মুন্সীগঞ্জে ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নিয়ে বিতর্ক

বিবাহিত নেতৃত্ব ও নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে স্থবির মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক-দুইজনেরই বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক, চাঁদাবাজি ও কোন রকম সম্মেলন ছাড়া টাকার বিনিময়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও কলেজ শাখা কমিটি গঠনে বাণিজ্যের অভিযোগ।

জেলা ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদও শেষ হয়েছে কয়েক বছর আগে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে একবার উপজেলা পর্যায়ে একবার কমিটি দেয়ার এখতিয়ার থাকলেও তারা গজারিয়া উপজেলায় দুইবার কমিটি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে গজারিয়া ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ গত ১৬ ডিসেম্বর পুরান বাউশিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ মিছিল ও তাদের ছবিতে জুতাপেটা করে বলেন, টাকার বিনিময়ে রাতের আধারে দেয়া কমিটি বাতিল করতে হবে এবং জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. ফয়সাল মৃধা ও সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহম্মেদ পাভেলকে গজারিয়ায় অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়।

এদিকে, জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ একটি আংশিক কমিটির অনুমোদন দেয়া হয় প্রায় দেড় বছর আগে। টঙ্গিবাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দেয়। এই কমিটির অনুমোদন দেয়ার জন্য দীপু মাঝি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহম্মেদ পাভেলকে অনুরোধ জানালে মোবাইল ফোন কথোপকথে জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক তাকে জানায়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা এলেও আমি পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেবোনা। ফোনালাপের এই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে ভাইরাল হয়।

এদিকে, এক বছরের জন্য ২০১৫ সালের ১৯ শে জুলাই জেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি দেয় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এরপর ২০১৬ সালের ৪ঠা নভেম্বর বাংলাদেশ ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল মৃধার বিরুদ্ধে চুরি, চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ নানা অভিযোগ এবং থানায় কয়েকটি মামলা হয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহম্মেদ পাভেল জানান, তারা নিয়ম মাফিক বিভিন্ন কমিটি গঠন করেছেন।

টঙ্গিবাড়ী উপজেলা ছাত্রলীগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অডিও রেকর্ডের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ তদন্ত কমিটি গঠন করে তা মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। দীপু মাঝির সাথে কমিটি নিয়ে দেড় মিনিট কথা হয়েছে। কিন্তু এডিটিং করে তা ১৭ সেকেন্ড করে ফেসবুকে পোস্ট দেয় এবং তা ভাইরাল হয়।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবরিনা ইতির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে ইউনিট ভিত্তিক মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক মেশকাত হোসেন জানান, মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদোর্ত্তীণ। বিলুপ্ত না করে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করার জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে তার মতামত জানিয়েছেন বলে জানান।

তিনি জানান, অডিও রেকর্ডের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। এডিটিং করে তা পোস্ট করা হয়েছে।

অবজারভার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.