আড়িয়ল বিলে ২ মণ ওজনের মিষ্টি কুমড়া

আকৃতিতে বড় এবং স্বাদে অনন্য হওয়ার কারণে মুন্সিগঞ্জের আড়িয়ল বিলের মিষ্টি কুমড়ার খ্যাতি ও কদর রয়েছে দেশজুড়ে। এবছরও বিলের বিস্তৃর্ণ এলাকায় আবাদ হয়েছে স্থানীয় জাতের মিষ্টি কুমড়া। গতবছর বিলম্বে ফসল উত্তোলনে দাম না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়েন চাষিরা। তবে এবার বেশি ফলন ও আগেভাগেই উত্তোলন করে বাজারজাত করছেন তারা।

এতে চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় উৎপাদন খরচ পুষিয়ে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। যদিও এবার আকৃতি তুলনামূলক কিছুটা ছোট হয়েছে, তবে ভালো ফলন হওয়ায় খুশি কৃষকরা।

শ্রীনগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবছর বিলের গাদিঘাট, আলমপুর, শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালাসহ ১৪৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে স্থানীয় জাতের এসব মিষ্টি কুমড়া। স্থানীয় বাজার ছাড়াও আশপাশের জেলা ও রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজারে এ কুমড়ার রয়েছে বেশ কদর। ফসল উৎপাদন শেষে এখন চলছে কুমড়া উত্তোলন মৌসুম।

বিলের গাদিঘাট এলাকায় গিয়ে জানা যায়, জমি থেকে বৃহৎ আকৃতির কুমড়া বাজারজাতকরণে এখন ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষকদের। ট্রলার-নৌকায় স্থানীয় গাদিঘাট বাজারে ও পরে ট্রাকে করে কুমড়া সরবরাহ করা হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন বাজারে।

এবার একেকটি কুমড়ার ওজন হয়েছে ২০ কেজি থেকে ৭০-৮০কেজি। অর্থাৎ দুই মণ ওজনেরও কুমড়ার ফলন হয়েছে। তবে এ বিলে ১২০ কেজি (৩মণ) ওজনের কুমড়াও হয়ে থাকে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। এবছর আকৃতিতে কিছু ছোট হলেও বেশি ফলন হয়েছে বলে জানান তারা। বর্তমানে প্রতিদিন ২৫-৩০ টন কুমড়া বাজারজাত করছেন কৃষকরা।

কয়েকজন কৃষক জানান, গতবছর কেজি প্রতি ৭-১০ টাকা থাকলেও এবার পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২০-২২ টাকা দরে। এতে উৎপাদন খরচ পুষিয়ে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

গাদিঘাট এলাকার কৃষক মো. বাবু জানান, বর্ষার পানি শুকিয়ে এলে বীজ রোপণ করা হয় কুমড়ার, তিন মাসের মাথায় ফসল উত্তোলন উপযোগী হয়। এবার বেশি ফলন হয়েছে। তবে অন্যবার যেমন ১০০ কেজি ১২০-১৩০ কেজি কুমড়া হয়, এবছর সর্বোচ্চ ৮০ কেজি কুমড়া দেখেছি। ট্রলার নৌকায় করে আমরা গাদিঘাটে কুমড়া আনি, পরে বিকেলে ৫-৬টি পিকআপ-ট্রাকে ঢাকার কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়।

আরেক কৃষক মো. নুরুল হক জানান দুই কানি জমিতে আবাদ করেছি। আমাদের খুব একটা পরিচর্যা করতে হয় না। গন্ডাপ্রতি (৭শতাংশ) জমিতে কুমড়া আবাদ করতে ৫-৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

এক পাইকার জানান, একগাড়ি (পিকআপ) কুমড়া ঢাকার বাজারে নিতে ২৪০০ টাকা ভাড়া খরচ হয়। কৃষকদের কাছ থেকে কেজি প্রতি যে দরে কিনি এ থেকে ৫-৭ টাকা লাভে ঢাকায় বিক্রি করি।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ এ প্রতিবেদককে জানান, আড়িয়ল বিলের কুমড়ার এক বিশেষত্ব রয়েছে। স্থানীয় বীজ অন্য কোথাও রোপণ করা হলেও এতো বড় আকৃতির হয় না। এর কারণ ৬ থেকে ৮ মাস আড়িয়ল বিল পানিতে নিমজ্জিত থাকে। এসময় পানিতে জন্ম নেওয়া জলজ উদ্ভিদ পরবর্তীতে পচে উৎকৃষ্টমানের জৈবসার হিসেবে বিলের মাটিকে উর্বর করে।

সামান্য পরিচর্যা করলেই উর্বর মাটিতে বিশাল কুমড়ার উৎপাদনের এটিই রহস্য। গতবছর বিলম্বে ফসল উত্তোলন আর বাজারে শাক-সবজির প্রাচুর্য থাকায় দাম না পেয়ে কৃষকদের লোকসানের মুখে পড়তে হয়। তবে এবার আগেভাগেই উত্তোলন ও বাজারজাত করা হচ্ছে। আগে উত্তোলনে আকৃতিতে তুলনামূলক কিছুটা ছোট হলেও ভালো ফলন ও দাম ভালো পাচ্ছেন কৃষকরা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শান্তনা রাণী দাস জাগো নিউজকে জানান, গতবছর আড়িয়ল বিলে ১৯০ হেক্টর জমিতে ১১ হাজার ২৪০ মেট্রিক টন মিষ্টি কুমড়ার উৎপাদন হয়েছিলো।

এবার প্রাকৃতিক কারণে ও আগেভাগে উত্তোলনে আকৃতি কিছুটা ছোট হয়েছে। তবে ফলন বেশি ও আগেভাগেই উত্তোলন করে বাজারজাত করায় কৃষকরা ভালো দাম পেয়েছেন। একইভাবে বাজারে চাহিদা থাকাকালীনই বাজারজাত করতে পারায় কৃষকরা লাভবান হবেন।

আরাফাত রায়হান সাকিব/জাগো নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.