থানায় চোখ বেঁধে নির্যাতন, এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

থানায় নিয়ে চোখ বেঁধে নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার উপপরিদর্শকসহ (এসআই) পাঁচ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (০৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ আদালতে মো. রিপন শেখ বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৬-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল ইউসুফ মামলাটি গ্রহণ করেন।

আদালতের ব্রেঞ্চ সহকারী মো. রুবেল বলেন, আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছেন। বুধবার লৌহজং থানাকে এফআইআর গ্রহণের নির্দেশ পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

মামলার আসামি হলেন উপপরিদর্শক আবু তাহের মিয়া (৪০), মো. রাজন (২৬), রুবি আক্তার (৩৫), চম্পা বেগম (৩৮) ও তুহিন (৩০)। এর মধ্যে দুই নম্বর আসামি রুবি আক্তার মামলার বাদী রিপন শেখের স্ত্রী। রিপন শেখ লৌহজং উপজেলার কুমারভোগ পুনর্বাসন কেন্দ্রের মৃত সাহেদ শেখের ছেলে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, রিপন শেখের স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন বনিবনা হচ্ছিল না। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে রুবি আক্তারের ভাই ও বোন মিলে রিপন শেখের বাড়িতে এসে মারধর করে। একই দিন এসআই আবু তাহের মিয়া সাদা পোশাকে রিপনকে বাড়ি থেকে জোর করে থানায় নিয়ে যান। পরে চোখ-মুখ বেঁধে মারধর করে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। রিপন চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে এসআই আবু তাহের শেখ আরও মারধর করেন।

মুন্সীগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রোজিনা ইয়াসমিন বলেন, রিপনকে যখন ধরে নিয়ে যায় তখন প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশের পরিচয় জানতে পারেনি। থানায় নিয়ে ৩-৪ ঘণ্টা নির্যাতন করে ছেড়ে দেওয়ার পর পুলিশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। ভুক্তভোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।

মামলার বাদী রিপন শেখ জানান, থানায় নিয়ে তার পায়ের তালুতে আঘাত করা হয়। দেয়ালে ঠেকিয়ে আঘাত করা হয় শরীরের বিভিন্ন স্থানে। রক্ত বের হয়। স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। থানায় নির্যাতন করায় ভয়ে অভিযোগ দিতে যাইনি। এ জন্য আদালতে মামলা করেছি।

লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসাইন বলেন, থানায় এনে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। আদালতের নির্দেশনা থানায় আসেনি।

বাংলা ট্রিবিউন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.