শ্রীনগরে অসহায় পরিবারের জায়গা দখলের পাঁয়তারা

উপজেলার রাঢ়িখাল ইউনিয়নের উত্তর বালাশুর সিকদার বাড়ি মোড়ে একটি অসহায় পরিবারের জায়গা দখলের পায়ঁতারা করা হচ্ছে। ওই গ্রামের মৃত রহমান ঢালীর পুত্র কুদ্দুস ঢালী ও ইদ্রিস আলীগংদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান ফকিরের স্ত্রী আরজু বান থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

জানা গেছে, রাঢ়িখাল মৌজার আরএস খতিয়ান ১০০৯ ও আরএস ২৩ দাগে ভিটাবাড়ি মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৪৪.৭০ শতাংশ। এ সম্পত্তি গত ১৯৯৩ সালে ক্রয়সূত্রে মালিক হাবিবুর রহমান।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, নতুন বাজার এলাকার ১নং ওয়ার্ডের উত্তর বালাশুর সিকদার বাড়ি মোড় পাকা রাস্তার পশ্চিম পাশে জায়গাটি ভরাটের জন্য বালু ফেলা হয়েছে। রাতের আঁধারে মাটি ভরাট করতে গেলে বাঁধা প্রদান করলে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে দখলকারীরা।

ওই গ্রামের সালাম শেখ (৬০), কুদ্দুস কাড়াল (৫২), রুবেল (৪০), শহিদুল (৪২), মোখলেছ মোড়ল (৬৫) সহ অনেকেই বলেন, হাবিবুর রহমান গত ৪০ বছর যাবত এ জায়গা ভোগদখল করে আসছে। হঠাৎ গত কয়েকদিন আগে রাতের আঁধারে কুদ্দুস ঢালীগং মাটি ভরাট শুরু করে। এতে বাঁধা প্রদান করা হলে কুদ্দুস ঢালী ও তার লোকজনরা হুমকি ধমকি দেয়। এর আগে প্রায় ২৫দিন আগে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা জায়গাটির পরিমাপ করে। সাড়ে ৫ শতাংশ জমি কম দিয়ে হাবিবুর রহমানকে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হলে পরিবারটি মেনে নেয়। সমাধান না করেই সালিশগণ ওই দিন চলে যায়। এতে প্রভাবশালী কুদ্দুস ঢালী আরো সুযোগ পায়।

অপরদিকে হাবিবুর রহমানের পরিবারটি অসহায় হয়ে পরে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সুলতান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, হাবিবুর রহমান গত ৪০ বছর ধরে নামজারীকৃত সম্পত্তির সরকারকে খাজনা পরিশোধ করে জমির ভোগদখল করছেন। কুদ্দুস গং মৌখিক দাবী করছে ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করছেন।

কুদ্দুস ঢালীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই জায়গার দলিল আমার কাছে আছে। তারা যেহেতু বিল্ডিং তুলছে তাই আমিও জায়গা ভরাট করছি। রাঢ়িখাল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক খান বারী জানান, উভয় পক্ষের মালিক ও আইনজীবি নিয়ে থানায় বসে সিদ্ধান্ত হয় উক্ত সম্পত্তিতে জায়গা কম থাকায় সবাই হারে হারে জায়গা কম নেবে। কিন্তু মাপের সময় হাবিবুর রহমান তার অংশের সম্পূর্ণ জায়গা দাবী করায় সমাধান হয়নি।

শ্রীনগর থানার এসআই ও অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মিরাজুল ইসলাম জানান, কুদ্দুস ঢালীকে মাটি ভরাট করতে নিষেধ করেছি। আদালতের রায় মোতাবেক কাজ করার জন্য বলা হয়েছে।

নিউজজি

Leave a Reply

Your email address will not be published.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.