দূতাবাস এবং প্রবাসীদের মধ্যকার দূরত্ব তৈরির পিছনের কলকাঠি নাড়ছেন কারা ?

রাহমান মনি: দূতাবাস হলো প্রবাসীদের জন্য প্রবাসে নিজ দেশ । আর দেশ মাতৃকা হলো নিজ মায়ের মতোই। মায়ের কাছে যাবার, তার সান্নিধ্য পাবার অধিকার যেমন প্রতিটি শিশুরই রয়েছে, তেমনি দূতাবাসে পদচারণার অধিকার সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে।

বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সেদেশে বসবাসরত প্রবাসীদের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত ?

এ বিষয়ে নানান মুনীর নানান মত। প্রচলিত মিথ এর সংখ্যাও কম নয় । প্রচলিত মিথ গুলির মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি হচ্ছে, দূতাবাস এবং প্রবাসীদের মধ্যকার সম্পর্ক হচ্ছে “আমলা আর কামলার” মতো ।

আমলারা (দূতাবাস) মনে করে কামলাদের (প্রবাসীদের) কাজ করার জন্য সরকার আমাদের নিয়োগ দেননি । এরা এসেছে কামলা হিসেবে অর্থাৎ কাজ করার জন্য । কাজ করবে আর দেশে টাকা পাঠাবে । পাসপোর্ট এবং বিভিন্ন সনদ সংক্রান্ত কাজগুলি করে দেয়াই যথেষ্ট । এর বেশী আর কি-ই বা করার আছে ?

অপরদিকে কামলারা মনে করে দূতাবাস যেহেতু আমাদের প্রতিনিধি এবং আমাদের কষ্টার্জিত অর্থে পরিচালিত হয় তাই, দূতাবাস আমাদের ভালো মন্দ দেখবে , বিপদ আপদে পার্শ্বে থাকবে । কিন্তু তারা সেটা করে না। অভিযোগের শেষ নেই ।

জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত জনাব সাহাবুদ্দিন আহমেদ অতি সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় দেশে রিজার্ভ বাড়ানোয় অবদান রাখার জন্য বৈধ উপায়ে অর্থ প্রেরণ করার জন্য জাপান প্রবাসী সকল বাংলাদেশীদের কাছে অনুরোধ জানান যা দূতাবাস-এর নিজস্ব ফেসবুক আইডি এবং ইউটিউব এর মাধ্যমে প্রচার করা হয়।

ইউটিউব -এ এর তেমন কোন প্রতিক্রিয়া দেখা না গেলেও ফেসবুক-এ পক্ষে/বিপক্ষে বেশ কিছু মন্তব্য দেখা যায় । তার মধ্য থেকে কিছু কিছু মন্তব্য আবার মুছে ফেলে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ । তার মধ্যে এই প্রতিবেদক এর একটি মন্তব্যও তিন তিনবার মুছে ফেলা হয়। মন্তব্যটি ছিল “ দূতাবাস এর বিভিন্ন আয়োজনে একটি নির্দিষ্ট দলের কতিপয় কয়েকজনকে ডাকবেন । আর , আহ্বান জানাবেন সবার প্রতি । প্রবাসীদের এতোটা বোকা ভাবাটা কি ঠিক মনে হয় ? দূতাবাস আগে সব বাংলাদেশীদের দূতাবাস-এর পরিবেশ সৃষ্টি করুন । তারপর মনিটর দেখে দেখে সবার উদ্দেশ্যে বক্তব্য পাঠ করুন , অন্তত—– শুনতে হবে না” ।

তিনবার মুছে ফেলার পর যোগবিয়োগ করে ৪র্থ বারের মন্তব্যটির প্রতি সহৃদয়তা বশত এখনো শোভা পাচ্ছে ।

কথা হ’লো, একজন রাষ্ট্রদূত যখন তার দেশের জনগনের প্রতি জনস্বার্থে একটি অনুরোধ জানাবেন তখন যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী সবাই ঝাঁপিয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। অতীতে হয়েছেও তাই ।

দূতাবাসের প্রয়োজনে সব সময় প্রবাসীরাই সাড়া দিয়ে থাকেন । ১১ মার্চ ২০১১ ভূমিকম্প, সুনামি এবং পরবর্তী বিপর্যয়ের পর দুর্গত এলাকা থেকে অর্ধশোত প্রবাসীদের উদ্ধারকার্যে কিন্তু প্রবাসীরাই এগিয়ে এসেছিলেন দূতাবাসের আহবানে। তারা পরিবহন খরচসহ পরবর্তী সহযোগিতা করেছিলেন। বাংলাদেশের জাতীয় দিবসগুলোতে জাপানের বিভিন্ন পত্রিকায় ঢাউস আকারে যে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়ে থাকে তার খরচের যোগানটা কিন্তু প্রবাসী ব্যবসায়ীরা দিয়ে থাকেন। এছাড়াও দূতাবাসের অনেক আয়োজনেই প্রবাসী ব্যবসায়ী, প্রবাসী চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মীদের ডাক পড়ে। তাদের কাছেই ধরনা দিতে হয়। প্রবাসীরা ছাড়া দূতাবাস এইসব ক্ষেত্রে অচল প্রায়।

প্রবাসীরাও সব সময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে থাকেন । বিনিময়ে প্রবাসীরা দূতাবাসের কাছে আহামরি কিছু দাবী বা আশা করেন না । অপ্রয়োজনে দূতাবাসে কেহ ভিড় জমান না । পাসপোর্ট , বিভিন্ন সনদ সংক্রান্ত বিষয় ছাড়া কেহ দূতাবাসে যাননা প্রবাসীরা । সেখানে তাদের লাল গালিচা সংবর্ধনা কিংবা আপ্যায়ন করানো হবে এমনটিও আশা করেন না। আশা করেন তাদের কাজটুকু করে দিবেন যথাযথ নিয়ম মেনে, সেবা সুলভ ব্যবহারের মনোভাব নিয়ে ।

আমার জানা মতে কোন প্রবাসী-ই অর্থ সহযোগিতা , চাকুরীর খুঁজে দেয়া কিংবা বাসস্থান সুবিধা পাওয়ার জন্য দূতাবাসে ধর্না দেননা ।

এছাড়াও , দূতাবাসে খেজুরে আলাপ করার জন্য কেহ ফোন করেন না । ফোন করেন জরুরী প্রয়োজনে , তথ্য জানার জন্য । কিন্তু দূতাবাসে একাধিকবার ফোন করেও কোন সাড়া পাওয়া যায়না। মনে হয়না দূতাবাসে ফোন বলতে কিছু একটা আছে ! অথচ জনগণের অর্থে দূতাবাসের অভ্যর্থনা টেবিলে একজনকে নিয়োগ দেয়া আছে যার দায়িত্বের অন্যতম একটি হচ্ছে ফোন রিসিভ করা এবং অনুসন্ধান মোতাবেক তথ্য সরবরাহ করা। এই নিয়ে প্রবাসীদের অভিযোগের অন্ত নেই । অথচ এই খাতে প্রতি মাসে মাসিক ভাতাও খরচের খাতায় স্থান পায় ।

রাষ্ট্রদূত যখন অনুরোধ জানান তখন প্রবাসীদের মনে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভগুলো চাড়া দিয়ে উঠে । কিন্তু এমনটি তো হওয়া উচিত নয় । কেন এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটলো এর জন্য দায়ী কে বা কারা ? দূতাবাসে, সাধারন প্রবাসীরা, নাকি বিশেষ কারোর অযাচিত হস্তক্ষেপ ?

দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে দূতাবাস এবং প্রবাসীদের মধ্যকার দূরত্ব তৈরি করার জন্য দায়ী কিছু সংখ্যক রাজনীতিবিদ। অপ্রিয় হলেও সত্যি তথাকথিত এই সমস্ত রাজনীতিবিদরা নিজেদের হীন চরিতার্থ, স্বার্থ উদ্ধার করার জন্য নিজেদের অপছন্দের লোকদের নামে দূতাবাসে বিষোদগার করে থাকে। আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হলে তো কথাই নেই । অতীতেও হয়েছে , এখনও হচ্ছে , হয়তো আগামীতেও হবে । তবে বর্তমানে, বিশেষ করে ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ৩য় বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর সর্বকালের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে চলেছে । তাদের বিশেষ সুবিধা হচ্ছে , অপছন্দের লোক হলেই তাকে বিএনপি-জামাত তকমা লাগিয়ে দেয়া যায়।

কথিত আছে , বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কয়েকজন নেতা প্রবাসীদের ব্যপারে দূতাবাসের নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন । এদের অন্যতম একজন হচ্ছেন একটি গ্রুপের সাধারন নামের অসাধারণ সম্পাদক বনে যাওয়া একজন । তিনি কেবল তার পছন্দের লোকদেরই দূতাবাসের তালিকায় সংযোজন কিংবা বিয়োজন করিয়ে থাকেন । যার ফলশ্রুতিতে কোন আয়োজন শেষ হলে তার নাম উল্লেখ করে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে দেখা যায় । জাতীয় দিবসে দূতাবাসের আয়োজনে অংশ গ্রহনের সুযোগ পাওয়ায় ওই বিশেষ লোকটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোয় কি বুঝাতে চেয়েছেন তা বুঝতে পণ্ডিত হওয়ার প্রয়োজন আছে কি ?

২০০৮ সালের ২৯ডিসেম্বর ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ জয়লাভ করার সংবাদে ১ জানুয়ারি ২০০৯ সালে ( যদিও ৬ জানুয়ারি শপথ নেয়া হয় ) দূতাবাসে তৎকালীন রাষ্ট্রদূত আশরাফ উদ দৌলা প্রবাসীদের দূতাবাসে এক চা চক্রের আমন্ত্রণ জানান ।

চা চক্রে অনেকেই উপস্থিত ছিলেন । ছিলাম আমিও । যে যার মতো করে আসন গ্রহন করেন । হঠাৎ স্থানীয় আওয়ামীলীগ এর কিছু লোক ( যাদের মধ্যে মাছুম , রনি এবং মোল্লা ওয়াহিদ ছিল অন্যতম ) দূতাবাসে প্রবেশ করেই সামনের ২ সারির আসন থেকে সবাইকে উঠে যেতে বলেন । তাদের ভাষায় “অনেকদিন পর দল ক্ষমতায় এসেছে , তাই এখানে দলের নেতাকর্মীরা বসবে” । সাথে সাথে আসনগ্রহণ করা সবাই উঠে যান । পেছনের সারিতে গিয়ে আসন নেন । যাদের মধ্যে সর্বজন শ্রদ্ধেয় দুইজন মুরব্বিও ছিলেন । যাদের একজন এখন আবার নৌকার উপর ভরসা রেখে দলীয় কর্মকাণ্ডে অংশও নিয়ে থাকেন ।

এরপর থেকেই দূতাবাস বদলাতে শুরু করে । ২০১৪ সালে ক্ষমতায় নেয়ার পর দুতাবাসকে তারা দলীয় কার্যালয় মনে করে বিরুধীমত তো বটেই নিজেদের অপছন্দের সবাইকে অলিখিত নিষিদ্ধের তালিকায় যোগ করান । যার ফলশ্রুতিতে দূতাবাসের বিশেষ বিশেষ আয়োজনে একটি নির্দিষ্ট দলের কতিপয় কয়েকজন লোক ছাড়া অন্য কারোর প্রবেশাধিকার থাকে না ।

প্রবাসীরা মনে করেন নিয়মকানুন এবং স্থান সংকুলান ইত্যাদি বিষয়ে চিন্তা করলে দূতাবাসে সবাইকে ঢালাওভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া সম্ভব না হলেও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ এবং প্রবাসী সমাজে সবসময় যাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং অবদান রাখেন তাদেরকে অন্তত দূতাবাসের বিশেষ বিশেষ আয়োজনে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া উচিত ।

কথিত আছে , বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কয়েকজন নেতা প্রবাসীদের ব্যপারে দূতাবাসের নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন । এদের অন্যতম একজন হচ্ছেন একটি গ্রুপের সাধারন নামের অসাধারণ সম্পাদক বনে যাওয়া একজন । তিনি কেবল তার পছন্দের লোকদেরই দূতাবাসের তালিকায় সংযোজন কিংবা বিয়োজন করিয়ে থাকেন । যার ফলশ্রুতিতে কোন আয়োজন শেষ হলে তার নাম উল্লেখ করে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে দেখা যায় । জাতীয় দিবসে দূতাবাসের আয়োজনে অংশ গ্রহনের সুযোগ পাওয়ায় ওই বিশেষ লোকটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোয় কি বুঝাতে চেয়েছেন তা বুঝতে পণ্ডিত হওয়ার প্রয়োজন আছে কি ?

আমাদের দেশের নীতিনির্ধারকরা সব সময় বলে থাকেন বিদেশে প্রতিটি নাগরিকই এক একজন অ্যাম্বাসেডর । আসলেও তো তাই-ই । কারণ, প্রবাসে একজন নাগরিকের ভালো কাজে যেমন তার দেশের নামটি জড়িয়ে যায়, সুনাম বয়ে আনে তেমনি তার মন্দ কাজেও নিজ দেশের নামটি চলে আসে। দুর্নাম বয়ে আনে।

জাপানে বর্তমানে প্রায় সাড়ে সতের হাজারের মতো বাংলাদেশী (Bangladeshis in Japan (Japanese: 在日バングラデシュ人) form one of the smaller populations of foreigners in Japan. As of in June 2021, Japan’s Ministry of Justice recorded 17,394 Bangladeshi nationals among the total population of registered foreigners in Japan.) প্রবাসী রয়েছেন। তার মধ্যে প্রায় ১৬০০ মতো রয়েছেন শিক্ষার্থী (ছাত্র, উচ্চ শিক্ষা কিংবা প্রশিক্ষণরত)। এদের সবাই নিজ উদ্যোগেই জাপান এসেছেন। নিজ চেষ্টায় অনেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। বিশেষ করে ব্যবসা ক্ষেত্রে। আগে যে যে ব্যবসাগুলো পাকিস্তানি বা ভিন্ন কোনো দেশের নাগরিকরা লিড দিত সেই ব্যবসাগুলো এখন বাংলাদেশিদের কব্জায়। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসী এবং জাপানিরাও কর্মরত। প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা এসব কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। প্রবাসীরা বাংলাদেশে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন। বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা তা স্বীকারও করছেন। তবে, শুধু তা মুখে মুখে। কাজের বেলায় নিজের দিকটাই দেখছেন।

অথচ এই দূতাবাসে দেখেছি ক্ষমতায় থাকাকালীন বিএনপি’র তৎকালীন সভাপতি খান মনি সব সময় লাল ভাই , আরিফ ভাইদের আগে বলার জন্য অনুরোধ জানাতেন । নিজেই মাইক ছেড়ে দিতেন । এইটা ছিল তার রাজনৈতিক বিচক্ষণতা।

বর্তমানে কি তা সম্ভব ? সম্ভব যে নয়, তা একবাক্যে সবাই একমত হবেন । কিন্তু কেন এমনটি হবে । রাজনৈতিক শিষ্টাচার বলতে একটা কথা আছে । রয়েছে পরমতসহিষ্ণুতা বলতে আরও একটা কথা ।

হ্যা , সেই কথার উপর শ্রদ্ধা রেখে সুস্থ্যধারার রাজনীতিবিদ এখনো যে নেই তা কিন্তু নয় । এই সময়েও দু’চারজন রাজনীতি চর্চাকারী এখনও রয়েছে বলেই জনগণ এখনো রাজনীতি থেকে একেবারে মুখ ফিরিয়ে নেননি । ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যেও জোনাকির আলোকচ্ছটার আশার আলো দেখতে পান ।

তেমনি একজন রাজনীতিবিদ হচ্ছেন স্বাচিপ নেতা আবদুল্লাহ আল মাসুদ খান যিনি জাপানে ডাক্তার টুটুল হিসেবে সমধিক পরিচিত । আপাদমস্তক বঙ্গবন্ধু প্রেমী এই রাজনীতিবিদ দূতাবাসে একাধিকবার তার বক্তব্যে দূতাবাস সকলের জন্য উন্মুক্ত রাখার , কথা বলার , অংশগ্রহন করার সুযোগ দেয়ার আহবান জানান ।

আশা করি ডাঃ টুটুল শুধু দূতাবাসেই ফ্লোর নিয়ে আহ্বান জানিয়ে বসে থাকবেন না, তিনি তার দলের মধ্যেও এই ধারা চর্চা করে যাবেন এবং বুঝাতে সক্ষম হবেন ।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর ৭৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী এবং ‘পদ্মা সেতু’ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে অভিনন্দন এবং শুভেচ্ছা “আলোচনা সভা”র একটি পোষ্টার ফেসবুক-এ শোভা পেয়েছে । পোষ্টারটিতে (মধ্যাহ্ন ভোজের ব্যবাস্থা রয়েছে) উল্লেখ করে ‘স্বাধীনতার স্বপক্ষের সকলেই আমন্ত্রিত’ বাক্যটি জুড়ে দেয়া হয় । দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী, জাতীয় শোক দিবস, ইফতার মাহফিল আয়োজন সহ অনেক আয়োজনেরই পোষ্টারই আমার নজরে পড়েছে , যার কিছু কিছু পোষ্টার আমার সংশ্লিষ্টতায় করা হয়েছিল । কিন্তু কোথাও ‘স্বাধীনতার স্বপক্ষের সকলেই আমন্ত্রিত’ বাক্যটি জুড়ে দেয়া আমার দৃষ্টিগোচরে পড়েনি । হঠাত করে কেন এই বাক্যটি জুড়ে দেয়ার প্রয়োজন পড়লো ?

এছাড়াও পোস্টারটিতে সবার উপরে ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ তার একটু নিচে ‘সৃষ্টিকর্তা মহান’ এবং অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়াই প্রতীয়মান ‘জয় বাংলা’ স্থান পেয়েছে । জাপান আওয়ামীলীগ-এর এযাবত কালের পোস্টারগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায় জয় বাংলা এবং জয় বঙ্গবন্ধু একই সমান্তরালে থেকেছে । দু’একটিতে সৃষ্টিকর্তা মহান সবার উপরেই স্থান পেয়েছে । কেন এই পরিবর্তন ? সৃষ্টিকর্তার উপরে বঙ্গবন্ধুকে স্থান দিয়ে কি বার্তা দেয়া হয়েছে ? এইটা কি দলে হাইব্রিড নেতাদের প্রভাব ? দলের ভিতর নিজেদের অবস্থান পোক্ত করার জন্য অনুপ্রবেশকারী তথাকথিত এইসব হাইব্রিড নেতারা বঙ্গবন্ধুকে আর কতোটা নিচে নামাবেন ?

একজন আওয়ামীলীগ নেতা খুব আক্ষেপের সুরেই বললেন ভাই , এদের জন্য এখন আর আগের মতো সক্রিয় হতে সাধ হয় না। কিছু নেতা আছেন যারা নিজেদের দল ভারী করতেই ওইসব হাইব্রিডদের সরাসরি পদবী দিয়ে দলে অনুপ্রবেশ ঘটান । অথচ আওয়ামীলীগে একটি পদ পেতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয় । নিজের যোগ্যতার পরীক্ষা দিতে হয় । তবেই না পদবী । আর এখন কি দেখছি ! এটা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি নয় । দলকে ভালবাসি , জাতীর জনক এবং তার তনয়াকে ভালবাসি, জয় বাংলা বুকে লালন করি । তাই , দলের বাহিরে যাইতেও পারি না । এদিকে সহ্যও হয় না। আমরা আসলেই বিব্রত ।

সব শেষে বলতে চাই , ক্ষমতা কারোর-ই চিরদিন থাকে না। আজ যারা অন্যকে বাধা দিচ্ছেন একদিন তিনিই হয়তো বাধাপ্রাপ্ত হবেন ।

দূতাবাসকে বলার কিছুই নেই । মেরুদণ্ডহীন এই সব কর্মকর্তারা নিজ মেধায় নিয়োগ পান না বলে নিজেরাই নিজেদের বিকিয়ে দেন । তারা কোন প্রকার ফিল্ড ওয়ার্ক এর ধার ধারেন না , প্রবাসীদের দূতাবাস হিসেবে নিজেদের মনে করতে পারেন না। তাই , তারা দূতাবাস লীগ হিসেবেই কাজ করে থাকেন । ভবিষ্যতে হয়তো দূতাবাস দল বা অন্য কিছু ।।

প্রবাসী সংবাদকর্মী
rahmanmoni@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.