জুয়ায় ঋণের টাকা শেষ, ইজিবাইক ছিনতাই করে চালককে খুন

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার চাঞ্চল্যকর ইজিবাইকচালক শাহাবুদ্দিন শেখ হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা রাকিবকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে মুন্সিগঞ্জ আদালতে হাজির করা হলে খুনের দায় স্বীকার করেন তিনি। পরে মুন্সিগঞ্জ আমলি আদালত-৪ এর বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরফাতুল রাকিব তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার দুর্গম এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাকিবকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

র‌্যাব-১১ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আড়িয়লের উত্তর কুড়মিরা এলাকায় পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে শাহাবুদ্দিনের মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নিহতের বাবা মো. আবুল শেখ বাদী হয়ে টঙ্গিবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন।

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সংগ্রহসহ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেফতারের জন্য র‌্যাব-১১ এর একটি দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর র‌্যাব-১১ এর একটি দল হত্যাকাণ্ডে জড়িত মো. ইলিয়াস শেখকে (৩২) শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তার দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারী মো. রাকিব (২৬)। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। পরে হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১ বছর ৪ মাস পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, রাকিবের মামা ইলিয়াস শেখ ব্যবসার জন্য এনজিও থেকে ২৫ হাজার টাকা ঋণ নেন। পরে জুয়া খেলে সেই টাকা শেষ করে ফেলেন। রাকিব ও ইলিয়াস সেই ঋণ পরিশোধের জন্য ইজিবাইক ছিনতাই করার পরিকল্পনা করেন। পরে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী তালের শাঁস কিনবে বলে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ভাড়া করেন। পরে রাকিব ও ইলিয়াস ছিনতাই ও হত্যার উদ্দেশ্যে ইজিবাইকচালক শাহাবুদ্দিকে কৌশলে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে প্রথমে রাকিব ও তার সহাযোগী ইলিয়াস গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে দুই দিক থেকে দুইজনে টেনে শ্বাসরোধে শাহাবুদ্দিনকে হত্যা করেন। পরে তালের শাঁস কাটার ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

পরে ২৭ ডিসেম্বর ইলিয়াস শেখকে গ্রেফতার করার পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী র‌্যাব-১১ এ হত্যায় ব্যবহৃত দা, ভিকটিমের মোবাইল ও ইজিবাইক উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর রাকিব গ্রেফতার এড়াতে গাজীপুরে আত্মগোপন করেন। এ সময়ে তিনি ইজিবাইক চালক, রাজমিস্ত্রি, ট্রাকের হেলপারসহ বিভিন্ন ধরনের পেশা বদল করেন। গাজীপুর জেলার কোনাবাড়ি, এনায়েতপুর, কাপাসিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় স্থান পরিবর্তন করেন। গত ১৪ জুলাই তিনি বিয়ে করেন। স্ত্রীকে নিয়ে গাজীপুরের কাপাসিয়ার একটি দুর্গম এলাকায় বসবাস করছিলেন রাকিব।

ঢাকা পোষ্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.