্যবসার ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এ খান বাড়ি। আমার সঙ্গে আতিকউল্লাহ খান মাসুদ সাহেবের পরিচয় আমার এই সঙ্গীত জীবন থেকেই। ঠিক যেন জমিদারি মেজাজে আপন মনে গান শুনে যেত। গান শুনে প্রশংসার কৃপণতা কখনও তাঁর মাঝে দেখিনি। মগ্ন হয়ে অনুরোধ করত এ গান সে গান করতে। আমিও খুব খুশি হয়ে তার ইচ্ছাগুলোকে পূরণ করার চেষ্টা করতাম। কোন বিনিময় প্রথার জন্য আমি তাকে গান শোনাতাম না। গান শোনাতাম আমাকে একনিষ্ঠভাবে সম্মান ও ভালবাসার জন্য। মাসুদ সাহেবকে আমি বরাবরই পছন্দ করতাম বেশ কয়েকটি কারণে। একদম প্রথমেই বলব, উনি ছিলেন খুব বিনয়ী একজন মানুষ।

একজন পরোপকারী, অতিথিপরায়ণ, অত্যন্ত আন্তরিক। সঙ্গীত উপভোগ করার ব্যাপারে তিনি সর্বদাই উদার। ধীরে ধীরে তাঁর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বেড়েই চলল। খান বাড়িতে যতবার গিয়েছি ততবারই সকাল, দুপুর, বিকেল আপ্যায়নের ধরন দেখে মনে হতো আমি নিজেও যেন এক জমিদার হয়েই দাওয়াতে এসেছি। আহ্্ কি বিভোর থাকতাম আপ্যায়নে। ছয় ইঞ্চি টুকরো পদ্মার তাজা ইলিশ মাছ, দোপেঁয়াজো রুই মাছ, চিংড়ি মাছ, পাঙ্গাশ মাছ, যা আজও মুখে লেগে আছে।

এখানে একজন চরিত্রকে না আনলেই নয়, নাম মিতু। থাকে আমেরিকার হলিউডখ্যাত লস এ্যাঞ্জেলসে। মাসুদ ভাই ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে তাঁর যে কি গভীর সম্পর্ক ছিল তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করার কোন উপায় নেই। এই মিতু যখনই সুযোগ পেত তখনই উড়াল দিয়ে ঢাকায় চলে আসত মাসুদ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য। ভালবাসার এই নিদর্শন আমার জীবনে খুব কম দেখেছি। আমি যখনই জনকণ্ঠ ভবনে তাঁর অফিস কক্ষে যেতাম, চলত নানা বিষয়ের আড্ডা, আর সেই সঙ্গে আসত বাহারি খাবার। বেঁচে থাকলে কতবার যাওয়া হতো নিজেও তা জানি না। বড় ভাল মানুষ ছিলেন আতিকউল্লাহ খান মাসুদ সাহেব। তাঁর দেখা না পেলেও যতদিন বেঁচে আছি তাঁর কথা ভুলতে পারব না।

হে মহান খোদা তোমার কাছে কামনা করছি তুমি যেভাবেই রাখো মাসুদ সাহেবের রুহকে শান্তিতে রেখ। আমিন।

লেখক : সঙ্গীতশিল্পী

জনকন্ঠ
ছবিঃ সংগৃহিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.