পুরুষের তুলনায় নারীপ্রধান পরিবারে দারিদ্র্য কম

দেশে পুরুষপ্রধান পরিবারের চেয়ে নারীপ্রধান পরিবারে অতি দারিদ্র্যের হার কম বলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এক অনুষ্ঠানে বিবিএসের ২০১৬ সালে পরিচালিত খানা আয়-ব্যয় জরিপের এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, নারীপ্রধান পরিবারে ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ অতি দরিদ্র। আর পুরুষপ্রধান পরিবারে অতি দরিদ্র ১৩ শতাংশ। দেশের অতি দারিদ্র্যসীমার নিচে গড়ে ১২ দশমিক ৯০ পরিবারে বাস করে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) সংস্থার সিনিয়র গবেষণা ফেলো ড. জুলফিকার আলীর নেতৃত্বে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের উদ্যোগে গৃহীত এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

জুলফিকার আলী প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলেন, দেশে সবচেয়ে কুড়িগ্রাম জেলায় অতি দরিদ্র্য মানুষের সংখ্যা বেশি। এই জেলায় অতি দরিদ্র পরিবার ৫৩ দশমিক ৯ শতাংশ। আর অতি দরিদ্রের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় জেলায় অবস্থানে দিনাজপুর ও বান্দরবান।

তবে নারায়ণগঞ্জ জেলায় একজনও অতি দরিদ্র পরিবার নেই। আর অতি দারিদ্র্যের হার কম দ্বিতীয় ও তৃতীয় জেলা- মুন্সীগঞ্জ ও মাদারীপুর।

এদিকে ধর্মীয় পরিচয়ে অতি দরিদ্র্যের একটি তথ্য প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা গেছে, অতি দরিদ্র সবচেয়ে কম মুসলিমদের মধ্যে। এই ধর্মে অতি দরিদ্র ১১ দশমিক ১০ শতাংশ। আর হিন্দু ও খৃস্টান ধর্মাবলম্বীরা দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছে। হিন্দু ১৩ দশমিক ৯০ এবং খৃস্টান ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ। বৌদ্ধ ধর্মে অতি দরিদ্র সবচেয়ে বেশি। এই ধর্মে অতি দরিদ্র ২২ দশমিক ৩০ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, সামাজিক যে সম্পদ আমাদের রয়েছে, যেমন- রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, খাল-বিল, নদী, পাহাড়সহ এ ধরণের সম্পদ ইজারা দেয়ার ক্ষেত্রেও পিছিয়েপড়া মানুষগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়ার মাধ্যমেই ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় কাজ আমরা করছি।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, বিআইডিএস মহা পরিচালক ড. বিনায়ক সেন ও বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিপিআরসি চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.