মারামারি থামাতে গিয়ে গুরুতর আহত ছাত্রলীগ সেক্রেটারী

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে দুই প্রেমিকের মারামারি থামাতে গিয়ে স্থানীয় ছাত্রলীগ সেক্রেটারী ধারালো চাকুর আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের হাসাইল পদ্মা তীরে প্রেমিক ফাহিম মোল্লা গ্রুপ ও সিয়ামের মধ্যে বাকবিকন্ডা বাঁধে। এ সময় সেখানে উপস্থিত হন হাসাইল-বানারী ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় আজগর মেলকারের ছেলে নিশাদ মেলকার।

তিনি উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করতে গেলে ফাহিম গ্রুপের প্রধান উপজেলার ধীপুর ইউনিয়নের রংমেহার গ্রামের নিলয় তার উপর চটে যায়। আর সেখানেই নিশাদের বুকে, পেটে পরপর একাধিক কোপ মারলে তা নিশাদের পেট কেটে নাড়ি ভুড়ি বের হয়ে যায়। আর নিলয়ের সহযোগী আমতলী গ্রামের সোহাগের হাতে রক্তাক্ত কাটা জখম হয়।

গুরুতর আহত নিশাদকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ শহীদুল ইসলাম জানান, গুরুতর আহত হওয়া নিশাতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান, ফাহিম মানহা জিসানা নামক মেয়েকে নিয়ে সন্ধ্যায় পদ্মা পাড়ে ঘুরতে আসে। আর সেখানেই উপস্থিত হন জিসানার প্রেমিক সিয়াম। উপস্থিত সিয়ম ঘটনাস্থলেই জিসানাকে থাপ্পর মারলে ফাহিম ও সিয়ামের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। পরবর্তীতে সেখানে উপস্থিত নিলয় গ্রুপ ফাহিমের পক্ষ নিয়ে মারামারিতে যোগ দেয়।

ঘটনার পর নিলয় দ্রুত পালিয়ে যায় আর সোহাগ গুরুতর জখম নিয়ে বালিগাঁও ক্লিনিকে চিকিৎসা নেয়ার সময় পুলিশ কর্তৃক ধৃত হন। আর স্থানীয়রা ফাহিম মোল্লা ও মাহিম মোল্লাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। সিয়াম উপজেলার পাঁচগাও ইউনিয়নের খলাগাঁও গ্রামের আবু তালেব শেখের ছেলে। সিয়াম ও ফাহিম ধীপুর ইউনিয়নের নগরকান্দি গ্রামের একটি মেয়েকে ভালোবাসে।

স্থানীয়রা জানান, ফাহিম মোল্লা উপজেলার ধীপুর ইউনিয়নের মৃত মনির মোল্লা ছেলে। ইতি পূর্বে ফাহিম মোল্লা গনাইসারের একটি মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে শারীরিক সম্পর্ক করে মেয়ের নিকট থেকে কৌশলে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নেয়।পরবর্তীতে মেয়েটি মামলা দায়ের করেন এর কিছু দিন পরই ফাহিম ঢাকা আন্তজার্তিক বিমানবন্ধর থেকে স্বর্ণ চোরাচালানের সময় বিপুল পরিমান অবৈধ স্বর্ণসহ গ্রেফতার হন। উঠতি বয়সি উশৃঙ্খল ফাহিম মোল্লা তার গ্রুপের ক্ষমতা দেখানোর জন্য নানান অপকর্ম করে থাকে।
নিশাদের বাবা আজগর মেলকার ঢাকা মেডিকেল থেকে জানান, তার ছেলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

টঙ্গীবাড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ মোল্লা সোহেব আলী জানান, হাসাইলে মারামারি ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনি। ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক করা হয়েছে। শনিবার তাদের আদালতে ফরওয়ার্ড করা হবে।

যুগান্তর

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.