নদী দখলকারী প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির বদলে পুরষ্কৃত করল মন্ত্রণালয় (ভিডিও)

পিনাকী রায়, সাজ্জাদ হোসেন: জেলা প্রশাসন ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন প্রতিষ্ঠানটিকে চিহ্নিত করেছিল মুন্সিগঞ্জের শীর্ষ নদী দখলকারী হিসেবে। তা সত্ত্বেও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন জাহাজনির্মাণ চুক্তির ভেতর দিয়ে এর বাণিজ্যিক কলেবর বাড়াতে সহযোগিতা করছে।

থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিন লিমিটেড নামের এ জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানটি গজারিয়া উপজেলায় মেঘনা ও ফুলদি নদীর কিছু অংশ দখল করে নিয়েছে।

২০১৯ সালে নদী দখলকারীদের ওপর মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিন ৪ দশমিক ৩১ একর নিচু জমি ও খাল দখলের পাশাপাশি নয়ানগর মৌজায় ফুলদি ও মেঘনা নদীর প্রায় এক একর জায়গা দখল করেছে।

নদী রক্ষা কমিশনের জন্য এই তালিকা তৈরি পর দুই বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কোনোটিই ওই জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। সেই সঙ্গে নদীর দখলকৃত অংশ পুনরুদ্ধারের ব্যাপারেও কিছু করেনি।

বিপরীতে, জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানটি জলাশয় সংলগ্ন আরও অনেক ভূমি দখলের দুষ্কর্ম অব্যাহত রেখেছে।

সম্প্রতি সরেজমিন পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিন মেঘনা ও ফুলদির সঙ্গমস্থলে একটি শিপইয়ার্ড স্থাপন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি মেঘনার ভেতরের অংশ ভরাট করে ফুলদির ভেতরে বেড়া দিয়েছে। যা সরু নদীটিকে করে তুলেছে আরও বেশি সংকীর্ণ।

পাখির চোখে দখলচিত্র: মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মেঘনা ও ফুলদি নদীর কিছু অংশ দখল করে গড়ে তোলা শিপইয়ার্ড। জেলা প্রশাসন ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন এই জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিন লিমিটেডকে মুন্সিগঞ্জের শীর্ষ নদী দখলকারী হিসেবে চিহ্নিত করলেও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে নতুন জাহাজ নির্মাণের চুক্তি করেছে। ছবি: সংগৃহীত

এ ছাড়াও চোখে পড়ে, ফুলদি বরাবর শিপ ইয়ার্ডের একটি কোণে গড়ে তোলা খামারে চরে বেড়াচ্ছে কয়েক’শ হাঁস। আর ইয়ার্ডে ভাসমান জাহাজগুলির মধ্যে কমপক্ষে নয়টি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি)। যে দুটি সংস্থাই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন।

যোগাযোগ করা হলে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিনকে একটি ভালো জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করেন। দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে নদী দখলের অভিযোগের ব্যাপারে আমি অবগত ছিলাম না। আমি কেবলই বিষয়টা জানতে পেরেছি ও গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি। আমরা অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’

থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিনের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুসারে, প্রতিষ্ঠানটি এই মুহুর্তে বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির জন্য একটি টাগবোট, পাঁচটি ক্রেনবোট, একটি ক্রু হাউসবোট, পাঁচটি বার্জ, ছয়টি অ্যালুমিনিয়ামের নৌকা ও একটি প্রশিক্ষণ জাহাজ তৈরি করছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি দুই সরকারি সংস্থার উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ও রুস্তম, ৭০০ যাত্রী ধারণ ক্ষমতার একাধিক জাহাজ এবং দুটি ফেরি মেরামতের কাজ করছে।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, বিআইডব্লিউটিএ নিজেই ২০২০ সালে থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিন কর্তৃক নদী দখলের বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছিল।

সংস্থার তৎকালীন যুগ্ম পরিচালক (টাস্কফোর্স) সাইফুল হক খানের নেতৃত্বাধীন ওই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিন ফুলদির ৬ দশমিক ৭২ একর জায়গা ভরাট করেছে। যা নদীর পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে এবং এ কারণে শেষ পর‌্যন্ত নদীটির মৃত্যুও হতে পারে।

এ ছাড়া জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানটি নদী তীরের ১২০ শতাংশ জায়গা, ১৩ দশমিক ৪৮ একর নিচু ভূমি ও ৩০ দশমিক ৫২ একর ব্যক্তিগত মালিকানার জমি দখল করেছে উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘বিষয়টাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন অধ্যাদেশ ১৯৭৬ অনুসারে, নৌপথ রক্ষায় বিআইডব্লিউটিএর অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা আছে।

চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানকে থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিনের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে- সে ব্যাপারে সুপারিশ করার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে এটি মেঘনা ও ফুলদির তীর বরাবর রেখা টানার নির্দেশ দেয়। যার কিছুই এখন পর‌্যন্ত করা হয়নি।

বিপরীতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আরও কিছু জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতের বিষয়ে থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিনের সঙ্গে চুক্তি করে তাদের পুরষ্কৃত করেছে।

গত ১২ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যানকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের ভাষ্য, ‘তারা (থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিন) মেঘনা ভরাট করেছে বিআইডব্লিউটিএর নাকের ডগায়। দেশের অভ্যন্তরীন নৌপথ রক্ষার দায়িত্ব যে কর্মকর্তাদের, তারা কীভাবে এটা করতে দিলেন?’

জমি ও খালের দখলচিত্র

প্রতিষ্ঠানটি একই সঙ্গে বোরোচক ও কমোরিয়া নামের দুটি খাল ও আবাদি জমিও ভরাট করেছে।

শিপইয়ার্ডটির দখলে বর্তমানে ১১০ একর জমি রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ৫০ একর জমি স্থানীয়দের কাছ থেকে কিনেছে। কৃষকদের মালিকানাধীন বাকি ৬০ একর জমিতে বালু ভরাট করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ওই ৬০ একর জমি ছিল গজারিয়া উপজেলার নয়ানগর, বালুরচর, গোসাইরচর, দৌলতপুর গ্রামের প্রায় ১০০ কৃষকের।

২০২০ সালে চার গ্রামবাসী নদী দখল ও জোর করে তাদের জমি ভরাট করার বিষয়ে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন (পিটিশন নম্বর ৮,৬৬৮) দায়ের করেন।

আব্দুস সাত্তার নামের দৌলতপুর গ্রামের একজন শিক্ষক জানান, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল উচ্চ আদালত এ বিষয়ে একটি রুল জারি করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলেন।

‘কিন্তু এখন পর‌্যন্ত কেউ তাতে সাড়া দেয়নি’- বলেন ওই শিক্ষক।

এ ব্যাপারে গ্রামবাসীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মানবন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছেন কয়েক বার।

নূর মোহাম্মদ নামের এক বৃদ্ধ কৃষকের অভিযোগ, থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিন তার ৪৬ শতাংশ জায়গা দখল করেছে। ভূমিহীন কৃষক হিসেবে যা তিনি সরকারের কাছ থেকে পেয়েছিলেন।

নূর মোহাম্মদে বলেন, ‘তারা আমার জমি বালু দিয়ে ভরাট করেছে। এটা দেখার কেউ নেই।’

দৌলতপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জামসেদ প্রধান বলেন, ‘কয়েক বছর আগে থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিন বালু দিয়ে আমার জমি ভরাট করা শুরু করে। ‘

একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি জোর করে নদী ও খাল দখল করে নিয়েছে মন্তব্য করে ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা আরও বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকগুলো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। কিন্তু তারা কিছুই করেনি।’

গজারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক আহমেদ নূর জানান, থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিন যেখানে শিপইয়ার্ডটি স্থাপন করেছে তার কিছু অংশ আবাদি জমি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কৃষকরা সেখানে বোরো ধান, আলু ও ভুট্টা চাষ করতেন।

গ্রামবাসীরা কেবল তাদের জমিই হারাননি। তারা দেখতে পাচ্ছেন, শিপইয়ার্ডটির কারণে তাদের জীবিকাও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আমির হোসেন, আরাফাত সরকার, আমান উল্লাহ, শহীদ উল্লাহ ও ইমন আলীর মতো অনেক মৎসজীবী জানান, ইয়ার্ড স্থাপনের পর থেকে তারা নদী থেকে মাছ কম পাচ্ছেন। নদীর পানির রঙও বদলে গেছে।

চাঁদপুর মৎস গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, ডকইয়ার্ড স্থাপনের জন্য মেঘনা খুব বাজেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যা মাছের অবাধ বিচরণের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গজারিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম জানান, এই দখলদারত্বের বিরুদ্ধে তিনি উপজেলা উন্নয়ন কমিটিসহ বিভিন্ন সংস্থার সভায় নানা সময়ে কথা বলেছেন। এ জন্য প্রতিবারই হত্যার হুমকি পেয়েছেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলার নদী রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী জানান, অবৈধভাবে নদী ও ভূমি দখলের জন্য থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিনকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নদী, খাল ও জমি দখলের কিছু প্রমাণও পাওয়া গেছে।

তবে সরকারি জমি ইজারা নেওয়ার জন্য থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিন এর মধ্যে আবেদন করেছে জানিয়ে ইউএনও জিয়া বলেন, ‘কিছু জমি তারা (থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিন) কিনেছে…একটা মামলা চলমান আছে, এ ক্ষেত্রে একটা ভ্রাম্যমাণ আদালত কোনো ব্যবস্থা নিতে পারে না।

নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরে বিআইডব্লিউটিএ কার‌্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল বলেন, মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসন সুপারিশ করলে অবৈধ নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা নদী রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক কাজী নাহিদ রসুল এ ব্যাপারে বলেন, ইউএনওকে থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগও এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। এখন তদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছেন তারা।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের স্থায়ী সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) কামরুন নাহার আহমেদ বলেন, থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিনের অন্যতম পরিচালক লোকমান হোসেন দাবি করেন, ফুলদি ও মেঘনা নদী দখলের অভিযোগ মিথ্যা। তার ভাষ্য, কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দখলদারদের তালিকায় থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিন লিমিটেডের নাম ঢুকিয়ে দিয়েছে। গত আগস্টে জায়গাটি পরিদর্শনের অনুরোধ জানিয়ে নদী রক্ষা কমিশনে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষকদের জমি দখলের অভিযোগও অস্বীকার করেন লোকমান হোসেন। বলেন, ‘জমি সংক্রান্ত অনেকগুলো মামলা বিচারাধীন আছে।’

এদিকে গত ৫ সেপ্টেম্বর একটি স্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞাপনে থ্রি অ্যাঙ্গেল মেরিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, যেহেতু প্রতিষ্ঠানটি সরকারের নৌপরিবহন খাতের জন্য কাজ করছে, সেহেতু এর ইয়ার্ড সম্প্রসারণ করা দরকার। তাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালকরা বর্তমান বাজারমূল্যে ইয়ার্ড সংলগ্ন জমি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ওই বিজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, যদি কেউ প্রতিষ্ঠানের দখলে থাকা জমি নিজের বলে দাবি করেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে সেগুলোও বর্তমান বাজারমূল্যে কেনা হবে।

প্রতিবেদনটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন মামুনুর রশীদ

ডেইলি ষ্টার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.