সিরাজদিখানে ব্যক্তিগত হাউজিং এর জন্য পোড়াগঙ্গা খালে অপরিকল্পিত ব্রিজ নির্মাণ

নাছির উদ্দিন: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ব্যক্তিগত হাউজিং এর জন্য পোড়াগঙ্গা খালে অপরিকল্পিত ভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে ব্রিজ। জেলা বা উপজেলা প্রশাসনে অনুমতি ব্যাতিকেই করা হচ্ছে হাউজিং আর সেই হাউজিং প্রকল্প করতে সরকারি খাল দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে অপরিকল্পিত ব্রিজ। হুমকিতে আছে খালের প্রবাহ। উপজেলার ইছাপুরড়া ইউনিয়নের তেমুনি বটতলা এলাকায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জমির শ্রেণি পরিবর্তন না করেই ফসলি জমিতে তৈরি করছে অবৈধ হাউজিং আর সেই হাউজিং প্রকল্পের জন্য খাল দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে ব্রিজটি।

স্থানিয়রা জানায়, এই পোড়াগঙ্গা খাল দিয়ে একসময় মানুষ তালতলা-ডহরি থেকে উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নে একমাত্র যাতায়াতের পথছিল। এই খাল দিয়ে ইছাপুরা তার আশে পাশের কয়েকটি ইউনিয়নের লোকজন নিয়মিত তাদের দৈন্যদিন চলাফেরা করত। তখল খালে নৌকা ও বড় রড় ট্রলার চলত। তাছাড়া এইখালে পানি দিয়েই এলাকার কৃষি জমিতে সেচ দেওয়া হত। বর্তমানে খালটির বিভিন্ন অংশ দখল হয়ে গেছে। আর এখন হাউজিং করার জন্য খালে আক্কাস নামে এক ব্যক্তি তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে একটি ব্রিজ তৈরি করছে। এতে করে বর্ষাকালে খালে পানি চলাচল সহ সকল ধরনের নৌ-যান বাধাগ্রস্থ হবে। তবে তারা প্রভাবশলী হওয়ায় কেও কিছু বলার সাহস পায়না। আমরা চাই খালটি যেন অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রক্ষা পায়ে পুনরায় এগের রূপ ফিরে পায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, উপজেলার ইছাপুরা বাজার সংলগ্ন তেমুনি এলাকায় মেসার্স আনিস ট্রেডার্সের পাশেই খালটির উপর তৈরি করা হচ্ছে ব্রিজটি। সেখানে ব্রিজ নির্মাণের কাজ যেন কেউ বুঝতে না পাড়ে তাই সামনে দোকানের সাটার দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে। সেখানে কয়েকজন শ্রমিক নির্মাণ কাজ করছে। এছাড়া খালে নিচের অংশ এমন ভাবে ঢালাই করা হয়েছে যাতে করে সুস্ক মৌসুমে একপাশের পানি অন্য পশে আসতে পাড়বে না।

আক্কাস বলেন, আমরা ৯জন জমিটি কিনেছি সেখানে থাকার জন্য ভড়াট করা হবে। তাই যাতায়াতের জন্য সেতুটি নির্মাণ করছি। ব্রিজ নির্মাণ উপজেলা প্রশাসন থেকে কোন অনুমতি নিয়েছেকিনা জানতে চাইলে তিনি কোন সদউত্তর দিতে পাড়েনি।

উপজেলা প্রকৌশলি মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, ব্রিজটি নির্মাণে আমাদে থেকে কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি। নির্মাণে কোন ধরনের প্লান মানা হয়েছেকিনা তাও আমাদের জানা নেই। অপরিকল্পিত ব্রিজ নির্মাণ ত্রুটি থাকলে যে কোন সময় ভেঙ্গে পরে বড় ধরনের দুর্ঘনাও ঘটতে পারে।

ইছাপুরা ইউপি চেয়াম্যান সুমন মিয়া বলেন, আমাদের না জানিয়েই তারা ব্রিজটি নির্মাণ করছিল। দুপুরে ইউএনও স্যার ফোন দিয়েছিল কাজ বন্ধ করার জন্য। আমি ৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্যসহ এসে কাজ বন্ধ রাখার জন্যে বলেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারিফুল আলম তানভির বলেন, আমি এখনি সেখানে কজ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.