শ্রীনগরে আশার আলো দেখছেন শিম চাষিরা

শিম শীতকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত। পুষ্টিগুনে ভরপুর দেশী জাতের শিমের চাহিদা ব্যাপক। অধীক লাভের আশায় অনেকেই দেশী জাতের আগাম শিম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এরই মধ্যে সু-স্বাদু এসব শিম স্থানীয় বাজারে আসতে শুরু করেছে।

মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমনিই কয়েকটি শিম বাগানের দেখা মিলে। কুকুটিয়া, আটপাড়া, তন্তর, বীরতারাসহ আড়িয়াল বিল সংলগ্ন বিভিন্ন ভিটায় শিমের চাষাবাদ করা হচ্ছে। জমির আনাচে কানাচে সাদা, বেগুনী ও নীল খয়েরী রংয়ের থোকায় থোকায় শিম ফুলের সমাহার। পরিপুষ্ঠ শিমে ঢাকা পড়তে শুরু করছে এসব বাগান। শিমের ভালো ফলনের আশায় বাগান পরিচর্যা করে যাচ্ছেন স্থানীয় কৃষক।

জানা যায়, স্থানীয় হাঁট বাজারে খুচরাভাবে বিষমুক্ত প্রতি কেজি টাটকা দেশী শিম বিক্রি করা হচ্ছে ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। অপরদিকে হাইব্রিড জাতের প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে।

উপজেলার জুরাসার এলাকার বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, শীতকালীন বিভিন্ন শাক-সবজি চাষের পাশাপাশি দেশী জাতের শিম চাষ করছেন তারা। উঁচু জমি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগাম শিম চাষে অধিক লাভবান হওয়া যায়।

উপজেলার বিবন্দী গ্রামের যুবক আরাফাত রহমান শিমুল বলেন, তিনি প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে দেশী জাতের শিম চাষ করেছেন। শিম বাগানের মাঁচা তৈরীর কাজে বাঁশ ও নেট সুতার ব্যবহার করেছেন। বাম্পার ফলনের লক্ষ্যে পোকামাকরের হাত থেকে শিম বাগান সুরক্ষা রাখতে প্রয়োজনীয় কীটনাশক স্প্রে ও নিয়মিত পানি সেচ করছেন। লেবারসহ সর্বমোট ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে তার বাগানের শিম বাজারজাত করা হবে। সপ্তাহে ২ বারে প্রায় দেড় থেকে দুই মণ শিম বিক্রির টার্গেট তার।

তিনি বলেন, ভেজালমুক্ত সবজি চাষে তার বাগানে জৈব সারের ব্যবহার করা হয়। শিমের পাশাপাশি আগাম লাউয়ের চাষও করা হয়েছে। এর আগে আগাম ধুন্দুল ও ঝিঙ্গা চাষেও তিনি সফল হয়েছেন।

শ্রীনগর বাজারের সবজি বিক্রেতা রিয়াদ নামে এক দোকানী জানান, দেশী জাতের শিম এখন পুরোদমে আসা শুরু হয়নি। কয়েক দিনের মধ্যে এই শিম বাজারে আসবে। আর যে পরিমান দেশী শিম বাজারে আসছে চাহিদা থাকায় স্থানীয় কৃষকরা নিজেরাই তা বিক্রি করছেন চড়া দামে। সবজি বিক্রেতারা এখন হাইব্রিড জাতের শিম বিক্রি করছেন।

নিউজজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.