শ্রীনগরে রাস্তার কাজে প্রাইম কোড ছাড়াই কার্পেটিং

জেলার শ্রীনগরে এলজিইডি’র অর্থায়নে প্রাইম কোড ছাড়াই প্রায় কোটি টাকার কার্পেটিং কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সদর ইউনিয়নের শ্রীনগর বাড়ৈখালী জেসি সড়ক হিসেবে পরিচিত ২ হাজার ৩৬০ মিটার রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজও প্রায় শেষের দিকে।

গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির কার্পেটিং কাজে অনিয়মের ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর ইউনিয়নের সবুজ হাঁটি মোড় রাস্তাটি প্রাইম কোড ছাড়াই তরিঘরি করে পিচ ঢালাইয়ের কাজ করা হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা জুয়েল লস্করসহ সচেতন মহল ঠিকাদারের লোকজন ও উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বাকবিতন্ডা করতে দেখা যায়। এ সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঠিকাদারের লোকজন সটকে পড়ার চেষ্টা করেন।

অপরদিকে, রাস্তার তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। তবে এ কাজ চলাকালীন সময়ে ওয়ার্ক এসিস্টেন্ট মো. ইদ্রিস আলীকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে ইদ্রিস আলী বলেন, প্রাইম কোড ছাড়াই রাস্তায় পিচ ঢালাই কাজ ভাল হয়। ঠিকাদারের কাজের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার আল-আমিন ও দিবস’র সঙ্গে এ বিষয়ে জানতে কথা বলার চেষ্টা করলে তারা কোন কথা বলতে রাজি হননি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্রীনগর বাড়ৈখালী জেসি সড়কের (রক্ষণাবেক্ষন) কাজটির টেন্ডার পায় মেসার্স কামাল ট্রের্ডাস নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ১২ ফুট প্রস্থে ২ হাজার ৩৬০ মিটার দৈর্ঘ রাস্তার কাজে চুক্তিমূল্য নির্ধারণ হয় ৮৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৯৩ টাকা। কার্পেটিংয়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ইরানী বিটুমিন ও নিন্মমানের উপকরণ সামগ্রী দিয়ে।

এছাড়া মূল রাস্তার দুই পাশে ৩ ফুট করে শোল্ডার থাকার কথা থাকলেও পুরো সড়ক জুড়ে কোথাও শোল্ডারের পরিমাপ ঠিক নেই। যেনতেনভাবে কাজ করায় বৃষ্টি মৌসুমে সড়কের কের্পেটিং উঠে যাওয়ার পাশাপাশি সড়কের পাড় ভেঙ্গে পড়ার অশঙ্কাও করছে অনেকে।

এলাকাবাসী জানায়, কার্পেটিংয়ের পূর্বে নিয়মানুযায়ী রাস্তার উপর প্রাইম কোড করার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি। আই ওয়াস হিসেবে এজিনের দুপাশে ২ ইঞ্চি পরিমাণ কেরোশিন ও বিটুমিনের প্রলেপ দেয়া হলেও পুরো রাস্তা ফাকা রেখেই কার্পেটিং করা হয়েছে

এলাকার সচেতন মহল জানান, তদারকি কর্মকর্তা অধিকাংশ সময় রাস্তার কাজ থেকে দুরবর্তী স্থানে অবস্থান নেয়ার ফলে ঠিকাদার যেনতেন ভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। নাম প্রকাশে অনুচ্ছিুক একজন প্রকৌশলী বলেন, প্রাইম কোড ছাড়া কার্পেটিং হলে রাস্তার স্থায়ীত্ব কম হয়। এমনকি অনেক সময় কার্পেটিং বলটে উঠে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে।

এ বিষয়ে মেসার্স কামাল ট্রের্ডাসের স্বত্যাধিকারী মাহতাব উদ্দিন খোকনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলামের কাছে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রাইম কোড ছাড়াই কার্পেটিং টেকশই ভাল হয়।

নিউজজি

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.