শ্রীনগরে মহিলা মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ

শ্রীনগর উপজেলার হাঁসাড়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে জামিয়া ইসলামিয়া হাঁসাড়া মাহমুদা খাতুন মহিলা মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পাঠদানের পরির্বতে ছাত্রীদেরকে দিয়ে করানো হচ্ছে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, ধোয়া-মোছা ও বাবুর্চির কাজ। বাধ্য হয়েই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে এ ধরনের কাজ করতে হচ্ছে তাদের। এসব কাজ করতে গিয়ে কোমলমতি ছাত্রীরা মাঝে মধ্যেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর রান্না করা গরম ডালে নুসরাত নামে এক ছাত্রীর পা পুড়ে যায়। ঘটনাটি ঘামাচাপা দিতে ছাত্রীর পরিবারকে প্রথমে না জানিয়ে মাদ্রাসায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে ছাত্রী গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ওই ছাত্রী এক শিক্ষকের কাছে অনুরোধ করে তার পরিবারকে খবর দিতে। বিষয়টি জানাজানি হলে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাটির অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বেড়িয়ে আসতে থাকে নানা অনিয়মের অভিযোগ।

জানা যায়, আবাসিক মহিলা মাদ্রাসাটির মোট ছাত্রী সংখ্যা ২৫০ জন। ৩ তলা বিশিষ্ট ছোট্র ভবনেই চলছে শিক্ষার যাবতীয় কার্যক্রম। ছাত্রী ও শিক্ষকদের থাকা খাওয়া ও শোবারসহ সর্বমোট ১২টি কক্ষ রয়েছে মাদ্রাসাটিতে। বিশেষ করে রাতে গাদাগাদি করে ২টি কক্ষে সব ছাত্রীদের ঘুমাতে হচ্ছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো কর্মী নেই এখানে। আবাসিক ২৫০ জন ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ প্রায় ৩ শতাধিক মানুষের খাবার রান্নার জন্য আছে মাত্র ১ জন বাবুর্চি। এতে রান্নাবান্নার যাবতীয় কাজকর্ম ছাত্রীদের দিয়ে করাচ্ছে মাদ্রাসার মুহতামিম।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাঁসাড়া ৫নং ওয়ার্ডের কাঠের পুল সংলগ্ন অবস্থিত মহিলা মাদ্রাসাটির নামে নেই কোনো সাইনবোর্ড। দেখে মনে হবে এটি একটি বসতবাড়ি।

মুহতামিম আলহাজ মাওলানা ইউনুছ কাসেমীর কাছে মাদ্রাসার অব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রথমেই তিনি স্বীকার করে বলেন, একজন বাবুর্চি দিয়ে সকল কাজ করা সম্ভব না। তাই ছাত্রীদের দিয়ে কাজ করাতে হয়। মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি পদত্যাগ করায় তিনি এখন সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষক সংখ্যা সঠিক করে জানাতে না পারলেও ক্যালকুলেটর টিপে বলেন ১৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন।

বাবুর্চিও কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার স্বীকার ওই ছাত্রীর বিষয়ে তিনি বলেন, আমি মনে করেছি ফার্মেসী থেকে ওষুধপাতি এনে দিলে সুস্থ্য হয়ে যাবে। এজন্য ডাক্তারের কাছে নেই নাই।

ভুক্তভোগী ছাত্রী নুসরাত জানায়, পা পুড়ার পরে আমি যন্ত্রনা সহ্য করতে পারছিলাম না। পরের দিন এক ম্যাডামের মাধ্যমে বাড়িতে ফোন করে বাবা-মাকে বলি। তারা এসে আমাকে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. সোলায়মান খাঁন জানান, আহত ছাত্রীর যাবতীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা আমি করবো। এতটুকু জায়গায় আবাসিক ২৫০ জন ছাত্রী রাখার বিষয়ে আমরা জানি না। এটা অমানবিক। মহিলা মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ সঠিক করে কখনই জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমাকে জানায়নি। মাদ্রাসার অব্যবস্থাপনার বিষয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্টজনদের অবহিত করবো।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বেফাক বোর্ডের অন্তভুক্ত মাদ্রাসায় প্রথম শ্রেণি (আউয়াল) থেকে ডিগ্রী সমমান (দাওরায়ে হাদিস) পর্যন্ত ছাত্রীদের পাঠদান করানো হচ্ছে। মাদ্রসার বর্তমান মুহতামিম ইউনুছ কাসেমী তার স্ত্রীর নামে মহিলা মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত করেন। ইসলামিক পাঠদানের নামে এটিকে এখন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে একজন ছাত্রীকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ফি দিতে হচ্ছে। এর আগে ইট পড়ে মাদ্রাসার এক ছাত্রীর মাথা ফাঁটার ঘটনা ঘটে। এছাড়া মুহতামিম ইউনুছ কাসেমীর শেলক হাঁসাড়া ইউনিয়নের লস্করপুরে আজেজিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা নামে একটি মাদ্রাসা পরিচালনা করছে। গেলো বছর ২১ মার্চ ষোলঘরের কেয়টখালী এলাকা থেকে লস্করপুরের ওই মাদ্রাসার জাকির হোসেন নামে এক ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে শ্রীনগর থানা পুলিশ।

সচেতন মহল মনে করছেন, ইউনুছ কাসেমী দম্পতি ও তার শেলকরা মাদ্রাসার নামে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে।

নিউজজি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.