শ্রীনগরে বিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাৎ করে হিসাব রক্ষক উধাও

আরিফ হোসেন: শ্রীনগরের কোলাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের হিসাব রক্ষকের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় গত মঙ্গলবার বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আব্দুল বাতেন বাদী হয়ে হিসাব রক্ষক মো. শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে শ্রীনগর থানায় সাধারণ ডাইরি করেছেন।

জানাগেছে, গত ২০ ডিসেম্বর সোমবার দিব্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিপ্লব কুমার সরকার ও শামীমা ইসলাম বিদ্যালয়ের বাৎসরিক হিসাব অডিট করেন। তারা অডিটে দেখাতে পান বিদ্যালয় ফান্ডের প্রায় ২লক্ষ ৪১হাজার টাকা এবং শিক্ষক ফান্ডের ১৫হাজার টাকার হিসেবে গরমিল রয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রায় ৬০হাজার টাকা কেটে রাখলেও সেটি তাদের ব্যাংকে হিসাব রক্ষক জমা দেননি।

সহকারী শিক্ষক বিপ্লব কুমার সরকার ও শামীমা ইসলাম জানান, আমরা প্রতি ৩ মাস পর পর বিদ্যালয়ের হিসাব অডিট করি। আমরা শেষ অডিট করেছিলাম ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে। তখন পর্যন্ত বিদ্যালয়ের হিসাব ঠিক ছিল। তবে আমরা গত ২০ ডিসেম্বর অডিট করতে গেলে সেখানে শাহাদাৎ হোসেনের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি ধরা পরে। তখন আমরা বিষটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানাই।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল বাতেন বলেন, আমি বিষয়টি জানতে পেরে হিসাব রক্ষক শাহাদাতের কাছে জানতে চাইলে প্রথমে সে মিথ্যার আশ্রয় নেয়। পরে সে সব শিকার করে এবং বিদ্যালয়ে টাকা ৭ দিনের মধ্যে ফিরিয়ে দিবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু সে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে বিদ্যালয়ে অনুপুস্থিত রয়েছে। আমি ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বর তার ফোনে একাধিক বার কল দিলেও তার ফোন বন্ধ পাই। পরে তার চাকুরী কালীন সময়ে দেওয়া ঠিকানা লৌহজং উপজেলার বালিগাও এলাকায় গিয়ে জানতে পারি এটি তার শশুর বাড়ি। সেখান খোজ নিয়ে দেখা যায়, এলাকাতেও অনেক মানুষের থেকে অনেক টাকা ঋণ নিয়ে এবং বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। পরে তার কোন খোজ না পেয়ে আমি শ্রীনগর থানায় একটি জিডি করে এসছি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সুরাইয়া আশরাফী বলেন, বিষয়টি এতো দিন আমাকে কেউ জানায়নি। প্রধান শিক্ষক আজ আমাকে জানাতে এসেছে।

শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের হিসাব না বুঝিয়ে দিয়ে হিসার রক্ষক গর হাজির মর্মে সাধারণ ডাইরি হয়েছে। এবিষয়ে আমরা তদন্ত করছি। সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে টাকা আত্মসাতের বিসয়ে আমরা আবগত নই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.